ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক এর নির্দেশে রবিবার (০১ নভেম্বর ২০২৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়।
মোবাইল কোর্ট অভিযানের এর দায়িত্বে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কালেক্টরেট (ডিসি অফিস) এ কর্মরত এনডিসি রাশেদুল হক সজীব।
এ সময় আটকের পরও ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে!
এ বিষয়ে (এনডিসি) রাশেদুল হক সজীব এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে আগামী নিউজ এ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন ও বিজয়নগর উপজেলার ১টি ইউনিয়ন ভেঙ্গে আখাউড়া উপজেলার বরিশল ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করে “বরিশল” নামে নতুন উপজেলা গঠন করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
প্রস্তাবের প্রতিবাদে সোমবার (০২ নভেম্বর ২৬) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করে ৪ ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় তারা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী মোড় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবরোধ করে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে নতুন উপজেলার প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি গোপন রাখায় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এডঃ শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডঃ তরিকুল ইসলাম রোমা, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ ৪ ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গ জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ এর সাথে কথা বলে প্রস্তাব বাতিলের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করে।
এ সময় বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার, রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব ও বিজয়নগর উপজেলার সিংঙ্গারবিলকে ভেঙ্গে “বরিশল” ইউনিয়ন নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন জেলা বিএনপি নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। তার এই পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের আলোকে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন উপজেলা নিরীক্ষণের জন্য একটি দাপ্তরিক পত্র পাঠিয়েছে । এবং জেলা প্রশাসক বিষয়টি গোপন রেখেছে যা কখনো মেনে নেয়া হবে না। বক্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সদর ও বিজয়নগর উপজেলাকে ভেঙ্গে নতুন উপজেলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলপথ, সড়কপথ অবরোধসহ তীব্র আন্দোলনের মাধমে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। তারা বর্তমানের ন্যায় সদর উপজেলার সাথে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এতে ইখতারা সরকার (৩০) নামে এক গৃহবধূর শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনি ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে আশুগঞ্জ উপজেলার চর-চারতলা এলাকার সরকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ইখতারা ওই এলাকার ইদন সরকারের মেয়ে। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় ১ বছর ধরে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। প্রায় দেড় মাস আগে মারধরের পর ২ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন ইখতারা।
স্বজনদের দাবি, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) ছোট ছেলেকে নিতে শ্বশুর বাড়িতে আসেন জাহাঙ্গীর। এ সময় স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন শনিবার ভোরে ইখতারার মা ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হলে সেই সুযোগে জাহাঙ্গীর ঘরে ঢুকে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ইখতারার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ।
পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক স্বামীকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চলছে।
টিকটক ভিডিওতে মন্তব্য (কমেন্টস) করাকে কেন্দ্র করে দুই তরুণের মধ্যে হাতাহাতির জের ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা হলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২৬) সকালে আশুগঞ্জ বাজারে জারু মিয়ার দোকানে স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল টিকটক ভিডিওতে মন্তব্য (কমেন্টস্) করাকে কেন্দ্র করে দুই তরুণের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে সোহাগপুর গ্রামের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি সমাধানে শনিবার সকালে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে বিরোধের মীমাংসা হলেও বৈঠকশেষে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনিসুর রহমান জানান, গতকাল একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেটির সমাধানে আজ সকালে পুলিশের উপস্থিতিতে আশুগঞ্জ বাজারে সালিশ বৈঠক হয় এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। পরে সালিশশেষে পুলিশ চলে গেলে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
আপনার মতামত লিখুন