খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩

কড়া জনগোষ্ঠীর জীবনদর্শন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
কড়া জনগোষ্ঠীর জীবনদর্শন

চন্দন কুমার লাহিড়ী:

মানুষের জীবন মূলত তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে – আবেগ, যুক্তি ও মন। এই তিনের ভারসাম্যেই ব্যক্তি ও সমাজের চরিত্র গড়ে ওঠে। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার মানুষ এই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে বলেই হয়তো আজ চারদিকে অস্থিরতা, প্রতিযোগিতা আর হিংস্রতার বিস্তার। আবেগ এখানে ভোগের দিকে ধাবিত হয়, যুক্তি পরিণত হয় হিসাবি স্বার্থে, আর মন হয়ে ওঠে দ্বন্দ্বে ভরা এক যুদ্ধক্ষেত্র। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে যদি আমরা এমন কোনো জনগোষ্ঠীর দিকে তাকাই, যাদের জীবনে এই তিন উপাদান এখনও স্বাভাবিক ছন্দে প্রবাহিত তবে তাদের জীবন আমাদের কাছে হয়ে ওঠে এক নীরব প্রশ্ন। কড়া জনগোষ্ঠী ঠিক তেমনই এক প্রশ্নচিহ্ন। এই প্রশ্নচিহ্নের বাস্তব রূপ খুবই ছোট ও সীমিত। চব্বিশটি পরিবার। ছোট্ট একটি পাড়া। একশত দুইজন মানুষ। পাশে মাত্র একটি স্কুল এই নিয়েই তাদের পৃথিবী। আমি বলছি কড়া সম্প্রদায়ের মানুষদের কথা। কোড়া (কুডা, কুরা, কাওড়া, ধাঙ্গর, ধাঙ্গের নামেও পরিচিত) নামে ভিন্নতা থাকলেও অস্তিত্বের সংকট এক ও অভিন্ন। বাংলাদেশে কড়া (Kora) সম্প্রদায়ের মানুষেরা মূলত ১৯শ শতাব্দীর শেষার্ধে ব্রিটিশ শাসন আমলে শ্রমজীবী হিসেবে এ দেশে আসেন । ব্রিটিশ শাসনামলে ঝাড়খণ্ড ও ছোটনাগপুর অঞ্চল থেকে কড়া মানুষদের নিয়ে আসা হয়েছিল মূলত রেলপথের কাজ করার জন্য । এছাড়াও ‘কড়া’ শব্দটি মুন্ডারি শব্দ ‘কুদা’ (Kuda) থেকে এসেছে, যার অর্থ মাটি খনন করা । মাটি কাটার কাজে তাদের বিশেষ পারদর্শিতা থাকায় ব্রিটিশরা মতান্তরে দিনাজপুরের মহারাজ তাদের এ অঞ্চলের অবকাঠামো (Infrastructure) উন্নয়নে শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করে। কড়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের একটি বিপন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী। বিপন্নতা মানে কেবল দারিদ্র্য নয়; বিপন্নতা মানে এমন এক অবস্থায় পৌঁছানো, যেখানে একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ একসঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়ে। ঝুঁকি নিয়েই তাদের এগিয়ে চলে। ধর্ম পরিচয়ের ক্ষ্রেত্রে তারা নিজেদের প্রকৃতিবাদী বলে নিজেদের পরিচয় দেন। কর্মা (Karam) উৎসব কড়া সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যা ভাদ্র মাসের শুক্ল একাদশীতে পালিত হয়, যেখানে ‘করম’ গাছের ডাল কেটে শক্তি, যৌবন ও সমৃদ্ধির দেবতা করম দেবতাকে পূজা করা হয়; এই উৎসবে নাচ-গান, উপবাস এবং ‘খিল কদম’ গাছের ডাল পূজার বিশেষ রীতি প্রচলিত আছে, যা প্রকৃতির সাথে মানুষের বন্ধন ও উর্বরতার প্রতীক। নিজেদের মধ্যেকার বন্ধন অটুট হলেও প্রতিবেশী বাংগালি অংশের সাথে দুরত্ব ঘোঁচানো সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের সকল সম্পদায়ের সাথে শক্ত বন্ধন গড়ে ওঠেনি।
এই বিপন্নতার পেছনে রয়েছে একাধিক স্তরের বঞ্চনা। কড়া জনগোষ্ঠী কেবল সংখ্যালঘু নয় সংখ্যালঘুতারও নিচের এক অদৃশ্য স্তরে তারা অবস্থান করে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু পরিচয়ের ওপর যুক্ত হয়েছে ভিন্ন ভাষা, ক্ষুদ্র সংখ্যা এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অভাব। জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের কথা শোনা গেলেও দেশের আইন-বিধান কিংবা নাগরিক সভ্যতার কোনো কার্যকর রক্ষাকবচ তাদের জন্য বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলেই তারা হারিয়েছে জমি, ব্যবসা, সঞ্চিত অর্থ অবশিষ্ট আছে কেবল সামান্য ভিটেমাটি, তাও উচ্ছেদের হুমকিতে। কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে বিসর্জন দিয়েছেন পূর্বপুরুষের ধর্ম ও পরিচয়, মূলধারায় যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু নাগরিক জীবনে সেই আত্মসমর্পণ কোনো বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারেনি। অবস্থা পাল্টায়নি রয়েছে একই রকম। বলে রাখা ভাল যে, বাংলাদেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ধর্ম ত্যাগ বা ধর্মান্তরের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও বহুমাত্রিক। এটি কোনো একক সিদ্ধান্তের ফল নয়; বরং ভূমি অধিকার হারানো, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রান্তিকতা, প্রভাবশালী মূলধারার সংস্কৃতির আধিপত্য এবং কখনও কখনও প্রত্যক্ষ চাপ বা সহিংসতার মতো বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এসব কারণে অনেক আদিবাসী মানুষ দেশত্যাগের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ধর্ম ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস থেকে সরে এসে খ্রিস্টধর্ম— কখনো কখনো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন বা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এই ধর্মান্তরের প্রক্রিয়াটি মূলত টিকে থাকার সংগ্রাম এবং পরিচিতিগত সংকটের বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর গভীর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা বিশেষভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। বাংলাদেশের আদীবাসী অঞ্চলসমূহে মিশনারী সংগঠন সমূহ মানবিক সহায়তার কথা বলে ধর্মান্তরিত করেন বলে অভিযোগ আছে। ফলে ক্রমান্নয়ে হারিয়ে যাচ্ছে, আদীবাসী ধর্ম, শিক্ষা,সংস্কৃতি, কালচার, আদীবাসী সমাজের দার্শনিক ও সামাজিক দৃস্টিভংগি।
এই বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে তাদের জৌলসহীন কিন্তু প্রকৃতিবান্ধব জীবন। আমাদের তথাকথিত -সভ্য চোখে এই জীবন মানবেতর মনে হয়। কিন্তু কাছে গিয়ে দাঁড়ালে দেখা যায় ভিন্ন এক বাস্তবতা। অভাবের ভেতরেও সেখানে রয়েছে এক অপার প্রশান্তি। হাসি আছে, বিশ্বাস আছে, একে অপরের প্রতি নির্ভরতা আছে। এই বৈপরীত্য আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে কারণ ক্ষুধা, দারিদ্র্য, পাওয়া-না-পাওয়ার দোলাচলে আমাদের মন যতটা ব্যাকুল হয়ে ওঠে, কড়াদের হৃদয় ঠিক ততটাই শান্ত। অবিচল। ঝিরঝির করে বয়ে যাওয়া শান্ত নদীর মত, অবিরাম বয়ে চলে। যা জীবন এবং সময়ের নিরন্তর প্রবাহকে বোঝায় কোনো কিছুই স্থির নয়, সবকিছুই পরিবর্তনশীল। যেমন হেরাক্লিটাস বলেছিলেন যে “আপনি একই নদীতে দুবার পা রাখতে পারবেন না”। ঠিক তেমনি কড়াদের জীবন। তাদের দর্শন। অন্যদিকে লোকায়ত দর্শনে আদিবাসীদের মন ধারনাটি তাদের প্রথাগত বিশ্বাস, প্রকৃতি-কেন্দ্রিক জীবনধারা, মৌখিক ঐতিহ্য (লোককথা, মিথ, উপকথা), এবং জগৎ সম্পর্কে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, যা মূলত তাদের পরিবেশ ও জীবন সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; যেখানে প্রকৃতি, আত্মা, পূর্বপুরুষ এবং সামাজিক সম্পর্কই তাদের worldview-এর মূল ভিত্তি, যা আধুনিক দর্শনের চেয়ে ভিন্ন এবং নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত হয়। সুতরাং জনজীবনের সাথে কড়াদের মন এবং মননে এই লোকায়ত ধারা বহমান। এছাড়া এই পার্থক্যের মূল নিহিত আছে মনের গঠনে। মূলধারার মানুষের মন গড়ে ওঠে সচেতন, প্রাক্‌-সচেতন ও অবচেতনের জটিল দ্বন্দ্বে যেখানে লোভ, লালসা, প্রতিযোগিতা ও ভোগবাদিতা প্রতিনিয়ত বাসা বাঁধে। এরই প্রতিফলন দেখা যায় ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে। ভোগবাদিতা, দখল ও বেদখলের মানসিকতা মানুষের মনকে অস্থির করে তোলে, ভেঙে পড়ে সমাজ, মানুষ, প্রাণী, পরিবেশ ও প্রতিবেশ। শ্রেণিবিভেদ ও বৈষম্য পাকাপোক্ত হয়ে বসে। অথচ এই নাগরিক দোলাচল কড়াদের জীবনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। কারণ তাদের মনজগৎ গড়ে উঠেছে প্রকৃতিবাদী জীবনদর্শনের ওপর। প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং সহাবস্থান এই নীতিতেই তারা অভ্যস্ত। তাদের মন যেন এক সন্ন্যাসীর হৃদয় যেখানে চাওয়া সীমিত, প্রত্যাশা সংযত, আর গ্রহণযোগ্যতা গভীর। এই দর্শনের বাস্তব রূপ দেখা যায় বাংলাদেশের দিনাজপুরের বিরল উপজেলার শালবনের পাশের ছোট্ট গ্রাম ঝিনাইকুড়িতে দেশের একেবারে প্রান্তে, ভারতের সীমান্তঘেঁষা এক অদৃশ্য মানচিত্রে। এই প্রকৃতিবাদী মনোভাব কেবল তাদের ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়; দীর্ঘদিন ধরে তা তাদের শ্রম, জীবিকা ও সামাজিক আচরণের ভেতরেও গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে আছে। প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এই দর্শন থেকেই গড়ে উঠেছিল তাদের ঐতিহ্যবাহী কর্মসংস্কৃতি যেখানে শ্রম ছিল সম্মিলিত, মর্যাদা ছিল আত্মসম্মানের, আর জীবন ছিল স্বাধীনতার অন্বেষায় নিবদ্ধ। এই দৃষ্টিভঙ্গির নৃতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায় তাদের সাংস্কৃতিক প্রকাশভঙ্গিতেও।
ভারতের বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের গবেষক অমিত কুম্ভকার -কোড়া জনজাতির আদিবাস ভূমি ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় শীর্ষক-১ আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, কোড়া সম্প্রদায়ের পরিচয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় তাদের বংশপরম্পরায় প্রবাহমান সমবেত সংগীত বিশেষত ঝুমুর গানের মাধ্যমে। সমবেত কণ্ঠে গীত এই গানগুলো কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং তা তাদের জীবনদর্শন, শ্রমনৈতিকতা ও সামাজিক অবস্থানের মৌখিক দলিল। ঝুমুর গানের কথায় উঠে আসে জাতপাতের অস্বীকার, ক্ষমতার প্রতি অনাসক্তি, স্বাধীনভাবে বসতি গড়ার আকাঙ্ক্ষা এবং শ্রমনির্ভর আত্মমর্যাদার ঘোষণা-

পরোয়া করি না উঁচু জাত পাত, পদসেবা কারো করবো না
নোয়াবোনো মাথা, ঝড়ে ঝঞ্জায় নাগপুর নয় চলে যাব
সাথে নেব ঝুড়ি, কোদাল গাইতি, খড়গপুরে তুলব বসতি
বাটি বাটি মদ ছেলে আর বড় মাথা উঁচু করে থাকবো।

এই গান কড়াদের কেবল সাংস্কৃতিক পরিচয় নয়, বরং তাদের মন, যুক্তি ও আবেগের সম্মিলিত প্রকাশ যেখানে স্বাধীনতা, সহাবস্থান এবং আত্মসম্মান একসঙ্গে মূর্ত হয়ে ওঠে। প্রকৃতির রূপ বদলে দেওয়া নয়, বরং তাকে টিকিয়ে রেখে মানুষের প্রয়োজন মেটানোই ছিল তাদের শ্রমের মূল দর্শন। তাই তাদের পূর্বপুরুষেরা দেশত্যাগ করে বা নিজেদের ভিটেমাটি ফেলে আবাস গড়ে তুলেছেন এখানে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পেশাগত কাঠামোর পরিবর্তন ঘটেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ঐতিহ্যবাহী পেশা সংকুচিত হয়েছে, এবং বর্তমানে তারা মূলত পশুপালন, কৃষিশ্রমিক বা দিনমজুর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছে যেখানে শ্রম আছে, কিন্তু মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। এই প্রান্তিক অবস্থান তাদের জীবনের প্রতিদিনের বাস্তবতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আধপেটা খেয়ে থাকা তারা শিখে গেছে। ক্ষুধার সঙ্গে সহাবস্থান তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। পরিবার সমুহের এমাত্র ছেলে সন্তান যার নাম লাপোল, সে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগে অধ্যায়নরত। বেসরকারি উদ্যোগে এই এলাকায় একটি স্কুল পরিচালনা করছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী।

সরু পাকা রাস্তার পাশে আধা-পাকা ঘরে তাদের নিবাস। সরকার ঘর দিয়েছে বিনামূল্যে, কিন্তু পেটের আহারের জন্য প্রতিদিনের সংগ্রাম থেমে থাকেনি। তবু এই সংগ্রাম তাদের মন ভাঙতে পারেনি। সমাজের মূলধারায় বাস করেও তারা তাদের জীবনমানে এর কোন প্রভাব ফেলতে দেয়নি। এখানেই কড়াদের যুক্তিবোধ আমাদের নতুন করে ভাবায়। তারা প্রাতিষ্ঠানিক বা বই-পড়া যুক্তিতে বিশ্বাসী না হলেও তাদের জীবনযাপনে রয়েছে এক গভীর ব্যবহারিক যুক্তি সীমিত সম্পদে টিকে থাকার যুক্তি, প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলার যুক্তি, আজকের ক্ষুধাকে আগামী দিনের সঙ্গে মেলানোর যুক্তি। যেখানে মূলধারার মানুষের যুক্তি বলে -আরও চাই, সেখানে কড়াদের যুক্তি বলে-যা আছে, তাই যথেষ্ট। আর এই যুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক স্থির মন। ভোগবাদী সমাজে মন ক্রমাগত তুলনা, প্রতিযোগিতা, হিংসা ও নিরাপত্তাহীনতায় জর্জরিত হয়। কিন্তু কড়াদের মন প্রকৃতির ছন্দে বাঁধা। তাদের মন জানে সূর্য উঠবে, অস্ত যাবে; বৃষ্টি আসবে, যাবে; সুখ-দুঃখ আসবে, যাবে। এই অনিত্যতার বোধই তাদের মনকে স্থির রাখে। তাই অভাব তাদের মনকে ভাঙে না, বরং সহনশীল করে তোলে। সাহসী করে তোলে। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। এ যেন জীবনকে নিয়ে চুপিচুপি নির্বাণের পথে হাটা। এই কারণেই তথাকথিত সভ্য সমাজের চোখে তারা পিছিয়ে পড়া হলেও, মানসিক স্থিতি ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা অনেক এগিয়ে। কড়া জনগোষ্ঠীর জীবন আমাদের শেখায় উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো (Infrastructure) বা আয়ের হিসাব নয়; মানুষের মন কতটা শান্ত, আবেগ কতটা মানবিক এবং যুক্তি কতটা ন্যায্য সেই প্রশ্নগুলোই আসল। অতএব কড়া জনগোষ্ঠীর বিপন্নতা (Vulnerability) কেবল একটি জনগোষ্ঠীর বিলুপ্তির আশঙ্কা নয়; এটি আমাদের এক প্রাচীন এবং অতীব প্রয়োজনীয় মানবিক দর্শনের হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও বটে।

লেখক পরিচিতি: মুক্ত লেখক ও অধিকার কর্মী,
Email: laherichandan@gmail.com
তথ্যসুত্র।
১, কোড়া জনজাতির আদিবাস ভূমি ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় । অমিত কুম্ভকার, ভারতের বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের গবেষক । Pratidhwani the Echo A Peer-Reviewed International Journal of Humanities & Social Science. Volume-IX, Issue-II, January 2021, Page No.42-49 Published by Dept. of Bengali, Karimganj College, Karimganj, Assam, India Website: http://www.thecho.in

২. বিভিন্ন সংবাদপত্র

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের প্রয়াত ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মালিতার পরিবারের জমিজমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত বুধবার ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তাঁর একমাত্র পুত্র ও মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ।

সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের পৌরসভা গেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন আনোয়ারুজ্জামান আজাদ। তাঁর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে তাঁর ইন্টারনেট ব্যবসা ও জমিজমার ওপর স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর নজর পড়ে। ওই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল মোল্ল্যা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আমি আমার পরিবারের একমাত্র সন্তান। উত্তরাধিকারসূত্রে বেশ কিছু মূল্যবান সম্পত্তি পেয়েছি। আমার অভিযোগ, কাজলসহ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নজর এসব সম্পত্তির ওপর পড়েছে। তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে আমার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আমি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

অভিযোগের বিষয়ে কাজল মোল্ল্যার বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাউদজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার  উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে  ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ প্রতিনিধ:

**সম্পুর্ন অরাজনৈতিক দ্বীনি আধ্যাত্মিক সংগঠন মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মাহফিলে প্রবাসী রাজনীতিবিদ আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ**

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে মদিনার জামাত, মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে মালদ্বীপের রাজধানী মালের সি বিল্ডিং অডিটোরিয়ামে এ ওয়াজ,দোয়া মাহফিল ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার আয়োজিত এ মাহফিলে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার আহ্বায়ক মোঃ আল আমিন এর পরিচালনায় মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরে কুরআন এবং বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও দেশ টিভির ইসলামিক আলোচক আলহাজ হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মহসিন কবীর ইউছুফী,পীর সাহেব মদিনার জামাত কদমতলী শাহী দরবার শরীফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ খলিলুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সভাপতি, মালদ্বীপ বিএনপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপ বি এন পির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম, মালদ্বীপ বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ নেহের মিয়া রানা, সহ-সভাপতি, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, সহ-সভাপতি; মোঃ মুক্তার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরীফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান কালাম
সহ সাংগঠনিক আবুল কালাম আজাদ, ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক মিয়া বি- বাড়িয়া সংগঠন, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মোঃ আলমগীর সিকদার।
মালদ্বীপস্থ ঢাকা ট্রেডার্সসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত মাহফিলে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনের সমন্বয়ে মাহফিলে আরো
উপস্থিত ছিলেন মোঃ আরিফুর ইসলাম, সভাপতি পদপ্রার্থী মালদ্বীপ যুবদল, মোঃ মাসুদ মুন্না আহ্বায়ক, স্বেচ্ছাসেবক দল মালদ্বীপ শাখা এবং মোঃ আবু আহমেদ সেলিম মিয়া, প্রবাসী ব্যবসায়ী, মালদ্বীপ।

আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ নুরুন্নবী মানিক,ব্যবসায়ী মো হারুন মিয়া মোঃ মাহফুজুর রহমান মোঃ রমো মিয়া, মোঃ জানে আলম সুন্নী ও মোঃ হাফিজুর রহমান ।
মাহফিলে কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা পেশ করেন হযরত মাওলানা মোঃ মাসুম বিল্লাহ, হযরত মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ ইসরাফিল হোসেন, হযরত মাওলানা মোঃ আঃ হান্নান, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ রিফাতুল ইসলাম এবং মোঃ ইসমাইল হোসেন, খাদেম, মদিনার জামাত মালদ্বীপ ও মোঃ নুরুল আমিন সুন্নি ।

মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা প্রবাসী জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে মালদ্বীপে বসবাসরত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সবশেষে সকল কবর বাসী, দেশ জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নানের ভাই আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে পূর্বশত্রুতার জেরে অপহরণ, সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী নিজ ব্যবসায়িক কাজে অবস্থানকালে পূর্বশত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা তৎপর হয়ে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তাদের সহযোগিতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকেই তাকে এবং তার ভাই সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান কে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী, ১ নং বিবাদী দেলোয়ার হোসেন টুকু, ২ নং বিবাদী মোঃ সবুজ, ইতিমধ্যে ঘটনার জেরে বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা ৩নং বিবাদী মোঃ আমিনুল হক গং দের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও পেশাগত ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুধু ভুক্তভোগী ও তার ভাইকে হুমকি দেওয়ার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর দায়ের করা মামলার সাক্ষীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি, চাপ সৃষ্টি এবং ভিন্ন পন্থায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার সাক্ষীরা যাতে নিরপেক্ষ ভাবে তাদের বক্তব্য দিতে না পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত হয়, সে উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ কারীদের দাবি। তারা বলেন, কোনো মামলার বাদী, তার পরিবার কিংবা সাক্ষীদের ওপর চাপ বা হুমকি সৃষ্টি করা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ। এক প্রতিবাদ বার্তায় তারা বলেন, একজন সাংবাদিক নেতার ভাইকে অপহরণ, তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক অর্থ নিয়ে যাওয়া এবং মুক্তিপণ দাবি করার মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। এর পর মামলা দায়ের করায় বাদী ও তার ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো এবং মামলার সাক্ষীদের হয়রানি করার অভিযোগ আরও বেশি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এসএসপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনাটিকে কোনো ভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যার হুমকি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার কিংবা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ, প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, সাংবাদিক আব্দুল মান্নান এবং মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সাংবাদিক সমাজকে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রাব) সভাপতি মো. কাদের মনসুরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, একজন নাগরিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা, মামলা দায়েরের পর বাদী ও তার স্বজনদের হুমকি দেওয়া এবং সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, এসব অভিযোগ কোনো ভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রভাব যেন আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন ন্যায়বিচার পাবে, তেমনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিও মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী কিংবা অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ঝিনাইদহে ব্যবসায়ীকে চাঁদা ও জমি দখলের হুমকির অভিযোগ ফেনীতে কৃষকদল নেতা আমিনুল হক বহিষ্কার