বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনায় স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রতারণা মামলার বাদীকে ৪ ঘন্টা গাড়দে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
গত বুধবার বরগুনা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক কাজী আশ্রাফুজ্জামান বাদী মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ায় এ নির্দেশ দেন। তবে কিছু সময় পরে তাকে ছেড়েও দেওয়া হয়।
জানাগেছে, বরগুনার বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের মরহুম জনাব আলী হাওলাদারের ছেলে মো. জসীম উদ্দিনের সাথে ইসলামী আইন মেতাবেক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন মোহরের শর্তে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় বেবাজিয়াখালী গ্রামে আ. সালাম এর মেয়ে মোসা. শারমিন আক্তার। অভিযুক্ত স্বামী জসীম ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সদ্য বিবাহিত স্ত্রী শারমিন আক্তার পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়ে জসীমকে বিয়ে করে। একারনে তার বর্তমান স্বামী জসীমের ভালোবাসা পেতে তার কাছে লিখিত অঙ্গিকার দাবী করেন। স্বামী তার কথায় আকৃস্ট হয়ে ৩ শত টাকার প্রচলিত স্ট্যাম্পে তাকে আজীবন ভালোবাসা ও ভালোরাখার অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করেন। এছাড়াও জসীম তার স্ত্রীকে ৩০ লাখ টাকার চেক স্বাক্ষর করে তার স্ত্রীর কাছে রাখেন। কিছুদিন তার সংসার ভালোই চলছিলো। জীবিকার তাগিদে ব্যবসায়িক কারনে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর স্বামী জসীম উদ্দিন হাওলাদার পাপুয়ানিউগিনিতে চলে যায়। স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগ নিয়ে শারমিন আক্তার তার প্রাক্তন স্বামীর সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে বর্তমান স্বামীর ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্নালঙ্কারসহ বিবাহ বহির্ভুত তার প্রাক্তন স্বামীর কাছে চলে যায়। তার চলে যাওয়ার ৩মাস পরে বর্তমান স্বামী জসীমকে তালাক না দিয়েই গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারী স্বামী জসীমের নামে এনআই এ্যাক্টে চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত জসীম উদ্দিন হাওলাদার রিয়েলস্টেট এর ব্যবসা করেন। সে সুবাদে বাদীর ভাই আরিফুর রহমান শাওনকে ঢাকায় ফ্লাট ক্রয় করার জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি করে তার নিকট থেকে ৩০ লাখ টাকা নেয়। তবে ফ্লাট কিনা না দিতে পারলে তিনি টাকা ফেরত দিবেন বলে বাদীকে ৩০ লাখ টাকার পূবালী ব্যাংক বামনা শাখার একটি চেক জমা রাখেন। পরবর্তীতে ওই চেক বেতাগী উপজেলার ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে জমা দিলে তার হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। পরে বাদী শারমিন আক্তার তার সাবেক স্বামীর নামে বরগুনা বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এনআই এ্যাক্টে মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলার শুনানীতে গত বুধবার বিজ্ঞ আদালতের বিচারক বাদীর তথ্য উপাত্ত্বে গড়মিল পাওয়ায় তাকে ৪ঘন্টা গাড়দে রাখার নির্দেশ দেন।
এব্যাপারে সাবেক স্বামী জসীম উদ্দিন বলেন, আমি বিদেশে চলে যাওয়ার পরে আমার স্ত্রী থাকা অবস্থায় সে আমার ঘর ছেড়ে চলে যায়। এরপর আমার বিরুদ্ধ একটি চেক জানিয়াতির মামলা করে। সেটিতে আমি খালাস পাই। পুনরায় সে একই ঘটনায় আবারও একটি মামলা করে গত পরশু সে মামলায়ও মহামান্য বিচারক আমাকে খালাস দিয়েছে। উল্টো বাদী শারমিনের কথায় গড়মিল ও মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ায় তাকে গারদে রাখার নির্দেশ দেয়।
এব্যাপারে আসামী পক্ষের আইনজীবী এ্যাড. রুহুল আমীন বলেন, শুনানীর সময় মামলার বাদী আসামীর সাথে বিবাহের কথা অস্বীকার করে এছাড়াও বিভিন্ন তথ্য উপাত্তে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ায় বিচারক বাদীকে কয়েক ঘন্টার জন্য গাড়দে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলো।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬ । ৪:৩৫ অপরাহ্ণ