বানারীপাড়ায় উদয়কাঠীতে মাদ্রাসার সম্পত্তি অবৈধ দখলের অভিযোগে হুমায়ুন গাজীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন
বানারীপাড়া প্রতিনিধি:
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলা মৌজায় একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রিকৃত ১০.৭৫ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হুমায়ুন গাজীর বিরুদ্ধে। মাদ্রাসার জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ‘পশ্চিম ও দক্ষিণ তেতলা নূরানী তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা’র নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমিটির বৈধ মালিকানা প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত হুমায়ুন গাজী জমিটি জোরপূর্বক দখলে রেখে ভোগদখল করছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র দলিল (নং-৮১৮, তারিখ: ৩১ মে ২০১০) পর্যালোচনায় দেখা যায়, জমিটির গ্রহীতা হিসেবে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া থানাধীন তেতলা গ্রামের পশ্চিম ও দক্ষিণ তেতলা নূরানী তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা, পক্ষে সভাপতি উল্লেখ রয়েছে। দলিলটি চাখার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত।
দলিলের তফসিল অনুযায়ী জমিটি বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ৮নং উদয়কাঠী ইউনিয়নের ৭নং তেতলা মৌজায় অবস্থিত। জমির এস.এ খতিয়ান নং-২৫৭ এবং আর.এস/নাল দাগ নং-৯৫৮। জমির পরিমাণ ১০.৭৫ শতাংশ এবং শ্রেণি নাল জমি।
দলিল সূত্রে আরও জানা যায়, উক্ত জমির মূল মালিক নবাব আলীর ওয়ারিশ ফাতেমা বেগমের সন্তান মো. নুরুজ্জামান, ইব্রাহিম, সেফালী, ডলী ও শামসুন্নাহার ধর্মীয় শিক্ষা ও মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে ২০১০ সালের ৩১ মে বিনামূল্যে ১০.৭৫ শতাংশ জমি ‘পশ্চিম ও দক্ষিণ তেতলা নূরানী তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা’র নামে দানপত্র দলিল করে দেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জমিটির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নামে থাকা সত্ত্বেও তেতলা গ্রামের হুমায়ুন গাজী দীর্ঘদিন ধরে জমিটি অবৈধভাবে দখলে রেখে ভোগদখল করছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার জমিটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করা হয়।
মাদ্রাসার জমি উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখলের অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত জমিটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি নিয়ে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। মাদ্রাসার জমি উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে তারা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় ভূমি অফিস এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন