খুঁজুন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

উদার মানুষ মানেই বিত্তবান নয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
উদার মানুষ মানেই বিত্তবান নয়

লেখক মো. গোলাম ফারুক মজনু

রাস্তাঘাটের টঙের দোকানে এক কাপ চায়ের বিল দেওয়া কিংবা কোনো রেস্টুরেন্টে চা-কফির দাম পরিশোধ করা, বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই সাধারণ। কিন্তু এই সামান্য বিলের আড়ালেও কখনো কখনো লুকিয়ে থাকে গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা কিংবা নীরব আত্মত্যাগ। তাই কেউ আপনার চায়ের বিল দিলেই ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে তার হাতে অঢেল টাকা আছে, কিংবা টাকা খরচ করার কোনো পথ সে খুঁজে পাচ্ছে না। অনেক সময় মানুষ নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও প্রিয় মানুষটির জন্য কিছু করতে চায়। কেউ নিজের যাতায়াতের টাকা বাঁচিয়ে এক কাপ চায়ের বিল দেয়, কেউ পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ কিছুটা কমিয়ে প্রিয়জনকে আপ্যায়ন করে। বাইরে থেকে আমরা শুধু বিলটি দেখি, কিন্তু দেখি না সেই বিলের পেছনে থাকা মানুষের সামর্থ্য, সংকট কিংবা ত্যাগ। অথচ সেই সামান্য খরচটিই হয়তো তার দিনের একটি প্রয়োজনীয় ব্যয় ছিল। তারপরও প্রিয় মানুষটির মুখে হাসি দেখার জন্য সে নিজের প্রয়োজনকে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যায়। ভালোবাসার এই হিসাব কোনো ক্যালকুলেটরে মাপা যায় না। এটি অনুভব করতে হয় হৃদয় দিয়ে।

আমাদের সমাজে এমন অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা নিজের প্রয়োজনকে সাময়িক ভাবে পেছনে রেখে অন্যের জন্য খরচ করেন। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জীবনে এমন উদাহরণ কম নয়। অনেক ব্যবসায়ী নিজের প্রিয়জন, বড় ভাই, শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা সম্মানিত কোনো ব্যক্তির জন্য বিমানের টিকিট কিনে দেন, বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করেন, পরিবারের জন্য হোটেল বুক করে দেন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, তার হাতে বুঝি প্রচুর টাকা আছে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন। খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে, সেই টিকিটের টাকা তিনি ধার করেছেন, ব্যবসার মূলধন থেকে দিয়েছেন কিংবা নিজের পরিবারের কোনো প্রয়োজনীয় খরচ সাময়িক ভাবে স্থগিত রেখেছেন। তবুও তিনি তা করেছেন কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়ার আশায় নয়। করেছেন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। একজন মানুষ যখন নিজের সামর্থ্যের সীমা অতিক্রম করে অন্যের জন্য কিছু করেন, তখন তার সেই কাজকে শুধু অর্থের অঙ্ক দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। কারণ সেখানে হয়তো টাকার চেয়ে বড় হয়ে থাকে তার অনুভূতি।

কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমরা অনেক সময় মানুষের উদারতাকে তার আর্থিক সক্ষমতার মাপকাঠি বানিয়ে ফেলি। কেউ একবার বড় কিছু করে দিলে ধরে নিই, সে ভবিষ্যতেও একইভাবে করতে পারবে। একসময় সেই আন্তরিকতা পরিণত হয় প্রত্যাশায়, আর প্রত্যাশা থেকে জন্ম নেয় অধিকারবোধ। যে মানুষটি একদিন আনন্দের সঙ্গে আপনার জন্য কিছু করেছিলেন, পরদিন তার সামর্থ্য না থাকলে তাকেই হয়তো স্বার্থপর, পরিবর্তিত কিংবা অকৃতজ্ঞ মনে হতে থাকে। অথচ আমরা একবারও ভাবি না, যে মানুষটি আগের দিন আপনার জন্য খরচ করেছিলেন, সেটি হয়তো তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত ছিল। হয়তো নিজের প্রয়োজন বাদ দিয়েই তিনি আপনাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাই কারও একদিনের উদারতাকে তার স্থায়ী সামর্থ্য হিসেবে ধরে নেওয়া শুধু অন্যায় নয়, সম্পর্কের প্রতিও এক ধরনের অবিচার।

সমাজে আরও এক শ্রেণির মানুষ আছেন, যারা অন্যের সরলতা, ভদ্রতা ও আন্তরিকতাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেন। তারা কখনো জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, সামাজিক পরিচয় কিংবা সম্পর্কের আবরণে মানুষের কাছাকাছি আসেন। কথাবার্তায় থাকে প্রজ্ঞার ঝলকানি, আচরণে থাকে অভিজ্ঞতার ছাপ। কিন্তু সুযোগ পেলেই অন্যের আবেগ, বিশ্বাস কিংবা আতিথেয়তাকে নিজের সুবিধার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। কেউ একবার আপ্যায়ন করলে বারবার প্রত্যাশা করেন, কেউ একবার সহযোগিতা করলে সেটিকে ভবিষ্যতের অধিকার মনে করেন। অথচ তারা ভুলে যান, যে মানুষটি সহযোগিতা করছে, সে দুর্বল নয় বরং সম্পর্ককে সম্মান করেই উদার হচ্ছে। মানুষের ভালোবাসাকে সুযোগ হিসেবে দেখা এবং তার সরলতাকে নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করা কোনো ভাবেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হতে পারে না।

এ ধরনের মানসিকতা থেকে আমাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একজন মানুষের ভালো ব্যবহার, উদারতা কিংবা অতিথিপরায়ণতা তার দুর্বলতার প্রমাণ নয়। বরং অনেক সময় সেটিই তার সবচেয়ে বড় মানবিক শক্তি। যে মানুষ নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও অন্যের পাশে দাঁড়ায়, তাকে দুর্বল ভাবা মানে তার মানবিকতাকে অপমান করা। একই সঙ্গে যারা ভালোবাসা ও সহযোগিতা পান, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে সেই অনুভূতির মর্যাদা দেওয়ার। কারণ একজন মানুষ আপনার জন্য কিছু করছে মানেই এই নয় যে সে তা করতেই বাধ্য। সে হয়তো সম্পর্কের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নিজের ইচ্ছায় করছে। সেই ইচ্ছাকে অধিকার বানিয়ে ফেলা সম্পর্কের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়।

তাই কারও পকেট দেখে তার হৃদয়ের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত নয়। একজন মানুষ কত টাকা খরচ করতে পারে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে কেন খরচ করছে। এক কাপ চায়ের বিল হয়তো অর্থের দিক থেকে সামান্য কিন্তু সেটি যদি আসে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকে, তবে তার মূল্য অনেক বড়। আবার একটি বিমানের টিকিট হয়তো অনেক টাকার, কিন্তু তার পেছনে যদি থাকে কেবল স্বার্থ, তবে সেই ব্যয়ের মানবিক মূল্য খুব সামান্য। অর্থের পরিমাণ কখনো মানুষের অনুভূতির গভীরতা নির্ধারণ করতে পারে না। কখনো সামান্য একটি চা হয়ে ওঠে গভীর ভালোবাসার প্রতীক, আবার কখনো বড় কোনো উপহারও হয়ে উঠতে পারে নিছক স্বার্থের লেনদেন।

সম্পর্কের সৌন্দর্য টাকার অঙ্কে নয়, অনুভূতির গভীরতায়। কেউ আপনার জন্য নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কিছু করলে তার সামর্থ্যকে নয়, তার আন্তরিকতাকে সম্মান করুন। আর আপনি যদি কারও কাছ থেকে ভালোবাসা, সহযোগিতা কিংবা আতিথেয়তা পান, সেটিকে নিজের অধিকার মনে করবেন না। মনে রাখবেন, মানুষের দেওয়া প্রতিটি সহায়তার পেছনে হয়তো এমন কোনো ত্যাগ থাকে, যার কথা সে কখনো আপনাকে জানায়নি। হয়তো যে মানুষটি হাসিমুখে আপনার জন্য বিল পরিশোধ করছে, সেই মানুষটিই নিজের প্রয়োজনের সময় নীরবে হিসাব কষছে। হয়তো যে ব্যবসায়ী আপনার জন্য বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করছেন, তিনি নিজের পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে অনেক কিছু ত্যাগ করছেন। তার সেই ত্যাগকে সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

উদার মানুষ মানেই বিত্তবান নয়। অনেক সময় সবচেয়ে উদার মানুষটিই হয়তো সবচেয়ে বেশি হিসাব করে চলেন, শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্য। নিজের প্রয়োজনের সঙ্গে আপস করেই তিনি অন্যের প্রয়োজন পূরণ করেন, নিজের কষ্ট আড়াল করেই অন্যের মুখে হাসি ফোটান। তার কাছে ভালোবাসার মূল্য টাকার অঙ্কে নয়, সম্পর্কের মর্যাদায়। তাই এমন মানুষকে তার উদারতার কারণে আরও বেশি খরচ করতে বাধ্য করা নয়, বরং তার আন্তরিকতার মর্যাদা দেওয়া উচিত। কারণ ভালোবাসা তখনই সুন্দর, যখন সেখানে প্রত্যাশার চেয়ে কৃতজ্ঞতা বেশি থাকে। অধিকারবোধের চেয়ে সম্মান বেশি থাকে।

আমাদের মনে রাখা দরকার, মানুষের পকেটের হিসাব নেওয়া সহজ, কিন্তু তার হৃদয়ের হিসাব বোঝা কঠিন। তাই যে মানুষটি ভালোবাসা থেকে আপনার জন্য এক কাপ চায়ের বিল দেয়, তার কাছে কত টাকা আছে সেটি নয়। আপনার জন্য সে কতটা আন্তরিক, সেটিই দেখুন। যে মানুষটি নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে আপনার জন্য একটি টিকিটের ব্যবস্থা করে, তার সম্পদ নয় তার ত্যাগটুকু মনে রাখুন। আর যারা মানুষের সরলতা ও ভালোবাসাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন, তাদের থেকেও দূরে থাকা উচিত। কারণ অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা যায়, কিন্তু একজন মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আত্মত্যাগ কখনোই কেনা যায় না। সম্পর্ক টিকে থাকে অর্থের জোরে নয়, টিকে থাকে পারস্পরিক সম্মান, কৃতজ্ঞতা, বিশ্বাস ও মানবিকতার ওপর।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের প্রয়াত ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মালিতার পরিবারের জমিজমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত বুধবার ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তাঁর একমাত্র পুত্র ও মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ।

সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের পৌরসভা গেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন আনোয়ারুজ্জামান আজাদ। তাঁর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে তাঁর ইন্টারনেট ব্যবসা ও জমিজমার ওপর স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর নজর পড়ে। ওই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল মোল্ল্যা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আমি আমার পরিবারের একমাত্র সন্তান। উত্তরাধিকারসূত্রে বেশ কিছু মূল্যবান সম্পত্তি পেয়েছি। আমার অভিযোগ, কাজলসহ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নজর এসব সম্পত্তির ওপর পড়েছে। তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে আমার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আমি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

অভিযোগের বিষয়ে কাজল মোল্ল্যার বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাউদজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার  উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে  ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ প্রতিনিধ:

**সম্পুর্ন অরাজনৈতিক দ্বীনি আধ্যাত্মিক সংগঠন মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মাহফিলে প্রবাসী রাজনীতিবিদ আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ**

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে মদিনার জামাত, মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে মালদ্বীপের রাজধানী মালের সি বিল্ডিং অডিটোরিয়ামে এ ওয়াজ,দোয়া মাহফিল ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার আয়োজিত এ মাহফিলে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার আহ্বায়ক মোঃ আল আমিন এর পরিচালনায় মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরে কুরআন এবং বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও দেশ টিভির ইসলামিক আলোচক আলহাজ হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মহসিন কবীর ইউছুফী,পীর সাহেব মদিনার জামাত কদমতলী শাহী দরবার শরীফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ খলিলুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সভাপতি, মালদ্বীপ বিএনপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপ বি এন পির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম, মালদ্বীপ বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ নেহের মিয়া রানা, সহ-সভাপতি, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, সহ-সভাপতি; মোঃ মুক্তার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরীফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান কালাম
সহ সাংগঠনিক আবুল কালাম আজাদ, ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক মিয়া বি- বাড়িয়া সংগঠন, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মোঃ আলমগীর সিকদার।
মালদ্বীপস্থ ঢাকা ট্রেডার্সসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত মাহফিলে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনের সমন্বয়ে মাহফিলে আরো
উপস্থিত ছিলেন মোঃ আরিফুর ইসলাম, সভাপতি পদপ্রার্থী মালদ্বীপ যুবদল, মোঃ মাসুদ মুন্না আহ্বায়ক, স্বেচ্ছাসেবক দল মালদ্বীপ শাখা এবং মোঃ আবু আহমেদ সেলিম মিয়া, প্রবাসী ব্যবসায়ী, মালদ্বীপ।

আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ নুরুন্নবী মানিক,ব্যবসায়ী মো হারুন মিয়া মোঃ মাহফুজুর রহমান মোঃ রমো মিয়া, মোঃ জানে আলম সুন্নী ও মোঃ হাফিজুর রহমান ।
মাহফিলে কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা পেশ করেন হযরত মাওলানা মোঃ মাসুম বিল্লাহ, হযরত মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ ইসরাফিল হোসেন, হযরত মাওলানা মোঃ আঃ হান্নান, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ রিফাতুল ইসলাম এবং মোঃ ইসমাইল হোসেন, খাদেম, মদিনার জামাত মালদ্বীপ ও মোঃ নুরুল আমিন সুন্নি ।

মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা প্রবাসী জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে মালদ্বীপে বসবাসরত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সবশেষে সকল কবর বাসী, দেশ জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নানের ভাই আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে পূর্বশত্রুতার জেরে অপহরণ, সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী নিজ ব্যবসায়িক কাজে অবস্থানকালে পূর্বশত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা তৎপর হয়ে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তাদের সহযোগিতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকেই তাকে এবং তার ভাই সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান কে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী, ১ নং বিবাদী দেলোয়ার হোসেন টুকু, ২ নং বিবাদী মোঃ সবুজ, ইতিমধ্যে ঘটনার জেরে বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা ৩নং বিবাদী মোঃ আমিনুল হক গং দের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও পেশাগত ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুধু ভুক্তভোগী ও তার ভাইকে হুমকি দেওয়ার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর দায়ের করা মামলার সাক্ষীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি, চাপ সৃষ্টি এবং ভিন্ন পন্থায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার সাক্ষীরা যাতে নিরপেক্ষ ভাবে তাদের বক্তব্য দিতে না পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত হয়, সে উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ কারীদের দাবি। তারা বলেন, কোনো মামলার বাদী, তার পরিবার কিংবা সাক্ষীদের ওপর চাপ বা হুমকি সৃষ্টি করা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ। এক প্রতিবাদ বার্তায় তারা বলেন, একজন সাংবাদিক নেতার ভাইকে অপহরণ, তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক অর্থ নিয়ে যাওয়া এবং মুক্তিপণ দাবি করার মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। এর পর মামলা দায়ের করায় বাদী ও তার ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো এবং মামলার সাক্ষীদের হয়রানি করার অভিযোগ আরও বেশি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এসএসপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনাটিকে কোনো ভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যার হুমকি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার কিংবা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ, প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, সাংবাদিক আব্দুল মান্নান এবং মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সাংবাদিক সমাজকে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রাব) সভাপতি মো. কাদের মনসুরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, একজন নাগরিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা, মামলা দায়েরের পর বাদী ও তার স্বজনদের হুমকি দেওয়া এবং সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, এসব অভিযোগ কোনো ভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রভাব যেন আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন ন্যায়বিচার পাবে, তেমনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিও মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী কিংবা অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ঝিনাইদহে ব্যবসায়ীকে চাঁদা ও জমি দখলের হুমকির অভিযোগ ফেনীতে কৃষকদল নেতা আমিনুল হক বহিষ্কার