স্বেচ্ছাসেবক দলের পদবঞ্চিত নেতাদের সমাবেশ জনকল্যাণমুখী বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানীতে আনন্দ মিছিল
সুমা রানী:
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জনবান্ধব ও গণমুখী বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের পদবঞ্চিত সাবেক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে রাজধানীতে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৫ জুন) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আনন্দ মিছিলটি কাকরাইল থেকে শুরু হয়ে ফকিরাপুল হয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা ৩১ দফার অঙ্গীকার বাজেট হলো চমৎকার, জনগণের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ, ধন্যবাদ সহ বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট ঘোষণার পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি না হওয়া প্রমাণ করে যে এটি একটি বাস্তবধর্মী, সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট। তারা বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এ বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি আযহারুল ইসলাম মুকুল, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সমন্বয়ক আশরাফ উদ্দিন রুবেল, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ মাহবুব, সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক আক্রামুজ্জামান খান টুকন, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ কাঞ্চন এবং সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডালিম সিকদার। সমাবেশ পরিচালনা করেন সাবেক প্রকাশনা সম্পাদক হুমায়ুন কবির। এছাড়াও বক্তব্য দেন সোলায়মান সোহেল, মুশফিকুল লেলিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ২০১৩-১৪ সালের রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী মামলা, হামলা, গ্রেফতার, গুম ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েও রাজপথে থেকে দলের কর্মসূচি সফল করেছেন। তাদের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ সুগম হয়েছে। কিন্তু সেইসব পরীক্ষিত কর্মীদের অনেকেই এখনও যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
তারা আরও বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য দ্রুত কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতৃবৃন্দকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পদবঞ্চিত সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক বাদল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল আহমেদ, বিভিন্ন পর্যায়ের সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকবৃন্দ, সদস্য হেলাল উদ্দীন, ওমর ফারুক, জরিরুল ইসলাম, শহিদুল বারীসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, দুঃসময়ের পরীক্ষিত সৈনিকদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে সংগঠন আরও সুসংহত, ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানান। পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন