খুঁজুন
, ,

কড়া জনগোষ্ঠীর জীবনদর্শন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
কড়া জনগোষ্ঠীর জীবনদর্শন

চন্দন কুমার লাহিড়ী:

মানুষের জীবন মূলত তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে – আবেগ, যুক্তি ও মন। এই তিনের ভারসাম্যেই ব্যক্তি ও সমাজের চরিত্র গড়ে ওঠে। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার মানুষ এই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে বলেই হয়তো আজ চারদিকে অস্থিরতা, প্রতিযোগিতা আর হিংস্রতার বিস্তার। আবেগ এখানে ভোগের দিকে ধাবিত হয়, যুক্তি পরিণত হয় হিসাবি স্বার্থে, আর মন হয়ে ওঠে দ্বন্দ্বে ভরা এক যুদ্ধক্ষেত্র। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে যদি আমরা এমন কোনো জনগোষ্ঠীর দিকে তাকাই, যাদের জীবনে এই তিন উপাদান এখনও স্বাভাবিক ছন্দে প্রবাহিত তবে তাদের জীবন আমাদের কাছে হয়ে ওঠে এক নীরব প্রশ্ন। কড়া জনগোষ্ঠী ঠিক তেমনই এক প্রশ্নচিহ্ন। এই প্রশ্নচিহ্নের বাস্তব রূপ খুবই ছোট ও সীমিত। চব্বিশটি পরিবার। ছোট্ট একটি পাড়া। একশত দুইজন মানুষ। পাশে মাত্র একটি স্কুল এই নিয়েই তাদের পৃথিবী। আমি বলছি কড়া সম্প্রদায়ের মানুষদের কথা। কোড়া (কুডা, কুরা, কাওড়া, ধাঙ্গর, ধাঙ্গের নামেও পরিচিত) নামে ভিন্নতা থাকলেও অস্তিত্বের সংকট এক ও অভিন্ন। বাংলাদেশে কড়া (Kora) সম্প্রদায়ের মানুষেরা মূলত ১৯শ শতাব্দীর শেষার্ধে ব্রিটিশ শাসন আমলে শ্রমজীবী হিসেবে এ দেশে আসেন । ব্রিটিশ শাসনামলে ঝাড়খণ্ড ও ছোটনাগপুর অঞ্চল থেকে কড়া মানুষদের নিয়ে আসা হয়েছিল মূলত রেলপথের কাজ করার জন্য । এছাড়াও ‘কড়া’ শব্দটি মুন্ডারি শব্দ ‘কুদা’ (Kuda) থেকে এসেছে, যার অর্থ মাটি খনন করা । মাটি কাটার কাজে তাদের বিশেষ পারদর্শিতা থাকায় ব্রিটিশরা মতান্তরে দিনাজপুরের মহারাজ তাদের এ অঞ্চলের অবকাঠামো (Infrastructure) উন্নয়নে শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করে। কড়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের একটি বিপন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী। বিপন্নতা মানে কেবল দারিদ্র্য নয়; বিপন্নতা মানে এমন এক অবস্থায় পৌঁছানো, যেখানে একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ একসঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়ে। ঝুঁকি নিয়েই তাদের এগিয়ে চলে। ধর্ম পরিচয়ের ক্ষ্রেত্রে তারা নিজেদের প্রকৃতিবাদী বলে নিজেদের পরিচয় দেন। কর্মা (Karam) উৎসব কড়া সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যা ভাদ্র মাসের শুক্ল একাদশীতে পালিত হয়, যেখানে ‘করম’ গাছের ডাল কেটে শক্তি, যৌবন ও সমৃদ্ধির দেবতা করম দেবতাকে পূজা করা হয়; এই উৎসবে নাচ-গান, উপবাস এবং ‘খিল কদম’ গাছের ডাল পূজার বিশেষ রীতি প্রচলিত আছে, যা প্রকৃতির সাথে মানুষের বন্ধন ও উর্বরতার প্রতীক। নিজেদের মধ্যেকার বন্ধন অটুট হলেও প্রতিবেশী বাংগালি অংশের সাথে দুরত্ব ঘোঁচানো সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের সকল সম্পদায়ের সাথে শক্ত বন্ধন গড়ে ওঠেনি।
এই বিপন্নতার পেছনে রয়েছে একাধিক স্তরের বঞ্চনা। কড়া জনগোষ্ঠী কেবল সংখ্যালঘু নয় সংখ্যালঘুতারও নিচের এক অদৃশ্য স্তরে তারা অবস্থান করে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু পরিচয়ের ওপর যুক্ত হয়েছে ভিন্ন ভাষা, ক্ষুদ্র সংখ্যা এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অভাব। জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের কথা শোনা গেলেও দেশের আইন-বিধান কিংবা নাগরিক সভ্যতার কোনো কার্যকর রক্ষাকবচ তাদের জন্য বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলেই তারা হারিয়েছে জমি, ব্যবসা, সঞ্চিত অর্থ অবশিষ্ট আছে কেবল সামান্য ভিটেমাটি, তাও উচ্ছেদের হুমকিতে। কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে বিসর্জন দিয়েছেন পূর্বপুরুষের ধর্ম ও পরিচয়, মূলধারায় যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু নাগরিক জীবনে সেই আত্মসমর্পণ কোনো বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারেনি। অবস্থা পাল্টায়নি রয়েছে একই রকম। বলে রাখা ভাল যে, বাংলাদেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ধর্ম ত্যাগ বা ধর্মান্তরের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও বহুমাত্রিক। এটি কোনো একক সিদ্ধান্তের ফল নয়; বরং ভূমি অধিকার হারানো, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রান্তিকতা, প্রভাবশালী মূলধারার সংস্কৃতির আধিপত্য এবং কখনও কখনও প্রত্যক্ষ চাপ বা সহিংসতার মতো বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এসব কারণে অনেক আদিবাসী মানুষ দেশত্যাগের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ধর্ম ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস থেকে সরে এসে খ্রিস্টধর্ম— কখনো কখনো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন বা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এই ধর্মান্তরের প্রক্রিয়াটি মূলত টিকে থাকার সংগ্রাম এবং পরিচিতিগত সংকটের বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর গভীর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা বিশেষভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। বাংলাদেশের আদীবাসী অঞ্চলসমূহে মিশনারী সংগঠন সমূহ মানবিক সহায়তার কথা বলে ধর্মান্তরিত করেন বলে অভিযোগ আছে। ফলে ক্রমান্নয়ে হারিয়ে যাচ্ছে, আদীবাসী ধর্ম, শিক্ষা,সংস্কৃতি, কালচার, আদীবাসী সমাজের দার্শনিক ও সামাজিক দৃস্টিভংগি।
এই বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে তাদের জৌলসহীন কিন্তু প্রকৃতিবান্ধব জীবন। আমাদের তথাকথিত -সভ্য চোখে এই জীবন মানবেতর মনে হয়। কিন্তু কাছে গিয়ে দাঁড়ালে দেখা যায় ভিন্ন এক বাস্তবতা। অভাবের ভেতরেও সেখানে রয়েছে এক অপার প্রশান্তি। হাসি আছে, বিশ্বাস আছে, একে অপরের প্রতি নির্ভরতা আছে। এই বৈপরীত্য আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে কারণ ক্ষুধা, দারিদ্র্য, পাওয়া-না-পাওয়ার দোলাচলে আমাদের মন যতটা ব্যাকুল হয়ে ওঠে, কড়াদের হৃদয় ঠিক ততটাই শান্ত। অবিচল। ঝিরঝির করে বয়ে যাওয়া শান্ত নদীর মত, অবিরাম বয়ে চলে। যা জীবন এবং সময়ের নিরন্তর প্রবাহকে বোঝায় কোনো কিছুই স্থির নয়, সবকিছুই পরিবর্তনশীল। যেমন হেরাক্লিটাস বলেছিলেন যে “আপনি একই নদীতে দুবার পা রাখতে পারবেন না”। ঠিক তেমনি কড়াদের জীবন। তাদের দর্শন। অন্যদিকে লোকায়ত দর্শনে আদিবাসীদের মন ধারনাটি তাদের প্রথাগত বিশ্বাস, প্রকৃতি-কেন্দ্রিক জীবনধারা, মৌখিক ঐতিহ্য (লোককথা, মিথ, উপকথা), এবং জগৎ সম্পর্কে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, যা মূলত তাদের পরিবেশ ও জীবন সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; যেখানে প্রকৃতি, আত্মা, পূর্বপুরুষ এবং সামাজিক সম্পর্কই তাদের worldview-এর মূল ভিত্তি, যা আধুনিক দর্শনের চেয়ে ভিন্ন এবং নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত হয়। সুতরাং জনজীবনের সাথে কড়াদের মন এবং মননে এই লোকায়ত ধারা বহমান। এছাড়া এই পার্থক্যের মূল নিহিত আছে মনের গঠনে। মূলধারার মানুষের মন গড়ে ওঠে সচেতন, প্রাক্‌-সচেতন ও অবচেতনের জটিল দ্বন্দ্বে যেখানে লোভ, লালসা, প্রতিযোগিতা ও ভোগবাদিতা প্রতিনিয়ত বাসা বাঁধে। এরই প্রতিফলন দেখা যায় ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে। ভোগবাদিতা, দখল ও বেদখলের মানসিকতা মানুষের মনকে অস্থির করে তোলে, ভেঙে পড়ে সমাজ, মানুষ, প্রাণী, পরিবেশ ও প্রতিবেশ। শ্রেণিবিভেদ ও বৈষম্য পাকাপোক্ত হয়ে বসে। অথচ এই নাগরিক দোলাচল কড়াদের জীবনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। কারণ তাদের মনজগৎ গড়ে উঠেছে প্রকৃতিবাদী জীবনদর্শনের ওপর। প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং সহাবস্থান এই নীতিতেই তারা অভ্যস্ত। তাদের মন যেন এক সন্ন্যাসীর হৃদয় যেখানে চাওয়া সীমিত, প্রত্যাশা সংযত, আর গ্রহণযোগ্যতা গভীর। এই দর্শনের বাস্তব রূপ দেখা যায় বাংলাদেশের দিনাজপুরের বিরল উপজেলার শালবনের পাশের ছোট্ট গ্রাম ঝিনাইকুড়িতে দেশের একেবারে প্রান্তে, ভারতের সীমান্তঘেঁষা এক অদৃশ্য মানচিত্রে। এই প্রকৃতিবাদী মনোভাব কেবল তাদের ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়; দীর্ঘদিন ধরে তা তাদের শ্রম, জীবিকা ও সামাজিক আচরণের ভেতরেও গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে আছে। প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এই দর্শন থেকেই গড়ে উঠেছিল তাদের ঐতিহ্যবাহী কর্মসংস্কৃতি যেখানে শ্রম ছিল সম্মিলিত, মর্যাদা ছিল আত্মসম্মানের, আর জীবন ছিল স্বাধীনতার অন্বেষায় নিবদ্ধ। এই দৃষ্টিভঙ্গির নৃতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায় তাদের সাংস্কৃতিক প্রকাশভঙ্গিতেও।
ভারতের বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের গবেষক অমিত কুম্ভকার -কোড়া জনজাতির আদিবাস ভূমি ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় শীর্ষক-১ আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, কোড়া সম্প্রদায়ের পরিচয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় তাদের বংশপরম্পরায় প্রবাহমান সমবেত সংগীত বিশেষত ঝুমুর গানের মাধ্যমে। সমবেত কণ্ঠে গীত এই গানগুলো কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং তা তাদের জীবনদর্শন, শ্রমনৈতিকতা ও সামাজিক অবস্থানের মৌখিক দলিল। ঝুমুর গানের কথায় উঠে আসে জাতপাতের অস্বীকার, ক্ষমতার প্রতি অনাসক্তি, স্বাধীনভাবে বসতি গড়ার আকাঙ্ক্ষা এবং শ্রমনির্ভর আত্মমর্যাদার ঘোষণা-

পরোয়া করি না উঁচু জাত পাত, পদসেবা কারো করবো না
নোয়াবোনো মাথা, ঝড়ে ঝঞ্জায় নাগপুর নয় চলে যাব
সাথে নেব ঝুড়ি, কোদাল গাইতি, খড়গপুরে তুলব বসতি
বাটি বাটি মদ ছেলে আর বড় মাথা উঁচু করে থাকবো।

এই গান কড়াদের কেবল সাংস্কৃতিক পরিচয় নয়, বরং তাদের মন, যুক্তি ও আবেগের সম্মিলিত প্রকাশ যেখানে স্বাধীনতা, সহাবস্থান এবং আত্মসম্মান একসঙ্গে মূর্ত হয়ে ওঠে। প্রকৃতির রূপ বদলে দেওয়া নয়, বরং তাকে টিকিয়ে রেখে মানুষের প্রয়োজন মেটানোই ছিল তাদের শ্রমের মূল দর্শন। তাই তাদের পূর্বপুরুষেরা দেশত্যাগ করে বা নিজেদের ভিটেমাটি ফেলে আবাস গড়ে তুলেছেন এখানে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পেশাগত কাঠামোর পরিবর্তন ঘটেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ঐতিহ্যবাহী পেশা সংকুচিত হয়েছে, এবং বর্তমানে তারা মূলত পশুপালন, কৃষিশ্রমিক বা দিনমজুর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছে যেখানে শ্রম আছে, কিন্তু মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। এই প্রান্তিক অবস্থান তাদের জীবনের প্রতিদিনের বাস্তবতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আধপেটা খেয়ে থাকা তারা শিখে গেছে। ক্ষুধার সঙ্গে সহাবস্থান তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। পরিবার সমুহের এমাত্র ছেলে সন্তান যার নাম লাপোল, সে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগে অধ্যায়নরত। বেসরকারি উদ্যোগে এই এলাকায় একটি স্কুল পরিচালনা করছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী।

সরু পাকা রাস্তার পাশে আধা-পাকা ঘরে তাদের নিবাস। সরকার ঘর দিয়েছে বিনামূল্যে, কিন্তু পেটের আহারের জন্য প্রতিদিনের সংগ্রাম থেমে থাকেনি। তবু এই সংগ্রাম তাদের মন ভাঙতে পারেনি। সমাজের মূলধারায় বাস করেও তারা তাদের জীবনমানে এর কোন প্রভাব ফেলতে দেয়নি। এখানেই কড়াদের যুক্তিবোধ আমাদের নতুন করে ভাবায়। তারা প্রাতিষ্ঠানিক বা বই-পড়া যুক্তিতে বিশ্বাসী না হলেও তাদের জীবনযাপনে রয়েছে এক গভীর ব্যবহারিক যুক্তি সীমিত সম্পদে টিকে থাকার যুক্তি, প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলার যুক্তি, আজকের ক্ষুধাকে আগামী দিনের সঙ্গে মেলানোর যুক্তি। যেখানে মূলধারার মানুষের যুক্তি বলে -আরও চাই, সেখানে কড়াদের যুক্তি বলে-যা আছে, তাই যথেষ্ট। আর এই যুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক স্থির মন। ভোগবাদী সমাজে মন ক্রমাগত তুলনা, প্রতিযোগিতা, হিংসা ও নিরাপত্তাহীনতায় জর্জরিত হয়। কিন্তু কড়াদের মন প্রকৃতির ছন্দে বাঁধা। তাদের মন জানে সূর্য উঠবে, অস্ত যাবে; বৃষ্টি আসবে, যাবে; সুখ-দুঃখ আসবে, যাবে। এই অনিত্যতার বোধই তাদের মনকে স্থির রাখে। তাই অভাব তাদের মনকে ভাঙে না, বরং সহনশীল করে তোলে। সাহসী করে তোলে। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। এ যেন জীবনকে নিয়ে চুপিচুপি নির্বাণের পথে হাটা। এই কারণেই তথাকথিত সভ্য সমাজের চোখে তারা পিছিয়ে পড়া হলেও, মানসিক স্থিতি ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা অনেক এগিয়ে। কড়া জনগোষ্ঠীর জীবন আমাদের শেখায় উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো (Infrastructure) বা আয়ের হিসাব নয়; মানুষের মন কতটা শান্ত, আবেগ কতটা মানবিক এবং যুক্তি কতটা ন্যায্য সেই প্রশ্নগুলোই আসল। অতএব কড়া জনগোষ্ঠীর বিপন্নতা (Vulnerability) কেবল একটি জনগোষ্ঠীর বিলুপ্তির আশঙ্কা নয়; এটি আমাদের এক প্রাচীন এবং অতীব প্রয়োজনীয় মানবিক দর্শনের হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও বটে।

লেখক পরিচিতি: মুক্ত লেখক ও অধিকার কর্মী,
Email: laherichandan@gmail.com
তথ্যসুত্র।
১, কোড়া জনজাতির আদিবাস ভূমি ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় । অমিত কুম্ভকার, ভারতের বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের গবেষক । Pratidhwani the Echo A Peer-Reviewed International Journal of Humanities & Social Science. Volume-IX, Issue-II, January 2021, Page No.42-49 Published by Dept. of Bengali, Karimganj College, Karimganj, Assam, India Website: http://www.thecho.in

২. বিভিন্ন সংবাদপত্র

উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি:

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু একটি হিন্দু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে। কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে জমি দখলের অপচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত এবং সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বরিশাল সদর রোডস্থ টাউন হলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস ও তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাস।

মানববন্ধনে সঞ্জয় চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, তাঁর দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাসের সূত্রে পাওয়া ২৯ শতাংশ জমি ও পুকুরটি ১৯৫৯ সাল থেকে তাঁদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি কলেজের নাম ব্যবহার করে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখিত মোহাম্মদ আজিজ খান ও মো. হাবিব খানের নেতৃত্বে গভর্নিং বডির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫), অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মিয়া (৬৫), সভাপতি মোহাম্মদ নয়ন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, তাঁদের জমি কলেজের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে। মাঝখানে সরকারি রাস্তা রয়েছে। এরপরও তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য হিসেবে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
সঞ্জয় জানান, গত ১৪ অক্টোবর প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করলে বাধা দেন তাঁরা। এ সময় তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাসসহ পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর একই ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল।

সম্পত্তি রক্ষায় ২০২০ সালে উজিরপুরের সিভিল সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানি মামলা (১৪/২০২০) দায়ের করা হয়। মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৬। এ ছাড়া হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ৪৮৯২/২০২৬, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে মিস কেস নম্বর ১৯৪৭/২০২৬ এবং উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় ০৭/২০২৬ নম্বরের মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। মিস কেসটির শুনানির তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২৬।

ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সঞ্জয় বলেন, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম ঘুষের বিনিময়ে তাঁদের জমি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে কলেজের সম্পত্তির সঙ্গে একত্র করেছেন। কোনো নোটিশ না দিয়েই জমি কর্তন করে ১৫৪২ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামানের গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে অনিয়মের বিষয় উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটি উজিরপুর মৌজায় অবস্থিত। এর জেএল নম্বর ৯২, এসএ খতিয়ান ৭৮৮ ও ৭৮৯, এসএ দাগ ১৩৪, বিএস খতিয়ান ১৩৫৫ এবং বিএস দাগ ১৯৬৩। এ ছাড়া আরএস খতিয়ান ২২১ ও ২২৩ এবং ডিপি খতিয়ান ১৩৫৫-এর সঙ্গে সম্পত্তিটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

মানববন্ধন থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ভূমি রেকর্ডের অনিয়ম তদন্ত এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার জানান, অভিযোগের সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক

বাপ্পি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড়সহ একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করেছে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি’র) সদস্যরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২৬) সকালে উপজেলার আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রানজিট ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ২০০১/এমপি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমতলী এলাকায় টহল দেওয়ার সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়।

এ সময় বিজিবির টহলদল গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করলে চালক রাস্তা পরিবর্তন করে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কাভার্ড ভ্যানটি ফেলে চালক পালিয়ে যায়। পরে কাভার্ড ভ্যানটিতে তল্লাশি করে ৯ হাজার ২৭৮ মিটার ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড় উদ্ধার করা হয়।

আটক করা কাপড় ও কাভার্ড ভ্যানের আনুমানিক বাজার মূল্য ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা। উদ্ধার করা চোরাচালানি মালামাল ও কাভার্ড ভ্যান আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি’র অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না

বিশেষ প্রতিনিধি:

তাফরিদ কটন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ সামিউল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি, বেতন-ভাতা আত্মসাৎ এবং ব্যাংকঋণসংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশ করেছিল জি২৪ নিউজ।

সংবাদ প্রকাশের পরপরই জি২৪ নিউজের সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলামসহ সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির বাদী ছিলেন শেখ সামিউল ইসলামের স্ত্রী।

আদালতের নির্দেশে প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানা মামলাটি তদন্ত করে। তদন্তে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

পরবর্তীতে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়া হলে আদালত পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে।

সিআইডির কর্মকর্তা শামীম আল আহমেদের নেতৃত্বে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে কোনো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিআইডিও সাংবাদিকদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

এটি শুধু সাতজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার তদন্তের বিষয় নয়; এটি সত্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এদিকে, এ ঘটনায় জি২৪ নিউজের সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন Protect Journalists উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। সংগঠনটি তাদের উদ্বেগের কথা বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন
আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য, তথ্য ও জনস্বার্থ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করাই আমার পেশাগত দায়িত্ব।

আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মামলা, হুমকি কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যাবে না। জনস্বার্থে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমি কখনো আপস করব না।

সত্যের সন্ধানে—আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবে।

উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না নতুন উপজেলা গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া।। মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ "মোবাইল কোর্ট অভিযানে" আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে