খুঁজুন
, ,

বেগম খালেদা জিয়া: জন্ম থেকে মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতির এক যুগের অবসান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
বেগম খালেদা জিয়া: জন্ম থেকে মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতির এক যুগের অবসান

প্রধান প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করা খালেদা জিয়া শৈশবে ছিলেন শান্ত ও পরিবারমুখী। পরবর্তীতে দিনাজপুরে বেড়ে ওঠেন। ১৯৬০ সালে সেনাবাহিনীর তরুণ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকেন। স্বাধীনতার পরে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অনুপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে।
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলে বিএনপির নেতৃত্বে এগিয়ে আসেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে তিনি দলটির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রে উঠে আসেন। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে ওঠেন। দেশব্যাপী বিক্ষোভ, হরতাল, লংমার্চ, গণসমাবেশে তিনি নেতৃত্ব দেন। একাধিকবার তাকে গ্রেফতার ও গৃহবন্দি অবস্থায় রাখতে হয়। তবুও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয় ও সাহসী।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহু ক্ষেত্রে অগ্রগতি লাভ করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও অর্থনীতিতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আরও দু’বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বের প্রভাব বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়।

২০০৮ সালের পর দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের হয় এবং তিনি দণ্ডিত হন। বহু বছর তিনি কারাবন্দি ছিলেন। বিএনপির দাবি ছিল এসব রাজনৈতিক প্রতিহিংসা; সরকার বলেছিল এগুলো ছিল আইনি প্রক্রিয়া। কারাবন্দি জীবনেই তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটতে শুরু করে। পরে মানবিক বিবেচনায় তাঁকে বাসায় চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি লিভার, কিডনি ও শ্বাসযন্ত্রজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।
গত কয়েক মাস ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দেশি বিদেশী চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
আজ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ৬ টায় চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা দেশের রাজনীতির প্রতিটি বাঁকে তাঁর উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন দেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নতুন উপজেলা গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া।। মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
নতুন উপজেলা গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া।। মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ

বাপ্পি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন ও বিজয়নগর উপজেলার ১টি ইউনিয়ন ভেঙ্গে আখাউড়া উপজেলার বরিশল ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করে “বরিশল” নামে নতুন উপজেলা গঠন করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

প্রস্তাবের প্রতিবাদে সোমবার (০২ নভেম্বর ২৬) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করে ৪ ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় তারা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী মোড় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবরোধ করে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে নতুন উপজেলার প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি গোপন রাখায় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এডঃ শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডঃ তরিকুল ইসলাম রোমা, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ ৪ ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গ জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ এর সাথে কথা বলে প্রস্তাব বাতিলের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করে।

এ সময় বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার, রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব ও বিজয়নগর উপজেলার সিংঙ্গারবিলকে ভেঙ্গে “বরিশল” ইউনিয়ন নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন জেলা বিএনপি নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। তার এই পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের আলোকে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন উপজেলা নিরীক্ষণের জন্য একটি দাপ্তরিক পত্র পাঠিয়েছে । এবং জেলা প্রশাসক বিষয়টি গোপন রেখেছে যা কখনো মেনে নেয়া হবে না। বক্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সদর ও বিজয়নগর উপজেলাকে ভেঙ্গে নতুন উপজেলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলপথ, সড়কপথ অবরোধসহ তীব্র আন্দোলনের মাধমে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। তারা বর্তমানের ন্যায় সদর উপজেলার সাথে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন।

“মোবাইল কোর্ট অভিযানে” আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
“মোবাইল কোর্ট অভিযানে”  আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে

বাপ্পি আহমেদ, জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক এর নির্দেশে রবিবার (০১ নভেম্বর ২০২৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়।
মোবাইল কোর্ট অভিযানের এর দায়িত্বে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কালেক্টরেট (ডিসি অফিস) এ কর্মরত এনডিসি রাশেদুল হক সজীব।

এ সময় আটকের পরও ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে!

এ বিষয়ে (এনডিসি) রাশেদুল হক সজীব এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে আগামী নিউজ এ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পেট্রোল ঢেলে গৃহবধুর শরীরে আগুন দেয়ার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পেট্রোল ঢেলে গৃহবধুর শরীরে  আগুন দেয়ার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

বাপ্পি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এতে ইখতারা সরকার (৩০) নামে এক গৃহবধূর শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনি ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে আশুগঞ্জ উপজেলার চর-চারতলা এলাকার সরকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ইখতারা ওই এলাকার ইদন সরকারের মেয়ে। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় ১ বছর ধরে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। প্রায় দেড় মাস আগে মারধরের পর ২ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন ইখতারা।

স্বজনদের দাবি, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) ছোট ছেলেকে নিতে শ্বশুর বাড়িতে আসেন জাহাঙ্গীর। এ সময় স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন শনিবার ভোরে ইখতারার মা ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হলে সেই সুযোগে জাহাঙ্গীর ঘরে ঢুকে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ইখতারার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ।
পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক স্বামীকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চলছে।

নতুন উপজেলা গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া।। মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ "মোবাইল কোর্ট অভিযানে" আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পেট্রোল ঢেলে গৃহবধুর শরীরে আগুন দেয়ার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টিকটক ভিডিওতে মন্তব্য করার জের ধরে সালিশের পরও দুই গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ গৌরীচন্না ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাংবাদিক গোলাম হায়দার স্বপন