খুঁজুন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

তিস্তা পাড়ের মানুষের মন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
তিস্তা পাড়ের মানুষের মন

চন্দন কুমার লাহিড়ী

১…
মনের মানুষ কিংবা মানুষের মন—
এই শব্দগুলো প্রথমে কাছাকাছি মনে হলেও আসলে তাদের গভীরতা এবং দূরত্ব দুটোই অসীম। একদিকে এদের মধ্যে রয়েছে নৈকট্যের অসামান্য বাঁধন, অন্যদিকে রয়েছে দুরত্বের গভীর এক রহস্যময়তা। মন আছে বলেই তো কেউ কারো মনের মানুষ হয়। মনের মানুষ হওয়ার মানে হলো, এক মনের গভীরতায় অন্য মনকে জয় করা। আর এই জয় মানেই একটি অজেয় মনের ভেতরে জয়ের নেশায় মেতে ওঠা। নেশা করেন মেতে ওঠেন তাতে তো কোন সমস্যা নেই। আর মনে রাখা প্রয়োজন যে, জয় বিজয় এতো সব শব্দের মায়াজাল। এ জালে জড়ালে নিজেকে মুক্ত করা কঠিন। অথবা মুক্তি এখানে এসে বদ্ধ হয়ে পরে। তবুও নেশায় আবিস্ট মানুষ। মনের ধারনা নিয়ে পুস্তকে বলা হয়েছে- মানুষের মন হলো চিন্তা, অনুভূতি, উপলব্ধি, স্মৃতি, ইচ্ছা ও চেতনার এক জটিল সমষ্টি, যা আমাদের সচেতন ও অচেতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে এবং মস্তিষ্কের কার্যকলাপের উপর নির্ভরশীল; এটি মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণার মূল বিষয়, যা আমাদের আচরণ ও মানসিক অবস্থা ব্যাখ্যা করে। এটি বুদ্ধি, বিবেকবোধ ও আবেগের প্রকাশ ঘটায় এবং এর রহস্য উন্মোচনে দর্শন থেকে শুরু করে আধুনিক বিজ্ঞান পর্যন্ত বিভিন্ন তত্ত্ব প্রচলিত আছে। মানুষের মন মূলত সুখ, সন্তুষ্টি, ভালোবাসা, নিরাপত্তা, এবং অর্থপূর্ণতা চায়, যা বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়—যেমন ভালো সম্পর্ক, লক্ষ্য অর্জন, অন্যের কল্যাণ, শখ পূরণ বা মানসিক শান্তি। এটি একটি জটিল বিষয়, কারণ মন একই সাথে চিন্তা, অনুভূতি, ইচ্ছা, কল্পনা ও স্মৃতির সমষ্টি এবং এর চাহিদা ব্যক্তিভেদে ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়, যা প্রায়শই পরিবর্তনশীল ও জটিল।

এতকিছুর পরও তাহলে প্রথম সত্যি হচ্ছে—সবকিছুর আগে মন। কিন্তু প্রশ্ন আসে, কার মন? উত্তর খুব সহজ—মানুষের মন। এই মনই মানুষের অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দু, যা দিয়ে পৃথিবীকে দেখা হয়, অনুভব করা হয়। কবি তাই প্রশ্ন করেন, “মন ছাড়া কি মনের মানুষ হয়?” আবার কখনও অন্যজন বলেন, “পাগল মন রে মন আমার।” এই পাগল মনই যেন নিজের আবেগের জালে জড়িয়ে রহস্যময়তার এক অসীম সাগরে অথবা শুন্যে ভেসে বেড়ায় পৃথিবীর সমস্ত সীমানা অতিক্রম করে। এখন তাহলে সহজ ভাবনা হচ্ছে মন ভাসতে চাইলে ভাসুক, হারাতে চাইলে হারিয়ে যাক। যেখানে খুশি যেমন ইচ্ছেয় তার বিচরনের বাসনা পূর্ন হউক। বাঁধা কেন, কার কী তাতে। বাসনার জগত তো অনিয়ন্ত্রিত অসীম। কে তাকে করবে মানুষের অধীন, কোন মায়াবলে। আর তাই এই মানুষের মন নিয়ে কথা বলতে গেলে, সবাই প্রশ্ন করবে, কোন মানুষ, কোথাকার মানুষ। মানে তার স্থান, সংগ্রাম, অর্থনীতি, রাজনৈতিক পরিচয়, শ্রেনী অবস্থান ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাবু করে ছাড়বেন। ফানাপানা হয়ে যাবে প্রাণ সাথে মন। কারণ উপরের সবগুলো বিবেচ্য বিষয় এর সাথে মনের ধারনা, তার গন্ডি, চিন্তার রকমফের এমনকী মনের মানুষ ঠিক করার মতন মানুষিক গড়নও ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন বিদেশ্ী মানুষের মন। অথবা আর নিকটে যদি আমরা চিন্তা করি কিংবা দেশের অভ্যন্তরে মনের বিন্নাস, ধরন ধারন, প্রকৃতি, গতি, বোধ ইত্যাদি হয় আলাদা আলাদা। যেমন পাহাড়ী মানুষের মন। মানে যারা পাহাড় ঘেরা পরিমন্ডলে বাস করেন। অথবা সমুদ্র পারের মানুষের মন। তার মানে হচ্ছে মন অভিন্ন কিন্তু অঞ্চল ভেদে তার ব্যাপ্তি সীমানা আর ধরন হতে পারে ভিন্ন।

দেশের উত্তারাঞ্চল মানে রংপুর বিভাগের বড় অংশ সাথে ভারতের আসাম ও কুচবিহার জেলার তিস্তা পাড়ের মানুষের এই মনও তাই কখনো আবেগে, কখনো বাস্তবতায়, কখনো বা কল্পনার জগতে এক অন্য রকম দোলাচলে বসবাস করে। পাগলামি, আবেগ, আর জয় করার নেশা—এই তিনটি জিনিসই মিলে মনের মানুষকে নিজের করে নেওয়ার গল্প বলে যায়। মনকে জয় করা মানে আসলে নিজেকেই জয় করা। একদিকে জয়ের নেশা অন্যদিকে বাউল মন বলে ওঠেন- খেজুর গাছে হাড়ি বাধো মন। মানে মনকে বাঁধতে চান। মনকে মানুষের অধীন করার, তাকে তার দাস বানানোর এক অনবদ্য চেষ্টায় মেতে ওঠেন তাই কেউ কেউ। মন যদি অধীন হয়ে পড়ে, তাহলে কী তার ব্যাপ্তি সীমাবদ্ধ হযে পরে। মনের স্বাধীনতা কী বিঘ্নিত বা সীমাবদ্ধ হতে পারে। অথবা মনের গন্ডি সীমিত হয়ে পেন্ডুলামের মতো দোলাচলে দোলে।তাহলে মনের ধারনা কী। মন নিয়ন্ত্রণের ধারণা হলো নিজের চিন্তা, আবেগ এবং আচরণকে সচেতনভাবে পরিচালিত করার ক্ষমতা, যা ধ্যান, ব্যায়াম, লক্ষ্য নির্ধারণ ও মানসিক কৌশল (যেমন: ইতিবাচক চিন্তাভাবনা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম) ব্যবহারের মাধ্যমে অর্জন করা যায়, যাতে মনকে শান্ত রাখা, চাপ কমানো এবং জীবনের লক্ষ্য পূরণে মনোযোগী হওয়া যায়। এর মাধ্যমে ব্যক্তি অবচেতন মনের প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করে সচেতনভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কী ধারুন এই ধারনা। রোবট আর মানুসের মধ্যেকার নেকট্য বাড়ানো না কমানো আমাদের লক্ষ্য তা সবার আগে ঠিক করে নেয়া উচিত।

তাই তিস্তা পাড়ের মানুষের এই মন, তাদের অনুভূতি, তাদের আবেগ—সবকিছু মিলে এক অনবদ্য গল্প তৈরি করে, যেখানে মনের মানুষ আর মানুষের মন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তিস্তা পাড়ের মানুষের এই মনও তাই কখনো আবেগে, কখনো বাস্তবতায়, কখনো বা কল্পনার জগতে এক অন্য রকম দোলাচলে বসবাস করে। পাগলামি, আবেগ, আর জয় করার নেশা—এই তিনটি জিনিসই মিলে মনের মানুষকে নিজের করে নেওয়ার গল্প বলে যায়। মনকে জয় করা মানে আসলে নিজেকেই জয় করা। রংপুরের তিস্তা-পাড়ের মানুষ, আর মানুষের মন। দুটোই এক অপূর্ব, মোহময় বিস্তার। নদীর মতোই উথাল পাতাল, কখনো উদ্দাম, কখনো মায়াবী কোমলতায়, নীরবতায় ভরা। তিস্তা ভাঙে, ভরা যৌবনে। একূল ভেঙে পড়ে, আবার ও কূলে গড়ে তোলে নতুন স্বপ্ন বালুময় আশা। জনজীবন হারায় না, সে শুধু স্থান বদলায়। নদীর পাড় আঁকড়ে ধরে মানুষ বাঁচে, স্বপ্ন দেখে, বছরের পর বছর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। তিস্তা যেমন কেড়ে নেয়, তেমনি দুহাত উজাড় করে বিলিয়ে দেয়। আর তাই মানুষ মজে প্রেমে, নদী আর মানুষের আত্মার এই মিলন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অবিরাম বয়ে চলে। যে পথে নদী কথা বলে, আর মানুষ বাঁচে প্রবল আশার বিশ্বাসে। আর তাই তিস্তা পারের মানুষের মনে বা প্রানে গান বাসা বাধে। তিস্তা পারের গান মূলত তিস্তাকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবন-জীবিকা, দুঃখ-কষ্ট, নদী ভাঙা-গড়া, প্রকৃতি আর ভালোবাসার গল্প বলে, যেখানে ভাওয়াইয়া ও আঞ্চলিক সুরের মাধ্যমে জেলে, কৃষক এবং সাধারণ মানুষের মনের আবেগ, নদীকে ঘিরে বেঁচে থাকা ও প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবের কথা ফুটে ওঠে, যা একই সাথে আশা, হতাশা আর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। সাথে মনের ভিতরের অব্যাক্ত বেদনা, আশা , ভালবাসার প্রকাশ করে শিল্পির সুরেলা কন্ঠে। গেয়ে ওঠেন তিস্তা পাড়ের প্রাণ কোকিলা, কী কবার চান কন খুলিয়া। মনে রেখে লাভ কী, বলে ফেলুন। আহা কী ব্যকুল আহ্বান।

লেখক পরিচিতি: মুক্ত লেখক ও অধিকার কর্মী।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের প্রয়াত ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মালিতার পরিবারের জমিজমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত বুধবার ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তাঁর একমাত্র পুত্র ও মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ।

সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের পৌরসভা গেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন আনোয়ারুজ্জামান আজাদ। তাঁর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে তাঁর ইন্টারনেট ব্যবসা ও জমিজমার ওপর স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর নজর পড়ে। ওই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল মোল্ল্যা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আমি আমার পরিবারের একমাত্র সন্তান। উত্তরাধিকারসূত্রে বেশ কিছু মূল্যবান সম্পত্তি পেয়েছি। আমার অভিযোগ, কাজলসহ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নজর এসব সম্পত্তির ওপর পড়েছে। তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে আমার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আমি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

অভিযোগের বিষয়ে কাজল মোল্ল্যার বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাউদজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার  উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে  ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ প্রতিনিধ:

**সম্পুর্ন অরাজনৈতিক দ্বীনি আধ্যাত্মিক সংগঠন মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মাহফিলে প্রবাসী রাজনীতিবিদ আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ**

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে মদিনার জামাত, মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে মালদ্বীপের রাজধানী মালের সি বিল্ডিং অডিটোরিয়ামে এ ওয়াজ,দোয়া মাহফিল ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার আয়োজিত এ মাহফিলে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার আহ্বায়ক মোঃ আল আমিন এর পরিচালনায় মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরে কুরআন এবং বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও দেশ টিভির ইসলামিক আলোচক আলহাজ হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মহসিন কবীর ইউছুফী,পীর সাহেব মদিনার জামাত কদমতলী শাহী দরবার শরীফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ খলিলুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সভাপতি, মালদ্বীপ বিএনপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপ বি এন পির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম, মালদ্বীপ বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ নেহের মিয়া রানা, সহ-সভাপতি, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, সহ-সভাপতি; মোঃ মুক্তার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরীফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান কালাম
সহ সাংগঠনিক আবুল কালাম আজাদ, ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক মিয়া বি- বাড়িয়া সংগঠন, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মোঃ আলমগীর সিকদার।
মালদ্বীপস্থ ঢাকা ট্রেডার্সসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত মাহফিলে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনের সমন্বয়ে মাহফিলে আরো
উপস্থিত ছিলেন মোঃ আরিফুর ইসলাম, সভাপতি পদপ্রার্থী মালদ্বীপ যুবদল, মোঃ মাসুদ মুন্না আহ্বায়ক, স্বেচ্ছাসেবক দল মালদ্বীপ শাখা এবং মোঃ আবু আহমেদ সেলিম মিয়া, প্রবাসী ব্যবসায়ী, মালদ্বীপ।

আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ নুরুন্নবী মানিক,ব্যবসায়ী মো হারুন মিয়া মোঃ মাহফুজুর রহমান মোঃ রমো মিয়া, মোঃ জানে আলম সুন্নী ও মোঃ হাফিজুর রহমান ।
মাহফিলে কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা পেশ করেন হযরত মাওলানা মোঃ মাসুম বিল্লাহ, হযরত মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ ইসরাফিল হোসেন, হযরত মাওলানা মোঃ আঃ হান্নান, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ রিফাতুল ইসলাম এবং মোঃ ইসমাইল হোসেন, খাদেম, মদিনার জামাত মালদ্বীপ ও মোঃ নুরুল আমিন সুন্নি ।

মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা প্রবাসী জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে মালদ্বীপে বসবাসরত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সবশেষে সকল কবর বাসী, দেশ জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নানের ভাই আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে পূর্বশত্রুতার জেরে অপহরণ, সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী নিজ ব্যবসায়িক কাজে অবস্থানকালে পূর্বশত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা তৎপর হয়ে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তাদের সহযোগিতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকেই তাকে এবং তার ভাই সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান কে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী, ১ নং বিবাদী দেলোয়ার হোসেন টুকু, ২ নং বিবাদী মোঃ সবুজ, ইতিমধ্যে ঘটনার জেরে বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা ৩নং বিবাদী মোঃ আমিনুল হক গং দের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও পেশাগত ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুধু ভুক্তভোগী ও তার ভাইকে হুমকি দেওয়ার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর দায়ের করা মামলার সাক্ষীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি, চাপ সৃষ্টি এবং ভিন্ন পন্থায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার সাক্ষীরা যাতে নিরপেক্ষ ভাবে তাদের বক্তব্য দিতে না পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত হয়, সে উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ কারীদের দাবি। তারা বলেন, কোনো মামলার বাদী, তার পরিবার কিংবা সাক্ষীদের ওপর চাপ বা হুমকি সৃষ্টি করা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ। এক প্রতিবাদ বার্তায় তারা বলেন, একজন সাংবাদিক নেতার ভাইকে অপহরণ, তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক অর্থ নিয়ে যাওয়া এবং মুক্তিপণ দাবি করার মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। এর পর মামলা দায়ের করায় বাদী ও তার ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো এবং মামলার সাক্ষীদের হয়রানি করার অভিযোগ আরও বেশি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এসএসপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনাটিকে কোনো ভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যার হুমকি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার কিংবা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ, প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, সাংবাদিক আব্দুল মান্নান এবং মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সাংবাদিক সমাজকে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রাব) সভাপতি মো. কাদের মনসুরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, একজন নাগরিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা, মামলা দায়েরের পর বাদী ও তার স্বজনদের হুমকি দেওয়া এবং সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, এসব অভিযোগ কোনো ভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রভাব যেন আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন ন্যায়বিচার পাবে, তেমনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিও মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী কিংবা অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ঝিনাইদহে ব্যবসায়ীকে চাঁদা ও জমি দখলের হুমকির অভিযোগ ফেনীতে কৃষকদল নেতা আমিনুল হক বহিষ্কার