রাজবাড়ী-২ আসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে নানামুখী গুঞ্জন ও ষড়যন্ত্র চলছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম)-এর নেতৃবৃন্দ।
দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার শাহেদুল আজম বলেন,
“রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অবশ্যই থাকবে, তবে তা হতে হবে শিষ্টাচারের মধ্যে। এনডিএম-এর নিবেদিতপ্রাণ, রাজপথে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নির্ভীক কণ্ঠস্বর, আমাদের মহাসচিব মোমিনুল আমিন ভাইকে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে গণমানুষের কণ্ঠকে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—এই কণ্ঠ কখনোই ধামাচাপা দেওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন,
“এনডিএম-এর মাননীয় চেয়ারম্যান জননেতা ববি হাজ্জাজ সবসময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপোষহীন। আমরা দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, এবং তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
এবং যারা এই নোংরা খেলায় মেতেছে তাদের হুশিয়ারী করে বলতে চাই, নোংরা রাজনীতির দিন শেষ, সময় এসেছে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।
রাজবাড়ী-২ আসনের প্রেক্ষাপটে ব্যারিস্টার শাহেদুল আজম উল্লেখ করেন,
“এই অঞ্চলের জনগণ জানে—মোমিনুল আমিন ভাই টানা ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়ে যাচ্ছেন। রাজপথ তার সাক্ষী, আমরাও তার সাক্ষী। তিনি শুধু এনডিএম নয়, গণমানুষের প্রতিনিধি হয়ে রাজনীতির মাটিতে সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।”
এ সময় তিনি এনডিএম মহাসচিব মোমিনুল আমিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “জীবনে ১ ঘণ্টার জন্যও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বা তাদের কোনো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের সদস্য ছিলাম বা তাদের কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি—এমন প্রমাণ করতে পারলে আমি হাসিমুখে রাজনীতি ছেড়ে দেব।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ২০১৮ ও ২০২৪ সালের অনেক নেতা বর্তমানে জাতীয় নেতৃত্বে আছেন—তাঁদের মধ্যে অনেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পদধারী ছিলেন। তবে তাঁরা লেজুরবৃত্তিক রাজনীতি বেছে না নিয়ে ফ্যাসিবাদের পতনের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি আমার প্রোফাইলেই রয়েছে। প্রতিটি ছবি পেশাগত কারণে তোলা—তৎকালীন মন্ত্রী বা র্যাবের ডিজির সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ের। এই ছবিগুলো বিকৃতি করে যারা আমাকে ‘আওয়ামী লীগ’ বানাতে চায়, তাঁরা আসলে তাঁদের প্রিয় অভিভাবকের মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার আশায় চরিত্রহননের নোংরা খেলায় নেমেছেন।
আমি তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইচ্ছাকৃত চরিত্রহননের আইনি প্রতিকার রয়েছে।
আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে আছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বা টকশোতে দেয়া আমার সব বক্তব্যও সেই ধারাবাহিকতার সাক্ষ্য বহন করে।
যারা এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা নিজেদের লক্ষ্যে কখনো পৌঁছাতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ দেখা হবে বিজয়ে।”
ব্যারিস্টার শাহেদুল আজম আরো বলেন,
“আমরা বিশ্বাস করি, অন্ধকারের এই সময় কেটে যাবে। গণমানুষের বিজয়ের মালা শেষ পর্যন্ত জনগণই পরাবে। রাজপথই তার সাক্ষ্য দেবে।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ইসলামিক মিশন কার্যক্রমে প্রশাসনিক স্থবিরতা, পরিচালনাগত অদক্ষতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিভাগটির বর্তমান পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. শাহানা আফরোজ। তাঁর নিয়োগ, পদায়ন, জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়া, বদলি আদেশ অমান্য, শিক্ষাছুটি গ্রহণ এবং বদলি ও হজ মেডিকেল টিমে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ।
১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইসলামিক মিশন বিভাগ দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক সেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে এ বিভাগের অধীনে প্রায় ৫৯টি ইসলামিক মিশন, তিনটি হাসপাতাল এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। এত বড় একটি কার্যক্রম একজন পরিচালকের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা, প্রশাসনিক সমন্বয় ও দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগ রয়েছে, ডা. শাহানা আফরোজের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব কাজ করেছিল। তৎকালীন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রভাব খাটিয়ে মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগসংক্রান্ত রেজুলেশন, পরীক্ষার নম্বরপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাঁর চাকরিজীবনের বড় একটি সময় ঢাকায় কর্মরত থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিপন্থী পরিচয় সামনে আনেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জ্যেষ্ঠতার বিধি উপেক্ষা করে ইসলামিক মিশন বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ১৫ জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ছিল ১৪তম। তাঁর চেয়ে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির জ্যেষ্ঠতায় এগিয়ে থাকা একাধিক সিনিয়র মেডিকেল অফিসার থাকা সত্ত্বেও কী প্রক্রিয়ায় তাঁকে পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে পদায়নসংক্রান্ত আদেশ, জ্যেষ্ঠতার তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক দক্ষতার ঘাটতি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় অসংগতি দেখা দেওয়ায় বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের সভায় তাঁকে তিরস্কার করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ নথি ও বাস্তবায়নের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
ডা. শাহানা আফরোজের বিরুদ্ধে বদলি আদেশ অমান্য করার একটি পুরোনো অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথির বরাত দিয়ে জানা যায়, ৩০ এপ্রিল ২০১২ তারিখে তাঁকে যাকাত বোর্ড শিশু হাসপাতাল, টঙ্গী থেকে ইসলামিক মিশন, কালীগঞ্জে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি স্থানীয় কার্যালয় থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়কে জানানো হলে প্রশাসন বিভাগ তাঁর কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই নোটিশের জবাব দেননি। পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালের জুন মাসে চাকরিবিধি অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফাইল প্রস্তুত ও স্বাক্ষর করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট ফাইলের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেন বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ১৭ জুলাই ২০১২ তারিখে তাঁকে ইসলামিক মিশন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বায়তুল মোকাররম, ঢাকায় বদলি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে তাঁকে পদায়ন করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ পদায়নের প্রেক্ষাপটে তিনি ছুটির আবেদন করেন এবং কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুকূলে ভূতাপেক্ষ অর্জিত ছুটি মঞ্জুর করে।
ডা. শাহানা আফরোজের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ না করে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চশিক্ষা কোর্সের পরীক্ষায় কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া অংশগ্রহণ করেন এবং এ কারণে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিতি ও অফিস ফাঁকির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তৎকালীন সংশ্লিষ্ট ইসলামিক মিশন পরিচালক জানতে পেরে নিপসন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ২৩ আগস্ট ২০১০ তারিখে ইসলামিক মিশন বিভাগ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশাসন বিভাগে একটি ইউ-নোট পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানার পর তিনি পেছনের তারিখ উল্লেখ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৎকালীন মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজালের কাছে শিক্ষাছুটির আবেদন করেন। ওই আবেদনে তৎকালীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক সুপারিশ করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আবেদনে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে বিষয়টি বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন মহাপরিচালক ওই শিক্ষাছুটি মঞ্জুর করেন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ইসলামিক মিশন বিভাগে পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য এবং হজ মেডিকেল টিমে সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।
অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তিদের হজ মেডিকেল টিমে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তিকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, পরিচালকের কাছ থেকে তাঁরা নিয়মিত প্রশাসনিক নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। ফলে ৫৯টি মিশন, তিনটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম সমন্বয় করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁরা। পরিচালকের দাপ্তরিক ভূমিকা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের একাধিক সূত্রের দাবি, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন দাপ্তরিক সমস্যা নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তাঁদের কাজের বিষয়ে সহযোগিতার পরিবর্তে ভবিষ্যৎ পদোন্নতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এমনকি পদোন্নতি নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দাপ্তরিক কাজে আপাতত মহাপরিচালকের কাছে না যাওয়ার কথাও বলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। এসব কারণে বিভাগটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর সচিব সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। অনেক বিষয়ই আমার জানা নেই। তাই এ বিষয়ে এখনই কোনো মতামত দিতে পারছি না।
অন্যদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মহাপরিচালক মুফতী মহিবুল্লাহ হিল বাকি এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের ব্যাপারে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আমার হাতে সঠিক প্রমাণ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ডা. শাহানা আফরোজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু একটি হিন্দু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে। কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে জমি দখলের অপচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত এবং সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বরিশাল সদর রোডস্থ টাউন হলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস ও তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাস।
মানববন্ধনে সঞ্জয় চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, তাঁর দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাসের সূত্রে পাওয়া ২৯ শতাংশ জমি ও পুকুরটি ১৯৫৯ সাল থেকে তাঁদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি কলেজের নাম ব্যবহার করে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখিত মোহাম্মদ আজিজ খান ও মো. হাবিব খানের নেতৃত্বে গভর্নিং বডির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫), অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মিয়া (৬৫), সভাপতি মোহাম্মদ নয়ন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, তাঁদের জমি কলেজের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে। মাঝখানে সরকারি রাস্তা রয়েছে। এরপরও তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য হিসেবে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
সঞ্জয় জানান, গত ১৪ অক্টোবর প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করলে বাধা দেন তাঁরা। এ সময় তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাসসহ পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর একই ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল।
সম্পত্তি রক্ষায় ২০২০ সালে উজিরপুরের সিভিল সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানি মামলা (১৪/২০২০) দায়ের করা হয়। মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৬। এ ছাড়া হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ৪৮৯২/২০২৬, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে মিস কেস নম্বর ১৯৪৭/২০২৬ এবং উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় ০৭/২০২৬ নম্বরের মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। মিস কেসটির শুনানির তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২৬।
ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সঞ্জয় বলেন, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম ঘুষের বিনিময়ে তাঁদের জমি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে কলেজের সম্পত্তির সঙ্গে একত্র করেছেন। কোনো নোটিশ না দিয়েই জমি কর্তন করে ১৫৪২ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামানের গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে অনিয়মের বিষয় উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটি উজিরপুর মৌজায় অবস্থিত। এর জেএল নম্বর ৯২, এসএ খতিয়ান ৭৮৮ ও ৭৮৯, এসএ দাগ ১৩৪, বিএস খতিয়ান ১৩৫৫ এবং বিএস দাগ ১৯৬৩। এ ছাড়া আরএস খতিয়ান ২২১ ও ২২৩ এবং ডিপি খতিয়ান ১৩৫৫-এর সঙ্গে সম্পত্তিটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
মানববন্ধন থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ভূমি রেকর্ডের অনিয়ম তদন্ত এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার জানান, অভিযোগের সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড়সহ একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করেছে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি’র) সদস্যরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২৬) সকালে উপজেলার আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রানজিট ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ২০০১/এমপি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমতলী এলাকায় টহল দেওয়ার সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়।
এ সময় বিজিবির টহলদল গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করলে চালক রাস্তা পরিবর্তন করে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কাভার্ড ভ্যানটি ফেলে চালক পালিয়ে যায়। পরে কাভার্ড ভ্যানটিতে তল্লাশি করে ৯ হাজার ২৭৮ মিটার ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড় উদ্ধার করা হয়।
আটক করা কাপড় ও কাভার্ড ভ্যানের আনুমানিক বাজার মূল্য ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা। উদ্ধার করা চোরাচালানি মালামাল ও কাভার্ড ভ্যান আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি’র অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন