খুঁজুন
, ,

উদার মানুষ মানেই বিত্তবান নয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
উদার মানুষ মানেই বিত্তবান নয়

লেখক মো. গোলাম ফারুক মজনু

রাস্তাঘাটের টঙের দোকানে এক কাপ চায়ের বিল দেওয়া কিংবা কোনো রেস্টুরেন্টে চা-কফির দাম পরিশোধ করা, বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই সাধারণ। কিন্তু এই সামান্য বিলের আড়ালেও কখনো কখনো লুকিয়ে থাকে গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা কিংবা নীরব আত্মত্যাগ। তাই কেউ আপনার চায়ের বিল দিলেই ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে তার হাতে অঢেল টাকা আছে, কিংবা টাকা খরচ করার কোনো পথ সে খুঁজে পাচ্ছে না। অনেক সময় মানুষ নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও প্রিয় মানুষটির জন্য কিছু করতে চায়। কেউ নিজের যাতায়াতের টাকা বাঁচিয়ে এক কাপ চায়ের বিল দেয়, কেউ পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ কিছুটা কমিয়ে প্রিয়জনকে আপ্যায়ন করে। বাইরে থেকে আমরা শুধু বিলটি দেখি, কিন্তু দেখি না সেই বিলের পেছনে থাকা মানুষের সামর্থ্য, সংকট কিংবা ত্যাগ। অথচ সেই সামান্য খরচটিই হয়তো তার দিনের একটি প্রয়োজনীয় ব্যয় ছিল। তারপরও প্রিয় মানুষটির মুখে হাসি দেখার জন্য সে নিজের প্রয়োজনকে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যায়। ভালোবাসার এই হিসাব কোনো ক্যালকুলেটরে মাপা যায় না। এটি অনুভব করতে হয় হৃদয় দিয়ে।

আমাদের সমাজে এমন অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা নিজের প্রয়োজনকে সাময়িক ভাবে পেছনে রেখে অন্যের জন্য খরচ করেন। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জীবনে এমন উদাহরণ কম নয়। অনেক ব্যবসায়ী নিজের প্রিয়জন, বড় ভাই, শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা সম্মানিত কোনো ব্যক্তির জন্য বিমানের টিকিট কিনে দেন, বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করেন, পরিবারের জন্য হোটেল বুক করে দেন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, তার হাতে বুঝি প্রচুর টাকা আছে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন। খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে, সেই টিকিটের টাকা তিনি ধার করেছেন, ব্যবসার মূলধন থেকে দিয়েছেন কিংবা নিজের পরিবারের কোনো প্রয়োজনীয় খরচ সাময়িক ভাবে স্থগিত রেখেছেন। তবুও তিনি তা করেছেন কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়ার আশায় নয়। করেছেন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। একজন মানুষ যখন নিজের সামর্থ্যের সীমা অতিক্রম করে অন্যের জন্য কিছু করেন, তখন তার সেই কাজকে শুধু অর্থের অঙ্ক দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। কারণ সেখানে হয়তো টাকার চেয়ে বড় হয়ে থাকে তার অনুভূতি।

কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমরা অনেক সময় মানুষের উদারতাকে তার আর্থিক সক্ষমতার মাপকাঠি বানিয়ে ফেলি। কেউ একবার বড় কিছু করে দিলে ধরে নিই, সে ভবিষ্যতেও একইভাবে করতে পারবে। একসময় সেই আন্তরিকতা পরিণত হয় প্রত্যাশায়, আর প্রত্যাশা থেকে জন্ম নেয় অধিকারবোধ। যে মানুষটি একদিন আনন্দের সঙ্গে আপনার জন্য কিছু করেছিলেন, পরদিন তার সামর্থ্য না থাকলে তাকেই হয়তো স্বার্থপর, পরিবর্তিত কিংবা অকৃতজ্ঞ মনে হতে থাকে। অথচ আমরা একবারও ভাবি না, যে মানুষটি আগের দিন আপনার জন্য খরচ করেছিলেন, সেটি হয়তো তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত ছিল। হয়তো নিজের প্রয়োজন বাদ দিয়েই তিনি আপনাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাই কারও একদিনের উদারতাকে তার স্থায়ী সামর্থ্য হিসেবে ধরে নেওয়া শুধু অন্যায় নয়, সম্পর্কের প্রতিও এক ধরনের অবিচার।

সমাজে আরও এক শ্রেণির মানুষ আছেন, যারা অন্যের সরলতা, ভদ্রতা ও আন্তরিকতাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেন। তারা কখনো জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, সামাজিক পরিচয় কিংবা সম্পর্কের আবরণে মানুষের কাছাকাছি আসেন। কথাবার্তায় থাকে প্রজ্ঞার ঝলকানি, আচরণে থাকে অভিজ্ঞতার ছাপ। কিন্তু সুযোগ পেলেই অন্যের আবেগ, বিশ্বাস কিংবা আতিথেয়তাকে নিজের সুবিধার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। কেউ একবার আপ্যায়ন করলে বারবার প্রত্যাশা করেন, কেউ একবার সহযোগিতা করলে সেটিকে ভবিষ্যতের অধিকার মনে করেন। অথচ তারা ভুলে যান, যে মানুষটি সহযোগিতা করছে, সে দুর্বল নয় বরং সম্পর্ককে সম্মান করেই উদার হচ্ছে। মানুষের ভালোবাসাকে সুযোগ হিসেবে দেখা এবং তার সরলতাকে নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করা কোনো ভাবেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হতে পারে না।

এ ধরনের মানসিকতা থেকে আমাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একজন মানুষের ভালো ব্যবহার, উদারতা কিংবা অতিথিপরায়ণতা তার দুর্বলতার প্রমাণ নয়। বরং অনেক সময় সেটিই তার সবচেয়ে বড় মানবিক শক্তি। যে মানুষ নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও অন্যের পাশে দাঁড়ায়, তাকে দুর্বল ভাবা মানে তার মানবিকতাকে অপমান করা। একই সঙ্গে যারা ভালোবাসা ও সহযোগিতা পান, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে সেই অনুভূতির মর্যাদা দেওয়ার। কারণ একজন মানুষ আপনার জন্য কিছু করছে মানেই এই নয় যে সে তা করতেই বাধ্য। সে হয়তো সম্পর্কের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নিজের ইচ্ছায় করছে। সেই ইচ্ছাকে অধিকার বানিয়ে ফেলা সম্পর্কের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়।

তাই কারও পকেট দেখে তার হৃদয়ের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত নয়। একজন মানুষ কত টাকা খরচ করতে পারে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে কেন খরচ করছে। এক কাপ চায়ের বিল হয়তো অর্থের দিক থেকে সামান্য কিন্তু সেটি যদি আসে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকে, তবে তার মূল্য অনেক বড়। আবার একটি বিমানের টিকিট হয়তো অনেক টাকার, কিন্তু তার পেছনে যদি থাকে কেবল স্বার্থ, তবে সেই ব্যয়ের মানবিক মূল্য খুব সামান্য। অর্থের পরিমাণ কখনো মানুষের অনুভূতির গভীরতা নির্ধারণ করতে পারে না। কখনো সামান্য একটি চা হয়ে ওঠে গভীর ভালোবাসার প্রতীক, আবার কখনো বড় কোনো উপহারও হয়ে উঠতে পারে নিছক স্বার্থের লেনদেন।

সম্পর্কের সৌন্দর্য টাকার অঙ্কে নয়, অনুভূতির গভীরতায়। কেউ আপনার জন্য নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কিছু করলে তার সামর্থ্যকে নয়, তার আন্তরিকতাকে সম্মান করুন। আর আপনি যদি কারও কাছ থেকে ভালোবাসা, সহযোগিতা কিংবা আতিথেয়তা পান, সেটিকে নিজের অধিকার মনে করবেন না। মনে রাখবেন, মানুষের দেওয়া প্রতিটি সহায়তার পেছনে হয়তো এমন কোনো ত্যাগ থাকে, যার কথা সে কখনো আপনাকে জানায়নি। হয়তো যে মানুষটি হাসিমুখে আপনার জন্য বিল পরিশোধ করছে, সেই মানুষটিই নিজের প্রয়োজনের সময় নীরবে হিসাব কষছে। হয়তো যে ব্যবসায়ী আপনার জন্য বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করছেন, তিনি নিজের পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে অনেক কিছু ত্যাগ করছেন। তার সেই ত্যাগকে সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

উদার মানুষ মানেই বিত্তবান নয়। অনেক সময় সবচেয়ে উদার মানুষটিই হয়তো সবচেয়ে বেশি হিসাব করে চলেন, শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্য। নিজের প্রয়োজনের সঙ্গে আপস করেই তিনি অন্যের প্রয়োজন পূরণ করেন, নিজের কষ্ট আড়াল করেই অন্যের মুখে হাসি ফোটান। তার কাছে ভালোবাসার মূল্য টাকার অঙ্কে নয়, সম্পর্কের মর্যাদায়। তাই এমন মানুষকে তার উদারতার কারণে আরও বেশি খরচ করতে বাধ্য করা নয়, বরং তার আন্তরিকতার মর্যাদা দেওয়া উচিত। কারণ ভালোবাসা তখনই সুন্দর, যখন সেখানে প্রত্যাশার চেয়ে কৃতজ্ঞতা বেশি থাকে। অধিকারবোধের চেয়ে সম্মান বেশি থাকে।

আমাদের মনে রাখা দরকার, মানুষের পকেটের হিসাব নেওয়া সহজ, কিন্তু তার হৃদয়ের হিসাব বোঝা কঠিন। তাই যে মানুষটি ভালোবাসা থেকে আপনার জন্য এক কাপ চায়ের বিল দেয়, তার কাছে কত টাকা আছে সেটি নয়। আপনার জন্য সে কতটা আন্তরিক, সেটিই দেখুন। যে মানুষটি নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে আপনার জন্য একটি টিকিটের ব্যবস্থা করে, তার সম্পদ নয় তার ত্যাগটুকু মনে রাখুন। আর যারা মানুষের সরলতা ও ভালোবাসাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন, তাদের থেকেও দূরে থাকা উচিত। কারণ অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা যায়, কিন্তু একজন মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আত্মত্যাগ কখনোই কেনা যায় না। সম্পর্ক টিকে থাকে অর্থের জোরে নয়, টিকে থাকে পারস্পরিক সম্মান, কৃতজ্ঞতা, বিশ্বাস ও মানবিকতার ওপর।

উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি:

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু একটি হিন্দু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে। কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে জমি দখলের অপচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত এবং সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বরিশাল সদর রোডস্থ টাউন হলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস ও তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাস।

মানববন্ধনে সঞ্জয় চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, তাঁর দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাসের সূত্রে পাওয়া ২৯ শতাংশ জমি ও পুকুরটি ১৯৫৯ সাল থেকে তাঁদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি কলেজের নাম ব্যবহার করে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখিত মোহাম্মদ আজিজ খান ও মো. হাবিব খানের নেতৃত্বে গভর্নিং বডির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫), অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মিয়া (৬৫), সভাপতি মোহাম্মদ নয়ন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, তাঁদের জমি কলেজের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে। মাঝখানে সরকারি রাস্তা রয়েছে। এরপরও তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য হিসেবে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
সঞ্জয় জানান, গত ১৪ অক্টোবর প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করলে বাধা দেন তাঁরা। এ সময় তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাসসহ পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর একই ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল।

সম্পত্তি রক্ষায় ২০২০ সালে উজিরপুরের সিভিল সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানি মামলা (১৪/২০২০) দায়ের করা হয়। মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৬। এ ছাড়া হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ৪৮৯২/২০২৬, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে মিস কেস নম্বর ১৯৪৭/২০২৬ এবং উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় ০৭/২০২৬ নম্বরের মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। মিস কেসটির শুনানির তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২৬।

ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সঞ্জয় বলেন, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম ঘুষের বিনিময়ে তাঁদের জমি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে কলেজের সম্পত্তির সঙ্গে একত্র করেছেন। কোনো নোটিশ না দিয়েই জমি কর্তন করে ১৫৪২ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামানের গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে অনিয়মের বিষয় উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটি উজিরপুর মৌজায় অবস্থিত। এর জেএল নম্বর ৯২, এসএ খতিয়ান ৭৮৮ ও ৭৮৯, এসএ দাগ ১৩৪, বিএস খতিয়ান ১৩৫৫ এবং বিএস দাগ ১৯৬৩। এ ছাড়া আরএস খতিয়ান ২২১ ও ২২৩ এবং ডিপি খতিয়ান ১৩৫৫-এর সঙ্গে সম্পত্তিটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

মানববন্ধন থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ভূমি রেকর্ডের অনিয়ম তদন্ত এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার জানান, অভিযোগের সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক

বাপ্পি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড়সহ একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করেছে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি’র) সদস্যরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২৬) সকালে উপজেলার আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রানজিট ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ২০০১/এমপি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমতলী এলাকায় টহল দেওয়ার সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়।

এ সময় বিজিবির টহলদল গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করলে চালক রাস্তা পরিবর্তন করে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কাভার্ড ভ্যানটি ফেলে চালক পালিয়ে যায়। পরে কাভার্ড ভ্যানটিতে তল্লাশি করে ৯ হাজার ২৭৮ মিটার ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড় উদ্ধার করা হয়।

আটক করা কাপড় ও কাভার্ড ভ্যানের আনুমানিক বাজার মূল্য ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা। উদ্ধার করা চোরাচালানি মালামাল ও কাভার্ড ভ্যান আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি’র অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না

বিশেষ প্রতিনিধি:

তাফরিদ কটন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ সামিউল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি, বেতন-ভাতা আত্মসাৎ এবং ব্যাংকঋণসংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশ করেছিল জি২৪ নিউজ।

সংবাদ প্রকাশের পরপরই জি২৪ নিউজের সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলামসহ সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির বাদী ছিলেন শেখ সামিউল ইসলামের স্ত্রী।

আদালতের নির্দেশে প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানা মামলাটি তদন্ত করে। তদন্তে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

পরবর্তীতে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়া হলে আদালত পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে।

সিআইডির কর্মকর্তা শামীম আল আহমেদের নেতৃত্বে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে কোনো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিআইডিও সাংবাদিকদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

এটি শুধু সাতজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার তদন্তের বিষয় নয়; এটি সত্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এদিকে, এ ঘটনায় জি২৪ নিউজের সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন Protect Journalists উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। সংগঠনটি তাদের উদ্বেগের কথা বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন
আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য, তথ্য ও জনস্বার্থ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করাই আমার পেশাগত দায়িত্ব।

আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মামলা, হুমকি কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যাবে না। জনস্বার্থে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমি কখনো আপস করব না।

সত্যের সন্ধানে—আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবে।

উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না নতুন উপজেলা গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া।। মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ "মোবাইল কোর্ট অভিযানে" আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে