বানারীপাড়ায় জমি জালিয়াতির মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা পরিতোষ গাইন কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ । ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

হুমায়ুন কবির:

বরিশালের বানারীপাড়ায় কোটি টাকার মূল্যবান জমি জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং পৌর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পরিতোষ গাইনের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর এনআইডি জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে জমি দখলের অভিযোগে কুন্দিহার গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন মৃধার ছেলে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মৃধা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় আসামি হিসেবে নাম রয়েছে ঝালকাঠি সদর উপজেলার মৃত মতিলাল মণ্ডলের ছেলে সুভাষ মণ্ডল এবং বানারীপাড়ার মাছরাং এলাকার মৃত ক্ষিতীশ চন্দ্র গাইনের ছেলে পরিতোষ গাইন।

মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, এসএ ১৪৪ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৪৫১/৪৫৪ দাগের ৬২ শতাংশ জমির মূল মালিক ছিলেন নিবারণ মালী। মৃত্যুর পর তার দুই নাবালক সন্তান—বিজয় ও মাধব মালীর পক্ষে তাদের মা মতিবালা মালী ১৯৭০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দলিলের মাধ্যমে জমিটি বাদীর পিতা আব্দুল মতিন মৃধার কাছে বিক্রি করেন। এরপর থেকে ৫২ বছর ধরে জমিটিতে বাদীপক্ষের শান্তিপূর্ণ ভোগদখল ও নিয়মিত রাজস্ব পরিশোধ অব্যাহত ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য বৃদ্ধির সুযোগে আসামি পরিতোষ গাইন একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলে। তারা জাল ওয়ারিশ সনদ, নকল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং ভুয়া এনআইডি তৈরি করে জমি আত্মসাৎ করতে তৎপর হয়। ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় এসব জাল নথি দাখিল করা হয়। ২০২২ সালের ৬ মার্চ সুভাষ মণ্ডল ‘মাধব মালী’ পরিচয়ে বানারীপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মিউটেশন মামলা (নং ৪৪-বিপি/২০২১-২২) করেন। তদন্তে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা প্রত্যয়নপত্র দিয়ে জানান— ‘মাধব মালী’ নামে ওই এলাকায় কোনো ব্যক্তি কখনো বসবাস করেননি।

২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর বাদী ভূমি অফিস থেকে জাল কাগজপত্র সংগ্রহের পর আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “পরিকল্পিতভাবে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা নিয়ে আমাদের বৈধ জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী মির্জা ইমরান উল্লাহ জানান, “পরিতোষ গাইন ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা চালান। মামলার নথিপত্রে তার সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।” আদালত জামিন আবেদন নাকচ করায় আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৮/১, এভিনিউ ১, ব্লক - সি, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২১৭। মোবাইলঃ +৮৮-০১৩১৪-০০৮০৭৭

প্রিন্ট করুন