খুঁজুন
, ,

স্থানীয় বিজ্ঞাপনে কলুষিত সাংবাদিকতা: গণমাধ্যমের সুরক্ষা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০২৫, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
স্থানীয় বিজ্ঞাপনে কলুষিত সাংবাদিকতা: গণমাধ্যমের সুরক্ষা

মোঃ নেছার উদ্দিন

বাংলাদেশের সংবাদপত্র শিল্প, যা দেশের আনাচে-কানাচে বিস্তৃত, আজ এক অলিখিত কালো অধ্যায়ের মুখোমুখি। এই অধ্যায়ের নাম স্থানীয় বিজ্ঞাপন বন্টনের অনিয়ম। তথ্য ও চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে বিজ্ঞাপন বন্টন না করার কারণে, স্থানীয় পর্যায়ে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সিভিল সার্জন অফিস, গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের হাতে বিজ্ঞাপনের নিয়ন্ত্রণভার চলে গেছে। এই বিকেন্দ্রীকরণ, যা কাগজে-কলমে স্থানীয় উন্নয়নের স্বার্থে সুবিধাজনক মনে হতে পারে, বাস্তবে তা পরিণত হয়েছে এক ভয়াবহ অনিয়মের আখড়ায়, যা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।
কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণের অভাব ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার:
যদি তথ্য ও চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর সকল সরকারি বিজ্ঞাপনের কেন্দ্রীয় বন্টন নিয়ন্ত্রণ করত, তবে হয়তো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কিছুটা নিশ্চিত করা যেত। কিন্তু এই দায়িত্ব স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বিভিন্ন অধিদপ্তর তাদের খেয়ালখুশি মতো বিজ্ঞাপন বন্টন করছে। এখানে পেশাদারিত্ব, পত্রিকার প্রচার সংখ্যা, পাঠকপ্রিয়তা বা সংবাদ পরিবেশনার গুণগত মান কোনো মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। বরং, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আর্থিক লেনদেনই হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজ্ঞাপন পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।
বিজ্ঞাপনের ফাঁদে আটকা পড়া সাংবাদিকতা:
এই অনিয়মের সবচেয়ে করুণ শিকার হচ্ছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। এক সময়ের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের কান্ডারিরা আজ বিজ্ঞাপনের আশায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দোরে দোরে ঘুরতে বাধ্য হচ্ছেন। সংবাদপত্রের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড দুর্বল হওয়ায়, স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল। এমন পরিস্থিতিতে, বিজ্ঞাপনের সামান্য আশাও তাদের জন্য বড় ভরসা। এর ফলে যা ঘটছে, তা হলো এক ভয়াবহ আপসকামিতা। যে সকল প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, তাদের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে স্থানীয় সাংবাদিকরা এক প্রকার নৈতিক চাপে পড়ছেন।
এই চাপ এতটাই তীব্র যে, অনেক সময় স্থানীয় সাংবাদিকরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম ধরতে পারছেন না। তাদের সম্পাদক বা প্রকাশকও হয়তো পত্রিকার অর্থনৈতিক সুরক্ষার কথা ভেবে এই আপসকে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলস্বরূপ, সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে সঠিক তথ্য জানার অধিকার থেকে। স্থানীয় দুর্নীতির চিত্র সমাজের সামনে আসছে না, ফলে জবাবদিহিতার অভাবে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।
অনিয়মের সর্পিল জাল: কেঁচো খুড়তে সাপ
স্থানীয় পর্যায়ে বিজ্ঞাপন বন্টনের অনিয়ম শুধু সাংবাদিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর জাল বিস্তৃত হয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি পর্যন্ত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মোটা অঙ্কের বিজ্ঞাপন বাজেট বরাদ্দ রাখে, কিন্তু তার বড় অংশই চলে যায় অনিয়মের পথে। ভুয়া বিল ভাউচার, কম পরিচিত বা অস্তিত্বহীন পত্রিকাকে বিজ্ঞাপন প্রদান, কিংবা নির্দিষ্ট কিছু পত্রিকাকে বারবার বিজ্ঞাপন দিয়ে বাকিদের বঞ্চিত করা-এ সবই যেন সাধারণ ঘটনা।
এই অনিয়মের ফলে প্রকৃত অর্থে যে সকল পত্রিকা সংবাদ পরিবেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তারা বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছু তথাকথিত “হলুদ সাংবাদিকতা” নির্ভর পত্রিকা বা অনলাইন পোর্টাল কেবল বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করে টিকে থাকছে, যেখানে সংবাদ বা তথ্যের গুরুত্ব গৌণ। এটি সামগ্রিকভাবে সাংবাদিকতার মানকে নিম্নগামী করছে এবং পেশার প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষয় করছে। এই ধারা চলতে থাকলে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বিলুপ্তির পথে চলে যাবে এবং তথ্যের বদলে গুজব আর অপতথ্যই সমাজে প্রাধান্য পাবে।
বাংলাদেশের সকল পত্রিকার দুর্দশা: এক অভিন্ন চিত্র
এই সমস্যা কেবল স্থানীয় পর্যায়ের ছোট পত্রিকার নয়। রাজধানী ঢাকার বড় পত্রিকাগুলোও স্থানীয় বিজ্ঞাপনের উপর এক ধরনের পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। যদিও তাদের আয়ের মূল উৎস বৃহৎ বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন, কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি বিজ্ঞাপনগুলো সেখানকার সাংবাদিকদের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। যখন এই বিজ্ঞাপন বন্টনে অনিয়ম হয়, তখন এর প্রভাব সারা দেশের সাংবাদিক সমাজেই পড়ে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ পত্রিকা এখন অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। কাগজের মূল্য বৃদ্ধি, মুদ্রণ ব্যয় বৃদ্ধি, অনলাইন মিডিয়ার চ্যালেঞ্জ এবং পাঠক সংখ্যা হ্রাস-এই সব মিলেই সংবাদপত্র শিল্প এক ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, সরকারি বিজ্ঞাপনগুলো তাদের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন এই বিজ্ঞাপনের বন্টন অনিয়মের বেড়াজালে আটকা পড়ে, তখন পত্রিকার অর্থনৈতিক দুর্দশা আরও প্রকট হয়। এর ফলে, তারা বাধ্য হয় ব্যয় সংকোচন করতে, যার প্রথম শিকার হন সাংবাদিকরা। কম বেতন, সময়মতো বেতন না পাওয়া, কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা-এই সবই এখন স্থানীয় সাংবাদিকদের নিত্যসঙ্গী। এই অর্থনৈতিক পরাধীনতা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতাকে কেড়ে নিচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক সংবাদচিত্রের জন্য এক অশনি সংকেত।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বনাম অর্থনৈতিক পরাধীনতা:
একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। যখন গণমাধ্যম অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিজ্ঞাপনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসের জন্য অনিয়মের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়, তখন তার স্বাধীনতা খর্ব হয়। সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিবর্তে ‘আপসকামী সাংবাদিকতা’ করতে বাধ্য হন। এটি শুধু গণমাধ্যমের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।
যদি সাংবাদিকরা স্থানীয় পর্যায়ে ঘটে যাওয়া দুর্নীতি, অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারেন, তাহলে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে কীভাবে? সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে কীভাবে? এর ফলে, স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার বাড়তে থাকে এবং সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এই পরিস্থিতি গণতন্ত্রের শ্বাসরুদ্ধকারী এক পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয় এবং ক্ষমতাবানদের স্বেচ্ছাচারিতা বৃদ্ধি পায়।
সমাধানের পথ: কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা
এই সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে এই অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
১. কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা প্রণয়ন: তথ্য ও চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরকে সকল সরকারি বিজ্ঞাপনের কেন্দ্রীয় বন্টনের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে, যেখানে পত্রিকার প্রচার সংখ্যা, পাঠকপ্রিয়তা, সংবাদ পরিবেশনার মান এবং নিরপেক্ষতা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে বিজ্ঞাপনের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এটি বিজ্ঞাপনের সুষম বন্টন নিশ্চিত করবে এবং পক্ষপাতিত্বের সুযোগ কমাবে।
২. ডিজিটাল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া: বিজ্ঞাপনের বরাদ্দ এবং বন্টন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠানকে কত টাকার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা উচিত, যাতে যে কেউ তা দেখতে পারে। এটি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমাবে, পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে।
৩. সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। যদি সাংবাদিকরা পর্যাপ্ত বেতন পান এবং কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষিত থাকেন, তবে তারা বিজ্ঞাপনের আশায় আপস করতে বাধ্য হবেন না। এর জন্য সরকারের পাশাপাশি সংবাদপত্র মালিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। পেশাগত মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে এটি অপরিহার্য।
৪. সাংবাদিক সমাজের ঐক্যবদ্ধতা: সর্বোপরি, সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নিজেদের অধিকার এবং পেশাগত মান রক্ষার জন্য তাদের সোচ্চার হতে হবে। গণমাধ্যমকে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং সমাজের দর্পণ হিসেবে তার সঠিক ভূমিকা পালনে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো অপরিহার্য। অন্যথায়, স্থানীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে আটকে, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা তার আলো হারিয়ে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকেই ধাবিত হবে।
গণমাধ্যমের এই মুখবন্ধ খুলে দিতে এবং তাকে প্রকৃত অর্থে জনগণের কণ্ঠস্বর করে তুলতে এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য।

লেখক: মোঃ নেছার উদ্দিন
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক সাগরকূল, বরগুনা।
মোবাইল: ০১৭৫০-০০৮০৭০, ০১৭১৬-২৩৫৭৫৩

নতুন উপজেলা গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া।। মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
নতুন উপজেলা গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া।। মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ

বাপ্পি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন ও বিজয়নগর উপজেলার ১টি ইউনিয়ন ভেঙ্গে আখাউড়া উপজেলার বরিশল ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করে “বরিশল” নামে নতুন উপজেলা গঠন করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

প্রস্তাবের প্রতিবাদে সোমবার (০২ নভেম্বর ২৬) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করে ৪ ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় তারা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী মোড় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবরোধ করে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে নতুন উপজেলার প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি গোপন রাখায় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এডঃ শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডঃ তরিকুল ইসলাম রোমা, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ ৪ ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গ জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ এর সাথে কথা বলে প্রস্তাব বাতিলের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করে।

এ সময় বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার, রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব ও বিজয়নগর উপজেলার সিংঙ্গারবিলকে ভেঙ্গে “বরিশল” ইউনিয়ন নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন জেলা বিএনপি নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। তার এই পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের আলোকে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন উপজেলা নিরীক্ষণের জন্য একটি দাপ্তরিক পত্র পাঠিয়েছে । এবং জেলা প্রশাসক বিষয়টি গোপন রেখেছে যা কখনো মেনে নেয়া হবে না। বক্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সদর ও বিজয়নগর উপজেলাকে ভেঙ্গে নতুন উপজেলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলপথ, সড়কপথ অবরোধসহ তীব্র আন্দোলনের মাধমে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। তারা বর্তমানের ন্যায় সদর উপজেলার সাথে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন।

“মোবাইল কোর্ট অভিযানে” আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
“মোবাইল কোর্ট অভিযানে”  আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে

বাপ্পি আহমেদ, জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক এর নির্দেশে রবিবার (০১ নভেম্বর ২০২৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়।
মোবাইল কোর্ট অভিযানের এর দায়িত্বে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কালেক্টরেট (ডিসি অফিস) এ কর্মরত এনডিসি রাশেদুল হক সজীব।

এ সময় আটকের পরও ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে!

এ বিষয়ে (এনডিসি) রাশেদুল হক সজীব এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে আগামী নিউজ এ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পেট্রোল ঢেলে গৃহবধুর শরীরে আগুন দেয়ার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পেট্রোল ঢেলে গৃহবধুর শরীরে  আগুন দেয়ার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

বাপ্পি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এতে ইখতারা সরকার (৩০) নামে এক গৃহবধূর শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনি ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে আশুগঞ্জ উপজেলার চর-চারতলা এলাকার সরকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ইখতারা ওই এলাকার ইদন সরকারের মেয়ে। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় ১ বছর ধরে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। প্রায় দেড় মাস আগে মারধরের পর ২ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন ইখতারা।

স্বজনদের দাবি, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) ছোট ছেলেকে নিতে শ্বশুর বাড়িতে আসেন জাহাঙ্গীর। এ সময় স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন শনিবার ভোরে ইখতারার মা ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হলে সেই সুযোগে জাহাঙ্গীর ঘরে ঢুকে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ইখতারার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ।
পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক স্বামীকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চলছে।

নতুন উপজেলা গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া।। মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ "মোবাইল কোর্ট অভিযানে" আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পেট্রোল ঢেলে গৃহবধুর শরীরে আগুন দেয়ার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টিকটক ভিডিওতে মন্তব্য করার জের ধরে সালিশের পরও দুই গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ গৌরীচন্না ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাংবাদিক গোলাম হায়দার স্বপন