বানারীপাড়া প্রতিনিধি:
বানারীপাড়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার বিতরণে বানারীপাড়ায় চলছে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। উপজেলার ১২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবার পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সময়মতো সরবরাহ হচ্ছে না—মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি, নিম্নমানের খাবার এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণই মিলছে অধিকাংশ স্কুলে।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিযোগ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করে আসলেও তা দেখার বা ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কায়েমি স্বার্থের কারণেই এই অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। দপ্তর প্রধানদের কেউ বানারীপাড়ার স্থানীয় নন, ফলে এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের তেমন নজরদারি নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষকরা জানান, “স্কুলের শিশুদের জন্য বরাদ্দ খাবার মানসম্মত ও নিরাপদ হওয়া জরুরি। অথচ ঠিকাদারের সরবরাহকৃত অধিকাংশ খাবারই অস্বাস্থ্যকর, নিম্নমানের ও অনেক সময় পচা বা মেয়াদোত্তীর্ণ থাকে।”
এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা একযোগে অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ না করার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তারা বলেন, “যদি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দ্রুত খাবারের মান নিশ্চিত না করে, তাহলে তাকে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।”
স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক জানান,
“আমি বানারীপাড়ার সন্তান। আমার এলাকার শিশুরা যেন খারাপ বা ক্ষতিকর খাবার না খায়—এটা আমার প্রতিজ্ঞা। প্রশাসন যদি নীরব থাকে, তবে শিক্ষক-অভিভাবকদের আন্দোলনের মাধ্যমে হলেও এই অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।”
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি—
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রোধে দ্রুত তদন্ত করে সঠিক মান বজায় রেখে খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে পুরো ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, “এসব অনিয়ম বন্ধে কে এগিয়ে আসবে?”

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১২:২৮ অপরাহ্ণ