খুঁজুন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

বুকাবুনিয়া ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের তিন প্রার্থী আলোচনায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
বুকাবুনিয়া ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের তিন প্রার্থী আলোচনায়

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি:

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরগুনার বামনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে রাজনৈতিক উত্তাপ ও নির্বাচনী আমেজ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করলেও রাজপথ ও সামাজিক মাধ্যমে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম। একটি অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত ইউনিয়নকে সমৃদ্ধ, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত এবং ইনসাফভিত্তিক মডেল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তিনজন হেভিওয়েট ও সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
তৃণমূলের জনমত, দলীয় নেতাকর্মীদের ভাবনা এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতার দৌড়ে তিনজন নেতা বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তাঁরা হলেন—প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও দক্ষ সংগঠক মাওলানা মাহবুবুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা, তরুণ ব্যবসায়ী ও সংবাদকর্মী আবুল কালাম আজাদ এবং রাজপথের পরীক্ষিত জননেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মো: কবির হোসেন। এই তিন প্রার্থীর নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক পরিচিতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ত্যাগের স্বতন্ত্র ইতিহাস রয়েছে। ভোটাররা মনে করছেন, এই তিনজনের মধ্য থেকেই যে কেউ চূড়ান্ত টিকিট পেলে তিনি নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সমর্থন পাবেন।
১. প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক মাওলানা মাহবুবুর রহমান:
মাওলানা মাহবুবুর রহমান বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও প্রবীণ এক ব্যক্তিত্ব। তিনি বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সফল সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বামনা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ণ ‘দপ্তর সম্পাদক’ পদে নিষ্ঠার সাথে সাংগঠনিক দায়িত্ব আঞ্জাম দিচ্ছেন। একইসাথে তিনি আদর্শ শিক্ষক পরিষদ, বামনা উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার বহু শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন। নীতি-নৈতিকতা এবং প্রজ্ঞার কারণে দলমত নির্বিশেষে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে তাঁর একটি পৃথক ও সুদৃঢ় ভাবমূর্তি রয়েছে।
মাওলানা মাহবুবুর রহমান যদি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে আসেন, তবে তিনি মূলত শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকাঠামো জোরদার করা এবং সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা দূর করে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে চান। তিনি চান ইউনিয়ন পরিষদকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করে প্রতিটি নাগরিক যেন সমান অধিকার ও বিচার সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নিজের প্রার্থিতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে মাওলানা মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই মাটি ও মানুষের সাথে যুক্ত আছি। সংগঠন ও সমাজের নানা দায়িত্বে থেকে সবসময় সততার সাথে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক আদর্শের সংগঠন। দল ইতিমধ্যেই স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সার্বিক মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করে আমাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। আমি বর্তমানে একটি এমপিওভুক্ত উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছি। দেশের প্রচলিত নির্বাচনী আইন অনুযায়ী যদি আমার শিক্ষাকতা সম্পর্কিত কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, তবে ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ইনশাআল্লাহ আমিই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। নির্বাচিত হতে পারলে এই ইউনিয়নকে একটি শিক্ষা অনুরাগী ও নীতিভিত্তিক আদর্শ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার মূল মিশন।”
২. তরুণ সমাজসেবক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আবুল কালাম আজাদ:
তরুণ ও উদ্দীপনাকামী প্রার্থী হিসেবে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের রাজনীতিতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হওয়ার পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমে অত্যন্ত সুপরিচিত মুখ। বর্তমানে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে বামনা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে। ছাত্রজীবনে তিনি দক্ষতার সাথে শিবিরের সাথী এবং পরবর্তীতে থানা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত ‘রুকন’ এবং পল্টন থানার অন্তর্ভুক্ত একটি সাংগঠনিক ইউনিটের সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। তরুণ সমাজ ও পেশাজীবীদের মাঝে তাঁর বিশেষ প্রভাব রয়েছে।
আবুল কালাম আজাদ একজন আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী ইউনিয়ন গড়ার ভিশন নিয়ে সামনে এগোচ্ছেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্য—তথ্যপ্রযুক্তির সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, ইউনিয়ন পরিষদকে শতভাগ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা, তরুণ বেকার যুবকদের জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বামনা প্রেসক্লাবের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের সার্বিক সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরে উন্নয়ন জোরদার করা।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও নিজের প্রার্থিতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্ররাজনীতি থেকে। রাজপথের নানা চড়াই-উতরাই, ঝড়-ঝাপটা এবং প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হয়েও ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হইনি। ইসলামী ছাত্রশিবিরের থানা সভাপতি থেকে শুরু করে আজ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের রুকন এবং পল্টন থানার ইউনিট সভাপতি হিসেবে সংগঠন আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে তা সততার সাথে পালন করেছি। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের অবহেলিত মানুষের করুণ চিত্র আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দল যদি আমার অতীত ত্যাগ, অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের আকুল আকাঙ্ক্ষাকে বিবেচনা করে ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে আমাকে দলের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়, তবে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও যুগোপযোগী মডেল ইউনিয়ন উপহার দিতে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”
৩. রাজপথের লড়াকু ও ত্যাগী নেতা আলহাজ্ব মো: কবির হোসেন:
১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের তৃণমূল রাজনীতিতে সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখগুলোর একটি হলো আলহাজ্ব মো: কবির হোসেন। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। বর্তমানে তিনি পল্টন জামায়াতে ইসলামীর ১নং ইউনিটের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনআমলে তিনি বহুবার রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তবুও মাঠ ছেড়ে যাননি। সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর কারণে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে তাঁর একটি বড় ধরণের জনভিত্তি ও নিজস্ব কর্মী সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে।
আলহাজ্ব মো: কবির হোসেনের মূল অগ্রাধিকার হলো অবহেলিত গ্রামীণ অবকাঠামোর সংস্কার। বিশেষ করে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, কাঁচা পোল-কালভার্ট পুনর্নির্মাণ, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের মাঝে সরকারি ভাতা, ত্রাণ ও সুবিধা শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে বণ্টন করা। তিনি স্বজনপ্রীতি ও ঘুষমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করছেন।
নিজের প্রার্থী হওয়া ও রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আলহাজ্ব মো: কবির হোসেন বলেন, “আমি সংগঠনের একজন অত্যন্ত একনিষ্ঠ ও ত্যাগী কর্মী। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চরম রাজনৈতিক নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে আমাকে। ভুয়া মামলা, রাজনৈতিক হামলা, ঘরবাড়ি ছাড়া হওয়া এমনকি জেল-জুলুম সহ্য করেও আমি কখনো কোনো লোভ-লালসার কাছে মাথানত করিনি। আমি ইতিপূর্বেও বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এলাকার প্রতিটি অলিগলি এবং প্রতিটি সাধারণ পরিবারের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। আমার এই দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সামাজিক কাজ এবং মাঠপর্যায়ের প্রগাঢ় জনসমর্থন বিবেচনা করে দল যদি আমাকে ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থীরূপে মনোনীত করে, তবে ইনশাআল্লাহ অবহেলিত বুকাবুনিয়াকে একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও সত্যিকারের গণমুখী মডেলে পরিণত করতে আমি নির্বাচনের মাঠে চূড়ান্ত লড়াই করব।”
বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য এই তিন প্রার্থীর প্রত্যেকেই নিজ নিজ গুণাবলীতে অনন্য। যেখানে একদিকে রয়েছে মাওলানা মাহবুবুর রহমানের নীতি-নৈতিকতা ও প্রবীণ শিক্ষক হিসেবে অপরিসীম শ্রদ্ধা, অন্যদিকে আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব ও আধুনিকায়নের ভাবনা, এবং আলহাজ্ব মো: কবির হোসেনের দীর্ঘদিনের সামাজিক ত্যাগের অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততা।
স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, এই তিন নেতার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বুকাবুনিয়া ইউনিয়নকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর হাইকমান্ড তৃণমূলের মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক সমীকরণ হিসাব করে কার হাতে চূড়ান্ত মনোনয়ন তুলে দেয়, সেটির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের ভোটার ও দলটির হাজারো নেতাকর্মী।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের প্রয়াত ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মালিতার পরিবারের জমিজমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত বুধবার ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তাঁর একমাত্র পুত্র ও মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ।

সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের পৌরসভা গেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন আনোয়ারুজ্জামান আজাদ। তাঁর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে তাঁর ইন্টারনেট ব্যবসা ও জমিজমার ওপর স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর নজর পড়ে। ওই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল মোল্ল্যা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আমি আমার পরিবারের একমাত্র সন্তান। উত্তরাধিকারসূত্রে বেশ কিছু মূল্যবান সম্পত্তি পেয়েছি। আমার অভিযোগ, কাজলসহ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নজর এসব সম্পত্তির ওপর পড়েছে। তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে আমার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আমি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

অভিযোগের বিষয়ে কাজল মোল্ল্যার বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাউদজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার  উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে  ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ প্রতিনিধ:

**সম্পুর্ন অরাজনৈতিক দ্বীনি আধ্যাত্মিক সংগঠন মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মাহফিলে প্রবাসী রাজনীতিবিদ আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ**

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে মদিনার জামাত, মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে মালদ্বীপের রাজধানী মালের সি বিল্ডিং অডিটোরিয়ামে এ ওয়াজ,দোয়া মাহফিল ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার আয়োজিত এ মাহফিলে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার আহ্বায়ক মোঃ আল আমিন এর পরিচালনায় মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরে কুরআন এবং বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও দেশ টিভির ইসলামিক আলোচক আলহাজ হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মহসিন কবীর ইউছুফী,পীর সাহেব মদিনার জামাত কদমতলী শাহী দরবার শরীফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ খলিলুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সভাপতি, মালদ্বীপ বিএনপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপ বি এন পির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম, মালদ্বীপ বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ নেহের মিয়া রানা, সহ-সভাপতি, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, সহ-সভাপতি; মোঃ মুক্তার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরীফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান কালাম
সহ সাংগঠনিক আবুল কালাম আজাদ, ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক মিয়া বি- বাড়িয়া সংগঠন, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মোঃ আলমগীর সিকদার।
মালদ্বীপস্থ ঢাকা ট্রেডার্সসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত মাহফিলে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনের সমন্বয়ে মাহফিলে আরো
উপস্থিত ছিলেন মোঃ আরিফুর ইসলাম, সভাপতি পদপ্রার্থী মালদ্বীপ যুবদল, মোঃ মাসুদ মুন্না আহ্বায়ক, স্বেচ্ছাসেবক দল মালদ্বীপ শাখা এবং মোঃ আবু আহমেদ সেলিম মিয়া, প্রবাসী ব্যবসায়ী, মালদ্বীপ।

আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ নুরুন্নবী মানিক,ব্যবসায়ী মো হারুন মিয়া মোঃ মাহফুজুর রহমান মোঃ রমো মিয়া, মোঃ জানে আলম সুন্নী ও মোঃ হাফিজুর রহমান ।
মাহফিলে কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা পেশ করেন হযরত মাওলানা মোঃ মাসুম বিল্লাহ, হযরত মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ ইসরাফিল হোসেন, হযরত মাওলানা মোঃ আঃ হান্নান, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ রিফাতুল ইসলাম এবং মোঃ ইসমাইল হোসেন, খাদেম, মদিনার জামাত মালদ্বীপ ও মোঃ নুরুল আমিন সুন্নি ।

মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা প্রবাসী জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে মালদ্বীপে বসবাসরত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সবশেষে সকল কবর বাসী, দেশ জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নানের ভাই আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে পূর্বশত্রুতার জেরে অপহরণ, সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী নিজ ব্যবসায়িক কাজে অবস্থানকালে পূর্বশত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা তৎপর হয়ে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তাদের সহযোগিতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকেই তাকে এবং তার ভাই সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান কে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী, ১ নং বিবাদী দেলোয়ার হোসেন টুকু, ২ নং বিবাদী মোঃ সবুজ, ইতিমধ্যে ঘটনার জেরে বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা ৩নং বিবাদী মোঃ আমিনুল হক গং দের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও পেশাগত ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুধু ভুক্তভোগী ও তার ভাইকে হুমকি দেওয়ার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর দায়ের করা মামলার সাক্ষীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি, চাপ সৃষ্টি এবং ভিন্ন পন্থায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার সাক্ষীরা যাতে নিরপেক্ষ ভাবে তাদের বক্তব্য দিতে না পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত হয়, সে উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ কারীদের দাবি। তারা বলেন, কোনো মামলার বাদী, তার পরিবার কিংবা সাক্ষীদের ওপর চাপ বা হুমকি সৃষ্টি করা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ। এক প্রতিবাদ বার্তায় তারা বলেন, একজন সাংবাদিক নেতার ভাইকে অপহরণ, তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক অর্থ নিয়ে যাওয়া এবং মুক্তিপণ দাবি করার মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। এর পর মামলা দায়ের করায় বাদী ও তার ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো এবং মামলার সাক্ষীদের হয়রানি করার অভিযোগ আরও বেশি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এসএসপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনাটিকে কোনো ভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যার হুমকি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার কিংবা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ, প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, সাংবাদিক আব্দুল মান্নান এবং মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সাংবাদিক সমাজকে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রাব) সভাপতি মো. কাদের মনসুরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, একজন নাগরিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা, মামলা দায়েরের পর বাদী ও তার স্বজনদের হুমকি দেওয়া এবং সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, এসব অভিযোগ কোনো ভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রভাব যেন আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন ন্যায়বিচার পাবে, তেমনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিও মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী কিংবা অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ঝিনাইদহে ব্যবসায়ীকে চাঁদা ও জমি দখলের হুমকির অভিযোগ ফেনীতে কৃষকদল নেতা আমিনুল হক বহিষ্কার