খুঁজুন
, ,

বানারীপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিলের ১০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
বানারীপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিলের ১০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:

বরিশালের বানারীপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিলের বরাদ্দ থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অধিদপ্তরের ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)’ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার নামে ভুয়া বা অতিরিক্ত সময়ের বিল-ভাউচার প্রস্তুত করে এ অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের তীর স্থানীয় একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার নুর আলম সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দিকে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার নুর আলম সিদ্দিক। সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা ও আইসিটি কর্মকর্তারাও অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, ইডিসি প্রকল্পের আওতায় বানারীপাড়া উপজেলার প্রায় শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা তাঁর প্রতিনিধি এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্কাইভিউ অনলাইন লিমিটেড’-এর ঠিকাদার নুর আলম সিদ্দিকের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যালয়গুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে ইন্টারনেট বিল রিচার্জ করার কথা ছিল।

ভুক্তভোগী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হলেও তা দীর্ঘদিন চালু থাকেনি। কোথাও সংযোগ দেওয়া হয়নি, আবার কোথাও কয়েক মাস সেবা দেওয়ার পর রিচার্জ না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিজেদের অর্থে ইন্টারনেট বিল পরিশোধ করতে হয়েছে।

বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় সভায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা মৌখিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খগোপতি রায়কে অবহিত করলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

অভিযোগ রয়েছে, যেসব বিদ্যালয় নিজেদের অর্থে কয়েক মাসের ইন্টারনেট বিল পরিশোধ করেছে, তারা ওই সময়ের বিলের ভাউচার প্রস্তুতের উদ্যোগ নিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের পক্ষ থেকে উপজেলা আইসিটি অফিসের অফিস সহায়ক মো. সবুজ ও ইডিসি প্রকল্পের ফিল্ড আইটি টেকনিশিয়ান আব্দুর রহমান রাজুর মাধ্যমে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩-৪ মাসের পরিবর্তে ১১ মাসের বিল-ভাউচার ও প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

শিক্ষকদের অভিযোগ, তাদের বলা হয়েছিল, অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়গুলো এসব বিলের টাকা পেয়ে যাবে। পরে ওই ভাউচারের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিল প্রস্তুত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং চেকের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্থ উত্তোলন করলেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে ইন্টারনেট সেবা বাবদ বকেয়া বিলের টাকা কিংবা অর্থ প্রাপ্তির কোনো স্বীকৃতিপত্র দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় উপজেলা আইসিটি অফিসের দুই কর্মচারী সবুজ ও আব্দুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে ঠিকাদারকে সহযোগিতা করার অভিযোগও উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা করে বিদ্যালয়গুলো থেকে বিল-ভাউচার সংগ্রহ এবং অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

তবে এ বিষয়ে উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদ বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো অনিয়মের বিষয়ে জানেন না।

বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল আলম মিঠু অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদের কাছে গেলে তিনি ঠিকাদার নুর আলমের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে তাঁর কার্যালয়ে বসে বিষয়টি ‘সমাধান’ করার জন্য এক লাখ টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন মনিরুল আলম। তবে তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি হননি বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদ বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খগোপতি রায়ের কাছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা না করে চূড়ান্ত বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর দিয়ে বিল পাশ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিল-ভাউচার পাওয়ার পর তা পাশ করে দেওয়া তাঁর নিয়মিত দায়িত্বের অংশ।

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া তাঁর করার কিছু নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার নুর আলম সিদ্দিক বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা বিল-ভাউচারের ভিত্তিতেই তিনি তাঁর পাওনা টাকা উত্তোলন করেছেন। কোনো অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন।

এদিকে অভিযোগের ঘটনায় সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

তাদের দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রকৃত ইন্টারনেট সংযোগ, সেবার মেয়াদ, রিচার্জের তথ্য, বিল-ভাউচার, প্রত্যয়নপত্র ও চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা অর্থের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প যদি অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাই দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।

উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি:

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু একটি হিন্দু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে। কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে জমি দখলের অপচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত এবং সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বরিশাল সদর রোডস্থ টাউন হলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস ও তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাস।

মানববন্ধনে সঞ্জয় চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, তাঁর দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাসের সূত্রে পাওয়া ২৯ শতাংশ জমি ও পুকুরটি ১৯৫৯ সাল থেকে তাঁদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি কলেজের নাম ব্যবহার করে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখিত মোহাম্মদ আজিজ খান ও মো. হাবিব খানের নেতৃত্বে গভর্নিং বডির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫), অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মিয়া (৬৫), সভাপতি মোহাম্মদ নয়ন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, তাঁদের জমি কলেজের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে। মাঝখানে সরকারি রাস্তা রয়েছে। এরপরও তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য হিসেবে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
সঞ্জয় জানান, গত ১৪ অক্টোবর প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করলে বাধা দেন তাঁরা। এ সময় তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাসসহ পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর একই ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল।

সম্পত্তি রক্ষায় ২০২০ সালে উজিরপুরের সিভিল সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানি মামলা (১৪/২০২০) দায়ের করা হয়। মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৬। এ ছাড়া হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ৪৮৯২/২০২৬, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে মিস কেস নম্বর ১৯৪৭/২০২৬ এবং উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় ০৭/২০২৬ নম্বরের মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। মিস কেসটির শুনানির তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২৬।

ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সঞ্জয় বলেন, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম ঘুষের বিনিময়ে তাঁদের জমি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে কলেজের সম্পত্তির সঙ্গে একত্র করেছেন। কোনো নোটিশ না দিয়েই জমি কর্তন করে ১৫৪২ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামানের গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে অনিয়মের বিষয় উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটি উজিরপুর মৌজায় অবস্থিত। এর জেএল নম্বর ৯২, এসএ খতিয়ান ৭৮৮ ও ৭৮৯, এসএ দাগ ১৩৪, বিএস খতিয়ান ১৩৫৫ এবং বিএস দাগ ১৯৬৩। এ ছাড়া আরএস খতিয়ান ২২১ ও ২২৩ এবং ডিপি খতিয়ান ১৩৫৫-এর সঙ্গে সম্পত্তিটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

মানববন্ধন থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ভূমি রেকর্ডের অনিয়ম তদন্ত এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার জানান, অভিযোগের সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক

বাপ্পি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড়সহ একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করেছে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি’র) সদস্যরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২৬) সকালে উপজেলার আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রানজিট ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ২০০১/এমপি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমতলী এলাকায় টহল দেওয়ার সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়।

এ সময় বিজিবির টহলদল গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করলে চালক রাস্তা পরিবর্তন করে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কাভার্ড ভ্যানটি ফেলে চালক পালিয়ে যায়। পরে কাভার্ড ভ্যানটিতে তল্লাশি করে ৯ হাজার ২৭৮ মিটার ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড় উদ্ধার করা হয়।

আটক করা কাপড় ও কাভার্ড ভ্যানের আনুমানিক বাজার মূল্য ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা। উদ্ধার করা চোরাচালানি মালামাল ও কাভার্ড ভ্যান আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি’র অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না

বিশেষ প্রতিনিধি:

তাফরিদ কটন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ সামিউল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি, বেতন-ভাতা আত্মসাৎ এবং ব্যাংকঋণসংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশ করেছিল জি২৪ নিউজ।

সংবাদ প্রকাশের পরপরই জি২৪ নিউজের সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলামসহ সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির বাদী ছিলেন শেখ সামিউল ইসলামের স্ত্রী।

আদালতের নির্দেশে প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানা মামলাটি তদন্ত করে। তদন্তে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

পরবর্তীতে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়া হলে আদালত পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে।

সিআইডির কর্মকর্তা শামীম আল আহমেদের নেতৃত্বে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে কোনো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিআইডিও সাংবাদিকদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

এটি শুধু সাতজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার তদন্তের বিষয় নয়; এটি সত্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এদিকে, এ ঘটনায় জি২৪ নিউজের সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন Protect Journalists উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। সংগঠনটি তাদের উদ্বেগের কথা বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন
আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য, তথ্য ও জনস্বার্থ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করাই আমার পেশাগত দায়িত্ব।

আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মামলা, হুমকি কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যাবে না। জনস্বার্থে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমি কখনো আপস করব না।

সত্যের সন্ধানে—আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবে।

উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না নতুন উপজেলা গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া।। মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ "মোবাইল কোর্ট অভিযানে" আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে