খুঁজুন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

যেখানে মানুষ জাগে, সেখানেই কমরেড মনি সিং

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
যেখানে মানুষ জাগে, সেখানেই কমরেড মনি সিং

চন্দন কুমার লাহিড়ী:

কমরেড মনি সিং জন্মেছিলেন ইতিহাসের এক অসম ভূখণ্ডে—যেখানে মানুষ ছিল, কিন্তু মানুষের অধিকার ছিল না। সেই বাস্তবতা তাঁকে শেখায়, মুক্তি ভিক্ষা নয়, মুক্তি সংগ্রামের ফল। তাই তিনি ঘর ছাড়লেন, সংসার ত্যাগ করলেন, রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে দাঁড়ালেন মানুষের পাশে। ব্যক্তিগত স্বর্গ তাঁর সামনে হাতছানি দিয়েছিল—ক্ষমতা, স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা—সবই তাঁর নাগালে ছিল। কিন্তু তিনি জানতেন, যে স্বর্গ কেবল একার, তা আসলে আরেক রকম নরক। তাই ভোগের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বেছে নিলেন ত্যাগের রাজনীতি, শ্রেণিসংগ্রামের অগ্নিপথ। তিনি পথে নামলেন—একজন ভবঘুরে বিপ্লবীর মতো, এক হাতে স্বপ্ন, অন্য হাতে ইতিহাস। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো তাঁর ডাক ছিল নীরব কিন্তু অপ্রতিরোধ্য। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এলো শ্রমিক, কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষ—যারা এতদিন ইতিহাসের পাদটীকায় বন্দি ছিল। বাধা এসেছে রাষ্ট্রের কাছ থেকে, বিপত্তি এসেছে ক্ষমতার কাছ থেকে, কারাগার এসেছে শাসনের হাতিয়ার হয়ে—তবু স্বপ্নের পথে যাত্রা থামেনি। কারণ যেখানে মানুষ জাগে, সেখানে শিকল টেকে না।
মনি সিং নিজে স্বপ্নমগ্ন ছিলেন না শুধু—তিনি স্বপ্নকে রাজনৈতিক চেতনায় রূপ দিয়েছিলেন। সেই চেতনা ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের আনাচে-কানাচে, দাবানলের মতো। আগুনের তাপ নেভানো যায়, কিন্তু মানুষের স্বপ্নের উত্তাপ নেভানো যায় না—কারণ সেই উত্তাপ জন্ম নেয়- ক্ষুধা থেকে, বঞ্চনা থেকে, অপমান থেকে। সেই স্বপ্নের কোনো ঠিকানা নেই, কোনো সীমানা নেই, কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। এক মানুষ থেকে আরেক মানুষের ভেতর তা প্রবাহিত হয় ইতিহাসের মতোই অবিরাম। এই স্বপ্নই রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করে, ক্ষমতাকে অস্বস্তিতে ফেলে, আর মানুষকে শেখায়—স্বর্গ আকাশে নয়, স্বর্গ গড়ে তুলতে হয় এই মাটিতেই।
শ্রমিক, শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের জীবন–জীবিকার সংগ্রাম সুদূর অতীত থেকেই অবিরাম চলে আসছে। এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় মহামতি কার্ল মার্কস ও ফ্রেডেরিক এঙ্গেলস তাঁদের মনন, দর্শন ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানুষের মুক্তির এক প্রামাণ্য দলিল নির্মাণ করেন। তাঁদের দর্শন, নিছক তত্ত্ব হয়ে থাকেনি; তা হয়ে উঠেছে শোষিত মানুষের হাতে সংগ্রামের দিশারি। এই মানবমুক্তির দর্শনকে হাতিয়ার করে বিপ্লবীরা যুগে যুগে পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার প্রত্যয়ে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সেই মনন ও দর্শনের উত্তরাধিকার বহন করেই কমরেড মনি সিং অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা শুরু করেন—নিজে পথ চলার পাশাপাশি হয়ে ওঠেন পথপ্রদর্শক। মানুষের মুক্তির যে সংগ্রাম তিনি ধারণ করেছিলেন, তা আজও অব্যাহত; সময় বদলালেও সংগ্রামের প্রয়োজন ও তাৎপর্য আজও অম্লান। যুগে যুগে মানবসভ্যতার ইতিহাসে জন্মগ্রহণ করেছেন মহান বিপ্লবীরা—যাঁরা ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তাকে তুচ্ছ করে জীবনভর সংগ্রাম করেছেন মানুষের মুক্তির জন্য। ইতিহাসের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তাঁরা বিলিয়ে দিয়েছেন নিজেদের জীবন, এগিয়ে গেছেন এমন এক পৃথিবী নির্মাণের সংগ্রামে যেখানে ক্ষুধা, অনাহার ও দারিদ্র্যের অবসান ঘটবে, আর মানুষের মুক্তিই হবে চিরন্তন মূল কথা। এই ধারাবাহিকতায় ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন ফিদেল আলেহান্দ্রো কাস্ত্রো—কিউবান বিপ্লবের নেতা ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রনায়ক; আর্নেস্তো ‘চে’ গুয়েভারা—বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রতীক; মাও সেতুং—চীনা বিপ্লবের প্রধান স্থপতি; হো চি মিন—ভিয়েতনামের স্বাধীনতা ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রূপকার; কিম ইল সুং—জুচে মতাদর্শের প্রবর্তক; সালভাদোর আয়েন্দে—গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট; দানিয়েল অর্তেগা—সান্দিনিস্তা বিপ্লবের নেতা; কার্লোস মারিগেলা—ব্রাজিলের বিপ্লবী তাত্ত্বিক ও গেরিলা সংগ্রামের পথিকৃৎ। ঠিক তেমনই, আমাদের এই ভূখণ্ডের বিপ্লবী স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন/থাকবেন কমরেড মনি সিং।
ভিন্ন ভাবনায় দেখলে লোভ, লালসা, দুঃখ ও যন্ত্রণার বন্ধন থেকে মুক্তির যে পথ মহামতি গৌতম বুদ্ধ মানবজাতিকে দেখিয়েছিলেন, কমরেড মনি সিংয়ের জীবনযাপনেও তার এক গভীর প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন সংসার-ত্যাগী, সকল প্রকার ভোগবাদী আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মুক্তির সংগ্রামে আত্মনিবেদিত এক বিপ্লবী। যেমন এক ভরা পূর্ণিমার রাতে গৌতম বুদ্ধ মায়ার টান ছিন্ন করে গৃহত্যাগ করেছিলেন—ত্যাগ করেছিলেন রাজপ্রাসাদ, সংসার, পুত্র ও ঐশ্বর্যে মোড়া স্বপ্নপুরী—ঠিক তেমনই কমরেড মনি সিংও সচেতনভাবে ব্যক্তিগত জীবনের মোহ কাটিয়ে মানুষের মুক্তির পথ অনুসন্ধানে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। দুঃখময়, বিষাদে ভরা পৃথিবীর মানুষের মুক্তির বাসনায় বুদ্ধ যেমন ভিক্ষুকের বেশে পথে নেমেছিলেন, তেমনি কমরেড মনি সিংও শোষিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বেছে নিয়েছিলেন নিরলস সংগ্রামের জীবন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেভাবে লিখেছেন—
“এরে ভিখারি সাজায়ে কী রঙ্গ তুমি করিলে,
হাসিতে আকাশ ভরিলে”—
এই পংক্তির মধ্যেই যেন ধরা পড়ে সেই মহান ত্যাগের সৌন্দর্য। মানুষের কষ্ট ও দুঃখ লাঘবের আকাঙ্ক্ষায় বুদ্ধ যেমন এক আশ্চর্য সাধনায়, ধ্যানমগ্নতার গভীরে নিমগ্ন হয়েছিলেন, তেমনি বিপ্লবীর সাধনা ছিল চিন্তার গভীরতায়, যুক্তির ধারালো অস্ত্রে ও প্রশ্নের নির্ভীক চর্চায়।
বৌদ্ধ সংঘে যেমন ভিক্ষুরা একত্রে বসবাস করতেন—কেউ ধ্যানে নিমগ্ন, কেউ ধর্মচর্চায় নিবিষ্ট, কেউ আবার অন্যকে মুক্তির পথ দেখাতেন—ঠিক তেমনই কমিউনিস্ট পার্টিও গড়ে উঠেছিল এক ভিন্নতর সংঘ হিসেবে। এখানে ধ্যানের জায়গায় ছিল চিন্তার গভীরতা, জপের জায়গায় ছিল যুক্তি ও প্রশ্ন, আর নির্বাণের আকাঙ্ক্ষার জায়গায় ছিল শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন। এই সংঘের এক নীরব কিন্তু অটল ও শক্ত স্তম্ভ ছিলেন কমরেড মনি সিং। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানি শাসনকাল এবং স্বাধীন বাংলাদেশ—প্রতিটি সংগ্রাম ও লড়াইয়ে উজ্জ্বল ভূমিকা রেখে তিনি পার্টিকে সমৃদ্ধ করেছেন। জেল-জুলুম, হুলিয়া ও নির্যাতন তাঁর সংগ্রামের পথে বিন্দুমাত্র বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বিশ্বাস ও ভালবাসায় (নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামে) তিনি সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল হয়ে উঠেছিলেন। দীর্ঘ, সংগ্রামমুখর ও মহিমান্বিত জীবন অতিক্রম করে ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর কমরেড মনি সিং মৃত্যুবরণ করেন; কিন্তু তাঁর আদর্শ, ত্যাগ ও সংগ্রাম আজও মানুষের মুক্তির পথে আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলছে।
দুর্গাপুর, নেত্রকোণা জেলার একটি উপজেলা। দুর্গাপুরের প্রকৃত সৌন্দর্য তার ভূগোলে নয়—তার প্রাণে, আর সেই প্রাণের নাম স্বচ্ছ সোমেশ্বরী নদী। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়ের অভ্যন্তরে সীমসাংগ্রী বা সমসাংগা নামক স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে সোমেশ্বরী নদী বাঘমারা বাজারের পাশ দিয়ে দুর্গাপুরে প্রবেশ করেছে। দুর্গাপুরের বুক চিরে, তার পাশ ঘেঁষেই বয়ে গেছে এই অপূর্ব সুন্দর নদী। কলকাতা শহরে জন্ম হলেও শৈশব থেকে এখানেই বেড়ে উঠেছেন কমরেড মনি সিং । ফলে পাহাড়ঘেরা সোমেশ্বরী নদীর পাড়ের মানুষ আর মানুষের মন—দুটোই তাঁর ভেতরে এক অনন্য, মোহময় বিস্তার নিয়ে গড়ে উঠেছে। নদীর মতোই এই মানুষগুলো—কখনো উথাল-পাথাল, কখনো উদ্দাম, আবার কখনো মায়াবী কোমলতায় নীরব; অথচ বিশ্বাসে দৃঢ় ও অবিচল। সোমেশ্বরী নদী কোমল, স্বচ্ছ। তার তলদেশে বালিকণার নীরব ঝিলিক। কখনো সে বান ডাকে, একূল ভেঙে পড়ে, আবার অন্য কূলে গড়ে তোলে নতুন স্বপ্ন, আশা। জনজীবন হারায় না—শুধু স্থান বদলায়। নদীর পাড় আঁকড়ে ধরে মানুষ বাঁচে, স্বপ্ন দেখে; বছরের পর বছর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। তাই নদী আর মানুষের আত্মার এই মিলন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অবিরাম বয়ে চলে। ঠিক সেই নদীর মতোই কমরেড মনি সিংয়ের সঙ্গে আমাদের প্রেম, ভালোবাসা ও আদর্শের এক গভীর মেলবন্ধন। কমরেড মনি সিং ছিলেন আমাদের সোমেশ্বরীর মতোই—বিশ্বাসী, কঠিন, উদার; নিঃশব্দ অথচ গভীরভাবে স্বচ্ছ। তিনি প্রবাহমান ছিলেন মানুষের জীবনের ভেতর দিয়ে, সংগ্রামের ভেতর দিয়ে। আজও আমরা হাঁটি তাঁর দেখানো সেই মায়াবী স্বপ্নের পথ ধরে—মানুষের মুক্তির সংগ্রামের পথে। যে পথে নদী কথা বলে, আর মানুষ বাঁচে প্রবল আশার বিশ্বাসে; শ্রেণীহীন, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়ে। কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর পাড়ে জন্ম নেওয়া মরমী সাধক ফকির লালন শাহ যেমন লোকায়ত জীবনে ভাবাদর্শের এক প্রবল বান ডেকেছিলেন, তেমনি নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে বেড়ে ওঠা কমরেড মনি সিং মানুষের মুক্তির সংগ্রামের পথিকৃত হয়ে উঠেছিলেন। একজন আত্মার মুক্তির কথা বলেছিলেন, আরেকজন বলেছিলেন সমাজের মুক্তির কথা। সেই দুই ধারাই আজও আমাদের সাহস জোগায়, পথ দেখায়, এবং সংগ্রামে অবিচল থাকতে প্রেরণা দেয়।
মনে রাখতে হবে, ২০২৫ সালের শেষেও আমরা যারা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর সঙ্গে যুক্ত, আমরা এক মহান অতীত সংগ্রামের পথ ধরে অবিরাম এগিয়ে চলছি। সেই পথেই নিহিত আমাদের মুক্তির বার্তা, সেই পথেই জন্ম নেয় নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা। অতীতকে ভুলে গেলে আমরা পথ হারাবো; অতীতকে স্মরণ করলে আমরা শক্তিশালী হয়ে উঠবো, সংগ্রামের অগ্নিপথে আরও দৃঢ়ভাবে হাঁটতে পারবো।

লেখক পরিচিতি: মুক্ত সাংবাদিক ও অধিকার কর্মী।
Email: Laherichandan@gmail.com

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের প্রয়াত ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মালিতার পরিবারের জমিজমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত বুধবার ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তাঁর একমাত্র পুত্র ও মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ।

সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের পৌরসভা গেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন আনোয়ারুজ্জামান আজাদ। তাঁর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে তাঁর ইন্টারনেট ব্যবসা ও জমিজমার ওপর স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর নজর পড়ে। ওই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল মোল্ল্যা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আমি আমার পরিবারের একমাত্র সন্তান। উত্তরাধিকারসূত্রে বেশ কিছু মূল্যবান সম্পত্তি পেয়েছি। আমার অভিযোগ, কাজলসহ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নজর এসব সম্পত্তির ওপর পড়েছে। তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে আমার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আমি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

অভিযোগের বিষয়ে কাজল মোল্ল্যার বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাউদজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার  উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে  ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ প্রতিনিধ:

**সম্পুর্ন অরাজনৈতিক দ্বীনি আধ্যাত্মিক সংগঠন মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মাহফিলে প্রবাসী রাজনীতিবিদ আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ**

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে মদিনার জামাত, মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে মালদ্বীপের রাজধানী মালের সি বিল্ডিং অডিটোরিয়ামে এ ওয়াজ,দোয়া মাহফিল ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার আয়োজিত এ মাহফিলে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার আহ্বায়ক মোঃ আল আমিন এর পরিচালনায় মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরে কুরআন এবং বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও দেশ টিভির ইসলামিক আলোচক আলহাজ হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মহসিন কবীর ইউছুফী,পীর সাহেব মদিনার জামাত কদমতলী শাহী দরবার শরীফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ খলিলুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সভাপতি, মালদ্বীপ বিএনপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপ বি এন পির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম, মালদ্বীপ বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ নেহের মিয়া রানা, সহ-সভাপতি, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, সহ-সভাপতি; মোঃ মুক্তার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরীফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান কালাম
সহ সাংগঠনিক আবুল কালাম আজাদ, ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক মিয়া বি- বাড়িয়া সংগঠন, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মোঃ আলমগীর সিকদার।
মালদ্বীপস্থ ঢাকা ট্রেডার্সসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত মাহফিলে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনের সমন্বয়ে মাহফিলে আরো
উপস্থিত ছিলেন মোঃ আরিফুর ইসলাম, সভাপতি পদপ্রার্থী মালদ্বীপ যুবদল, মোঃ মাসুদ মুন্না আহ্বায়ক, স্বেচ্ছাসেবক দল মালদ্বীপ শাখা এবং মোঃ আবু আহমেদ সেলিম মিয়া, প্রবাসী ব্যবসায়ী, মালদ্বীপ।

আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ নুরুন্নবী মানিক,ব্যবসায়ী মো হারুন মিয়া মোঃ মাহফুজুর রহমান মোঃ রমো মিয়া, মোঃ জানে আলম সুন্নী ও মোঃ হাফিজুর রহমান ।
মাহফিলে কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা পেশ করেন হযরত মাওলানা মোঃ মাসুম বিল্লাহ, হযরত মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ ইসরাফিল হোসেন, হযরত মাওলানা মোঃ আঃ হান্নান, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ রিফাতুল ইসলাম এবং মোঃ ইসমাইল হোসেন, খাদেম, মদিনার জামাত মালদ্বীপ ও মোঃ নুরুল আমিন সুন্নি ।

মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা প্রবাসী জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে মালদ্বীপে বসবাসরত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সবশেষে সকল কবর বাসী, দেশ জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নানের ভাই আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে পূর্বশত্রুতার জেরে অপহরণ, সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী নিজ ব্যবসায়িক কাজে অবস্থানকালে পূর্বশত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা তৎপর হয়ে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তাদের সহযোগিতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকেই তাকে এবং তার ভাই সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান কে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী, ১ নং বিবাদী দেলোয়ার হোসেন টুকু, ২ নং বিবাদী মোঃ সবুজ, ইতিমধ্যে ঘটনার জেরে বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা ৩নং বিবাদী মোঃ আমিনুল হক গং দের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও পেশাগত ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুধু ভুক্তভোগী ও তার ভাইকে হুমকি দেওয়ার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর দায়ের করা মামলার সাক্ষীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি, চাপ সৃষ্টি এবং ভিন্ন পন্থায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার সাক্ষীরা যাতে নিরপেক্ষ ভাবে তাদের বক্তব্য দিতে না পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত হয়, সে উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ কারীদের দাবি। তারা বলেন, কোনো মামলার বাদী, তার পরিবার কিংবা সাক্ষীদের ওপর চাপ বা হুমকি সৃষ্টি করা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ। এক প্রতিবাদ বার্তায় তারা বলেন, একজন সাংবাদিক নেতার ভাইকে অপহরণ, তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক অর্থ নিয়ে যাওয়া এবং মুক্তিপণ দাবি করার মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। এর পর মামলা দায়ের করায় বাদী ও তার ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো এবং মামলার সাক্ষীদের হয়রানি করার অভিযোগ আরও বেশি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এসএসপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনাটিকে কোনো ভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যার হুমকি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার কিংবা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ, প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, সাংবাদিক আব্দুল মান্নান এবং মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সাংবাদিক সমাজকে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রাব) সভাপতি মো. কাদের মনসুরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, একজন নাগরিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা, মামলা দায়েরের পর বাদী ও তার স্বজনদের হুমকি দেওয়া এবং সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, এসব অভিযোগ কোনো ভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রভাব যেন আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন ন্যায়বিচার পাবে, তেমনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিও মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী কিংবা অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ঝিনাইদহে ব্যবসায়ীকে চাঁদা ও জমি দখলের হুমকির অভিযোগ ফেনীতে কৃষকদল নেতা আমিনুল হক বহিষ্কার