বিএনপির উপজেলা নেতাকে হুমকি; কেন্দ্রীয় নেতা মামুন মোল্লার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫ । ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

বরগুনা প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন বরগুনার তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক মো. ছগির হাওলাদার। খোদ দলের এক কেন্দ্রীয় নেতাতার হুমকি স্বীকার হয়েছেন তিনি। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর ২টায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ছগির হাওলাদার বলেন, ২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল কেন্দ্র ঘোষিত বিএনপির ইফতার মাহফিল চলাকালে তালতলীর মালিপাড়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। তারা মঞ্চ ভাঙচুর ও মালামাল পুড়িয়ে দেয়। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার পর বিএনপির মামলা না নিয়ে বরং উল্টো তাকে ১ নম্বর আসামি করে আওয়ামী লীগের নেতারা মামলা করেন।

ছগির বলেন, চলতি বছরের ৩০ জুলাই আমতলী কোর্টে আওয়ামী লীগের ওই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করলে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মামুন মোল্লা ক্ষিপ্ত হন। মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে দায়িত্ব দিলে ডিবি পুলিশ বরগুনা যেতে বলে। বরগুনা গেলে শহরের পাকা ব্রিজ এলাকায় মামুন মোল্লা দলবলসহ তার পথরোধ করে গালিগালাজ করেন এবং ‘হাত-পা ভেঙে দিবে’ বলে হুমকি দেন। এমনকি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয় বলে অভিযোগ তার।

সংবাদ সম্মেলনে ছগির আরও অভিযোগ করেন, বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপি নেতা মোস্তাকের সঙ্গে যোগসাজশে মামুন মোল্লা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও প্রজেক্টের সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছেন। ইটভাটা থেকে ইটপ্রতি ১ টাকা হারে চাঁদা, মৎস্য অধিদপ্তর এবং তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পে কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এছাড়া ভাইজোড়া ব্রিজঘাট এলাকা থেকে সরকারি মালামাল লুটের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

ছগির হাওলাদার বলেন, এসব অনিয়ম ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে বরগুনার বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চরমভাবে ভেঙে পরছে।

নিজ দলের নেতার হাতেই নির্যাতনের শিকার হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি। তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানান, এই বিষয়ে দলীয় গোয়েন্দা দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হোক। 

এ বিষয়ে বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, যেদিন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমাদের ওপর হামলা চালায়, সেদিন ছগির ঘটনাস্থলে ছিল না। আমি নিজে আহত হই, আহত হন বরগুনা জেলা ও তালতলী উপজেলা বিএনপির অনেক নেতাকর্মী।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে না থেকেও ছগির ফ্যাসিস্ট  আওয়ামী লীগ এর মামলা দিয়েছে ভালো কথা কিন্তু  বিএনপি সহ নিরীহ অনেক মানুষদের নাম জড়িয়েছে, যার পেছনে রয়েছে তার মামলাবাণিজ্যে ও জমি দখলের  উদ্দেশ্য। অথচ প্রকৃত হামলাকারীদের অনেকেই মামলায় আসামি হয়নি। এখন সে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে আমাকে এবং দলকে বিভ্রান্ত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগের বিষয় কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. মামুন মোল্লা’র কাছে জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৮/১, এভিনিউ ১, ব্লক - সি, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২১৭। মোবাইলঃ +৮৮-০১৩১৪-০০৮০৭৭

প্রিন্ট করুন