খুঁজুন
, ,

বুকাবুনিয়া ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের তিন প্রার্থী আলোচনায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
বুকাবুনিয়া ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের তিন প্রার্থী আলোচনায়

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি:

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরগুনার বামনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে রাজনৈতিক উত্তাপ ও নির্বাচনী আমেজ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করলেও রাজপথ ও সামাজিক মাধ্যমে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম। একটি অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত ইউনিয়নকে সমৃদ্ধ, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত এবং ইনসাফভিত্তিক মডেল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তিনজন হেভিওয়েট ও সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
তৃণমূলের জনমত, দলীয় নেতাকর্মীদের ভাবনা এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতার দৌড়ে তিনজন নেতা বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তাঁরা হলেন—প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও দক্ষ সংগঠক মাওলানা মাহবুবুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা, তরুণ ব্যবসায়ী ও সংবাদকর্মী আবুল কালাম আজাদ এবং রাজপথের পরীক্ষিত জননেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মো: কবির হোসেন। এই তিন প্রার্থীর নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক পরিচিতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ত্যাগের স্বতন্ত্র ইতিহাস রয়েছে। ভোটাররা মনে করছেন, এই তিনজনের মধ্য থেকেই যে কেউ চূড়ান্ত টিকিট পেলে তিনি নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সমর্থন পাবেন।
১. প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক মাওলানা মাহবুবুর রহমান:
মাওলানা মাহবুবুর রহমান বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও প্রবীণ এক ব্যক্তিত্ব। তিনি বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সফল সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বামনা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ণ ‘দপ্তর সম্পাদক’ পদে নিষ্ঠার সাথে সাংগঠনিক দায়িত্ব আঞ্জাম দিচ্ছেন। একইসাথে তিনি আদর্শ শিক্ষক পরিষদ, বামনা উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার বহু শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন। নীতি-নৈতিকতা এবং প্রজ্ঞার কারণে দলমত নির্বিশেষে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে তাঁর একটি পৃথক ও সুদৃঢ় ভাবমূর্তি রয়েছে।
মাওলানা মাহবুবুর রহমান যদি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে আসেন, তবে তিনি মূলত শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকাঠামো জোরদার করা এবং সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা দূর করে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে চান। তিনি চান ইউনিয়ন পরিষদকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করে প্রতিটি নাগরিক যেন সমান অধিকার ও বিচার সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নিজের প্রার্থিতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে মাওলানা মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই মাটি ও মানুষের সাথে যুক্ত আছি। সংগঠন ও সমাজের নানা দায়িত্বে থেকে সবসময় সততার সাথে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক আদর্শের সংগঠন। দল ইতিমধ্যেই স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সার্বিক মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করে আমাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। আমি বর্তমানে একটি এমপিওভুক্ত উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছি। দেশের প্রচলিত নির্বাচনী আইন অনুযায়ী যদি আমার শিক্ষাকতা সম্পর্কিত কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, তবে ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ইনশাআল্লাহ আমিই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। নির্বাচিত হতে পারলে এই ইউনিয়নকে একটি শিক্ষা অনুরাগী ও নীতিভিত্তিক আদর্শ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার মূল মিশন।”
২. তরুণ সমাজসেবক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আবুল কালাম আজাদ:
তরুণ ও উদ্দীপনাকামী প্রার্থী হিসেবে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের রাজনীতিতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হওয়ার পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমে অত্যন্ত সুপরিচিত মুখ। বর্তমানে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে বামনা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে। ছাত্রজীবনে তিনি দক্ষতার সাথে শিবিরের সাথী এবং পরবর্তীতে থানা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত ‘রুকন’ এবং পল্টন থানার অন্তর্ভুক্ত একটি সাংগঠনিক ইউনিটের সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। তরুণ সমাজ ও পেশাজীবীদের মাঝে তাঁর বিশেষ প্রভাব রয়েছে।
আবুল কালাম আজাদ একজন আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী ইউনিয়ন গড়ার ভিশন নিয়ে সামনে এগোচ্ছেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্য—তথ্যপ্রযুক্তির সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, ইউনিয়ন পরিষদকে শতভাগ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা, তরুণ বেকার যুবকদের জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বামনা প্রেসক্লাবের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের সার্বিক সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরে উন্নয়ন জোরদার করা।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও নিজের প্রার্থিতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্ররাজনীতি থেকে। রাজপথের নানা চড়াই-উতরাই, ঝড়-ঝাপটা এবং প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হয়েও ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হইনি। ইসলামী ছাত্রশিবিরের থানা সভাপতি থেকে শুরু করে আজ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের রুকন এবং পল্টন থানার ইউনিট সভাপতি হিসেবে সংগঠন আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে তা সততার সাথে পালন করেছি। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের অবহেলিত মানুষের করুণ চিত্র আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দল যদি আমার অতীত ত্যাগ, অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের আকুল আকাঙ্ক্ষাকে বিবেচনা করে ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে আমাকে দলের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়, তবে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও যুগোপযোগী মডেল ইউনিয়ন উপহার দিতে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”
৩. রাজপথের লড়াকু ও ত্যাগী নেতা আলহাজ্ব মো: কবির হোসেন:
১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের তৃণমূল রাজনীতিতে সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখগুলোর একটি হলো আলহাজ্ব মো: কবির হোসেন। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। বর্তমানে তিনি পল্টন জামায়াতে ইসলামীর ১নং ইউনিটের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনআমলে তিনি বহুবার রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তবুও মাঠ ছেড়ে যাননি। সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর কারণে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে তাঁর একটি বড় ধরণের জনভিত্তি ও নিজস্ব কর্মী সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে।
আলহাজ্ব মো: কবির হোসেনের মূল অগ্রাধিকার হলো অবহেলিত গ্রামীণ অবকাঠামোর সংস্কার। বিশেষ করে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, কাঁচা পোল-কালভার্ট পুনর্নির্মাণ, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের মাঝে সরকারি ভাতা, ত্রাণ ও সুবিধা শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে বণ্টন করা। তিনি স্বজনপ্রীতি ও ঘুষমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করছেন।
নিজের প্রার্থী হওয়া ও রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আলহাজ্ব মো: কবির হোসেন বলেন, “আমি সংগঠনের একজন অত্যন্ত একনিষ্ঠ ও ত্যাগী কর্মী। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চরম রাজনৈতিক নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে আমাকে। ভুয়া মামলা, রাজনৈতিক হামলা, ঘরবাড়ি ছাড়া হওয়া এমনকি জেল-জুলুম সহ্য করেও আমি কখনো কোনো লোভ-লালসার কাছে মাথানত করিনি। আমি ইতিপূর্বেও বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এলাকার প্রতিটি অলিগলি এবং প্রতিটি সাধারণ পরিবারের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। আমার এই দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সামাজিক কাজ এবং মাঠপর্যায়ের প্রগাঢ় জনসমর্থন বিবেচনা করে দল যদি আমাকে ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থীরূপে মনোনীত করে, তবে ইনশাআল্লাহ অবহেলিত বুকাবুনিয়াকে একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও সত্যিকারের গণমুখী মডেলে পরিণত করতে আমি নির্বাচনের মাঠে চূড়ান্ত লড়াই করব।”
বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য এই তিন প্রার্থীর প্রত্যেকেই নিজ নিজ গুণাবলীতে অনন্য। যেখানে একদিকে রয়েছে মাওলানা মাহবুবুর রহমানের নীতি-নৈতিকতা ও প্রবীণ শিক্ষক হিসেবে অপরিসীম শ্রদ্ধা, অন্যদিকে আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব ও আধুনিকায়নের ভাবনা, এবং আলহাজ্ব মো: কবির হোসেনের দীর্ঘদিনের সামাজিক ত্যাগের অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততা।
স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, এই তিন নেতার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বুকাবুনিয়া ইউনিয়নকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর হাইকমান্ড তৃণমূলের মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক সমীকরণ হিসাব করে কার হাতে চূড়ান্ত মনোনয়ন তুলে দেয়, সেটির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের ভোটার ও দলটির হাজারো নেতাকর্মী।

উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি:

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু একটি হিন্দু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে। কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে জমি দখলের অপচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত এবং সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বরিশাল সদর রোডস্থ টাউন হলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস ও তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাস।

মানববন্ধনে সঞ্জয় চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, তাঁর দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাসের সূত্রে পাওয়া ২৯ শতাংশ জমি ও পুকুরটি ১৯৫৯ সাল থেকে তাঁদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি কলেজের নাম ব্যবহার করে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখিত মোহাম্মদ আজিজ খান ও মো. হাবিব খানের নেতৃত্বে গভর্নিং বডির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫), অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মিয়া (৬৫), সভাপতি মোহাম্মদ নয়ন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, তাঁদের জমি কলেজের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে। মাঝখানে সরকারি রাস্তা রয়েছে। এরপরও তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য হিসেবে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
সঞ্জয় জানান, গত ১৪ অক্টোবর প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করলে বাধা দেন তাঁরা। এ সময় তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাসসহ পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর একই ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল।

সম্পত্তি রক্ষায় ২০২০ সালে উজিরপুরের সিভিল সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানি মামলা (১৪/২০২০) দায়ের করা হয়। মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৬। এ ছাড়া হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ৪৮৯২/২০২৬, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে মিস কেস নম্বর ১৯৪৭/২০২৬ এবং উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় ০৭/২০২৬ নম্বরের মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। মিস কেসটির শুনানির তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২৬।

ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সঞ্জয় বলেন, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম ঘুষের বিনিময়ে তাঁদের জমি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে কলেজের সম্পত্তির সঙ্গে একত্র করেছেন। কোনো নোটিশ না দিয়েই জমি কর্তন করে ১৫৪২ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামানের গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে অনিয়মের বিষয় উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটি উজিরপুর মৌজায় অবস্থিত। এর জেএল নম্বর ৯২, এসএ খতিয়ান ৭৮৮ ও ৭৮৯, এসএ দাগ ১৩৪, বিএস খতিয়ান ১৩৫৫ এবং বিএস দাগ ১৯৬৩। এ ছাড়া আরএস খতিয়ান ২২১ ও ২২৩ এবং ডিপি খতিয়ান ১৩৫৫-এর সঙ্গে সম্পত্তিটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

মানববন্ধন থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ভূমি রেকর্ডের অনিয়ম তদন্ত এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার জানান, অভিযোগের সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক

বাপ্পি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড়সহ একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করেছে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি’র) সদস্যরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২৬) সকালে উপজেলার আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রানজিট ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ২০০১/এমপি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমতলী এলাকায় টহল দেওয়ার সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়।

এ সময় বিজিবির টহলদল গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করলে চালক রাস্তা পরিবর্তন করে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কাভার্ড ভ্যানটি ফেলে চালক পালিয়ে যায়। পরে কাভার্ড ভ্যানটিতে তল্লাশি করে ৯ হাজার ২৭৮ মিটার ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড় উদ্ধার করা হয়।

আটক করা কাপড় ও কাভার্ড ভ্যানের আনুমানিক বাজার মূল্য ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা। উদ্ধার করা চোরাচালানি মালামাল ও কাভার্ড ভ্যান আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি’র অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না

বিশেষ প্রতিনিধি:

তাফরিদ কটন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ সামিউল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি, বেতন-ভাতা আত্মসাৎ এবং ব্যাংকঋণসংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশ করেছিল জি২৪ নিউজ।

সংবাদ প্রকাশের পরপরই জি২৪ নিউজের সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলামসহ সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির বাদী ছিলেন শেখ সামিউল ইসলামের স্ত্রী।

আদালতের নির্দেশে প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানা মামলাটি তদন্ত করে। তদন্তে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

পরবর্তীতে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়া হলে আদালত পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে।

সিআইডির কর্মকর্তা শামীম আল আহমেদের নেতৃত্বে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে কোনো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিআইডিও সাংবাদিকদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

এটি শুধু সাতজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার তদন্তের বিষয় নয়; এটি সত্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এদিকে, এ ঘটনায় জি২৪ নিউজের সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন Protect Journalists উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। সংগঠনটি তাদের উদ্বেগের কথা বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন
আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য, তথ্য ও জনস্বার্থ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করাই আমার পেশাগত দায়িত্ব।

আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মামলা, হুমকি কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যাবে না। জনস্বার্থে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমি কখনো আপস করব না।

সত্যের সন্ধানে—আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবে।

উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না নতুন উপজেলা গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া।। মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ "মোবাইল কোর্ট অভিযানে" আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে