বানারীপাড়ায় ভাসমান বীজতলায় চারা উৎপাদনে স্বাবলম্বী কৃষকরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ । ১১:০৪ অপরাহ্ণ

হুমায়ুন কবির:

দিগন্তজোড়া জলাভূমি আর সবুজের সমারোহ—বরিশালের বানারীপাড়ার কৃষকরা আবারও প্রমাণ করছেন তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা। বর্ষা মৌসুমে ইলুহার এলাকার বিস্তীর্ণ জমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে সৃষ্টি করে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। কিন্তু কৃষকরা থেমে নেই। পানির ওপরই ভাসমান বীজতলা তৈরি করে সবজি চাষে বদলে দিচ্ছেন কৃষির চিত্র।

ভাসমান চাষাবাদের এই পদ্ধতি বাংলাদেশের ৩০০–৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতায় এটি আবারও জনপ্রিয় হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ‘ভাসমান বাগান’–কে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার গ্রামের কৃষকেরা এই ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভাসমান বীজতলায় চারা উৎপাদন করছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম সফল কৃষক তোঁতা মিয়া। তিনি জানান, পঞ্চাশ শতক ভাসমান বীজতলায় ছয়জন শ্রমিকের সহায়তায় প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করেন তিনি। মাস শেষে লক্ষাধিক টাকা আয় করে এখন তিনি পুরোপুরি স্বাবলম্বী।

তবে কৃষি দপ্তরের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন,
“ইউনিয়নের ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সরকারিভাবে সারসহ কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয় না। উদ্যোগ নিলে বানারীপাড়ার কৃষকরা দেশের কৃষিখাতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।”

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তনয় সিংহ বলেন,
“ইলুহার ইউনিয়নে ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত চারা এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে—এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। যদিও সরকারিভাবে এ পদ্ধতির জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নেই, আমরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”

এদিকে ভাসমান বীজতলায় চারা উৎপাদন এখন শিক্ষিত বেকার যুবকদেরও নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। অনেক কৃষকপুত্র ও নতুন উদ্যোক্তা এই পদ্ধতিতে যুক্ত হয়ে প্রতিনিয়ত সাফল্য অর্জন করছেন।

সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৮/১, এভিনিউ ১, ব্লক - সি, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২১৭। মোবাইলঃ +৮৮-০১৩১৪-০০৮০৭৭

প্রিন্ট করুন