খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

স্বপ্নের দালাল, সর্বস্বান্ত মানুষ ও জীবনের নির্মম বাস্তবতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
স্বপ্নের দালাল, সর্বস্বান্ত মানুষ ও জীবনের নির্মম বাস্তবতা

মো. গোলাম ফারুক মজনু
সভাপতি, সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)
সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক বিপ্লবী জনতা।

জীবনের মানে বুঝতে বুঝতে কখন যে জীবনের অর্ধেকটা পথ পেরিয়ে গেছে, কখনো কখনো তা নিজেকেই বিস্মিত করে। শৈশবে জীবন ছিল স্বপ্নের মতো, বড় হয়ে অনেক কিছু করব, পরিবারকে ভালো রাখব, নিজের একটা পরিচয় তৈরি করব, প্রিয় মানুষ গুলোর মুখে হাসি ফুটাব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্নগুলো বদলেছে, বাস্তবতার রং বদলেছে, মানুষের চেহারা চিনতে শিখেছি, সম্পর্কের হিসাব বুঝতে শিখেছি। তবুও আজও নিজেকে প্রশ্ন করি, জীবন আসলে কী? শুধু জন্ম নেওয়া, বড় হওয়া, অর্থ উপার্জন করা এবং একদিন চলে যাওয়াই কি জীবন? নাকি জীবন হলো প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে একটু ভালো থাকার চেষ্টা, প্রিয় মানুষগুলোর জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা এবং আগামী দিনের জন্য একটি নিরাপদ স্বপ্ন বুকে ধারণ করে পথ চলা? হয়তো জীবনের সংজ্ঞা খুঁজতে খুঁজতেই মানুষ একদিন জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যায়। আর তখন বুঝতে পারে, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্য হলো, মানুষ স্বপ্ন দেখে বাঁচার জন্য, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই কখনো কখনো তাকে সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়।

আজকের পৃথিবীতে একটি উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষা মানুষের খুব স্বাভাবিক স্বপ্ন। বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষিত বেকার কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান প্রতিদিন স্বপ্ন দেখেন বিদেশে যাওয়ার। কেউ ইউরোপে যেতে চান, কেউ আমেরিকায়, কেউ কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে গিয়ে ভালো একটি চাকরি করতে চান। উদ্দেশ্য একটাই, নিজের জীবন বদলানো, পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করা, সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করা এবং বাবা-মায়ের মুখে একটু স্বস্তির হাসি ফোটানো। একজন মানুষ যখন বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি শুধু একটি বিমানের টিকিট কেনেন না, তিনি আসলে নিজের জীবনের নতুন একটি অধ্যায়ের স্বপ্ন কেনেন। তার চোখে থাকে ভবিষ্যতের ছবি, একটি ভালো চাকরি, নিয়মিত বেতন, পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি, সন্তানের উন্নত শিক্ষা এবং প্রিয়জনদের একটু ভালো রাখার আকাঙ্ক্ষা। এই স্বপ্নের মূল্য তার কাছে লাখ লাখ টাকা হলেও বাস্তবে সেই টাকার মূল্য তার পরিবারের কাছে আরও অনেক বেশি। কারণ সেই অর্থের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে বছরের পর বছর জমিয়ে রাখা সঞ্চয়, কৃষকের গরু-ছাগল বিক্রির টাকা, পৈতৃক সম্পত্তির অংশ বিক্রির অর্থ, মায়ের সঞ্চয়, স্ত্রীর গয়না কিংবা বোনের বহুদিনের জমানো স্বর্ণ। অর্থাৎ একটি পরিবারের বহু বছরের ত্যাগ, কষ্ট এবং ভালোবাসা একত্রিত হয়ে তৈরি হয় একটি মানুষের বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন।

কিন্তু এই স্বপ্নের বাজারেই তৈরি হয়েছে এক নির্মম বাস্তবতা। মানুষের উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগ, যেখানে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, অতিরঞ্জিত বেতনের প্রলোভন, ভুয়া চাকরির নিশ্চয়তা কিংবা বিদেশে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় বিপুল অর্থ। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই প্রতারণা সবসময় অচেনা বা সন্দেহজনক চেহারার মানুষের মাধ্যমে আসে না। অনেক সময় সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত, দামি গাড়ি ব্যবহারকারী, বিলাসবহুল জীবন যাপনকারী, চমৎকার পোশাক পরিহিত এবং প্রভাবশালী পরিচয় বহনকারী ব্যক্তিরাও মানুষের কাছে নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যেন তারাই বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। সাধারণ মানুষ তখন বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে বিশ্বাস করে, কথার ওপর ভরসা করে এবং নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলে। অথচ সেই বিশ্বাসের আড়ালে যদি প্রতারণা লুকিয়ে থাকে, তাহলে একটি পরিবারের জন্য তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারে না।

কারও কাছে যে পাঁচ লাখ টাকা শুধু একটি অঙ্ক, সেই পাঁচ লাখ টাকা হয়তো একজন কৃষকের জীবনের সমস্ত সঞ্চয়। কারও কাছে দশ লাখ টাকা হয়তো ব্যবসার মূলধন, কারও কাছে তা পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির শেষ সম্বল, আবার কারও কাছে স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে সংগ্রহ করা অর্থ। একজন বাবা হয়তো সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জমি বিক্রি করেছেন। একজন মা হয়তো সন্তানের বিদেশ যাওয়ার জন্য নিজের গয়না খুলে দিয়েছেন। একজন স্ত্রী হয়তো স্বামীর স্বপ্ন পূরণ হবে এই আশায় নিজের শেষ সম্বলটুকুও তুলে দিয়েছেন। সেই অর্থ যখন প্রতারণার মাধ্যমে হারিয়ে যায়, তখন শুধু একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পকেট খালি হয় না, খালি হয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্নের ঘর। তখন প্রতিদিনের সংসার হয়ে ওঠে হিসাবের খাতা, প্রতিটি কথায় উঠে আসে পাওনা টাকার প্রসঙ্গ, ঋণের চাপ, আত্মীয়ের প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। যে মানুষটি একদিন পরিবারের কাছে আশার প্রতীক ছিলেন, তিনিই একসময় নিজের পরিবারের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। আর এই অসহায়ত্বের যন্ত্রণা কোনো অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।

অর্থনৈতিক প্রতারণার সবচেয়ে বড় ক্ষত অনেক সময় অর্থনীতিতে নয়, মানুষের সম্পর্কের ভেতরে তৈরি হয়। একটি পরিবারের সদস্যরা যখন নিজেদের শেষ সম্বল দিয়ে কোনো স্বপ্নের পেছনে বিনিয়োগ করেন এবং সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়, তখন পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসে ফাটল ধরে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় সন্দেহ ও অভিমান, ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের দূরত্ব তৈরি হয়, আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হয়, কেউ কাউকে দোষারোপ করে, কেউ আবার নিজের সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকেই ক্ষমা করতে পারে না। যে পরিবারে একসময় ভবিষ্যৎ নিয়ে হাসি-আনন্দের আলোচনা হতো, সেখানে একসময় ঋণ, টাকা এবং ব্যর্থতার হিসাব নিয়ে তর্ক শুরু হয়। একটি প্রতারণা কখনো কখনো একটি মানুষের জীবন থেকে কয়েক বছর কেড়ে নেয়, কিন্তু তার প্রভাব একটি পরিবারের সম্পর্কের ওপর পড়ে বহু বছর। তাই প্রতারণার ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়। এটি সামাজিক, পারিবারিক এবং মানসিকভাবেও গভীর ক্ষত তৈরি করে।

আমাদের সমাজে আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা দরকার, মানুষ কেন এত সহজে এসব স্বপ্নের ফাঁদে পা দেয়? এর উত্তরও আমাদের বাস্তবতার মধ্যেই রয়েছে। বেকারত্ব, সীমিত আয়, দ্রব্যমূল্যের চাপ, পরিবারের দায়িত্ব, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে ঝুঁকি নিতে বাধ্য করে। একজন শিক্ষিত তরুণ যখন দীর্ঘদিন চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন, তখন বিদেশে মাসে কয়েক লাখ টাকা আয়ের প্রস্তাব তার কাছে অবিশ্বাস্য হলেও আশা জাগানিয়া মনে হয়। একজন নিম্ন আয়ের মানুষ যখন দেখে তার পরিচিত কেউ বিদেশে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলে ফেলেছে, তখন সেও একই স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। আর সেই স্বপ্নের দুর্বল মুহূর্তটিকেই যদি কেউ প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে সেটি নিছক ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, এটি মানুষের অসহায়ত্বের ওপর নির্মম আঘাত।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন ভুল। বরং বৈধ ও নিরাপদ পথে বিদেশে কর্মসংস্থান আমাদের অর্থনীতি ও ব্যক্তিজীবন, উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী শ্রমিক ও পেশাজীবীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, পরিবারকে স্বাবলম্বী করছেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছেন। সমস্যা স্বপ্নে নয়, সমস্যা হলো সেই স্বপ্নকে ঘিরে প্রতারণা, অনিয়ম এবং অসাধু ব্যবসা। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। চাকরির প্রস্তাব, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, ভিসা, চুক্তিপত্র, বেতন, কর্মস্থল এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বৈধতা যাচাই করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি শুধু দামি গাড়ি ব্যবহার করেন, বড় বাড়িতে থাকেন কিংবা সামাজিকভাবে পরিচিত, এটুকু কখনোই তার বিশ্বাস যোগ্যতার প্রমাণ হতে পারে না। কারণ মানুষের চরিত্রের মূল্য গাড়ির দামে, পোশাকের ব্র্যান্ডে কিংবা সামাজিক পরিচিতিতে নির্ধারিত হয় না।

জীবনের এই পর্যায়ে এসে মনে হয়, মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ টাকা নয়, বিশ্বাস। টাকা হারালে মানুষ আবার উপার্জন করতে পারে, সম্পত্তি হারালে আবার গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু একবার বিশ্বাস হারিয়ে গেলে তা ফিরে পাওয়া অনেক কঠিন। একজন মানুষের স্বপ্নের সঙ্গে প্রতারণা করা মানে শুধু তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া নয়। তার বিশ্বাসকে হত্যা করা। সেই বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন এবং পুরো পরিবারের আশা। তাই মানুষের স্বপ্নকে পুঁজি করে যারা প্রতারণার পথ বেছে নেন, তাদের মনে রাখা উচিত, আপনি হয়তো একজন মানুষের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিচ্ছেন, কিন্তু সেই টাকার সঙ্গে হয়তো একটি পরিবারের বহু বছরের কষ্ট, ত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।

জীবন সত্যিই অদ্ভুত। কেউ সারাজীবন একটু ভালো থাকার জন্য সংগ্রাম করে, কেউ পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের সুখ বিসর্জন দেয়, কেউ সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকুও দিয়ে দেয়। অথচ সেই স্বপ্নের পথেই যদি প্রতারণার দেয়াল দাঁড়িয়ে যায়, তখন মানুষ শুধু অর্থ হারায় না, হারায় নিজের ওপর বিশ্বাস, মানুষের ওপর বিশ্বাস এবং কখনো কখনো জীবনের ওপরও বিশ্বাস। তাই আমাদের সমাজে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষের স্বপ্নকে বিক্রি করা হবে না। বরং স্বপ্ন পূরণের জন্য তৈরি হবে নিরাপদ, বৈধ ও স্বচ্ছ পথ। প্রতিটি মানুষ যেন তার কষ্টার্জিত অর্থের যথাযথ মূল্য পায়, প্রতিটি বিদেশগামী কর্মী যেন প্রতারণা মুক্ত ভাবে তার কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারে এবং কোনো মা যেন সন্তানের বিদেশ যাত্রার জন্য নিজের শেষ গয়নাটি বিক্রি করে পরে প্রতারণার কান্নায় ভেঙে না পড়েন।এই মানবিক প্রত্যাশাই হওয়া উচিত আমাদের সবার।

কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ কত টাকা উপার্জন করল, কত বড় বাড়ি করল কিংবা কত দামি গাড়িতে চলল, জীবনের শেষ হিসাব সেখানে নয়। জীবনের প্রকৃত সাফল্য হলো, নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে অন্যের স্বপ্নকে যেন পদদলিত না করা। মানুষের দুর্বলতাকে সুযোগ হিসেবে নয়, মানবিকতার দায়িত্ব হিসেবে দেখা। আর যারা মানুষের স্বপ্ন দেখিয়ে তার সর্বস্ব কেড়ে নেয়, তাদের জন্য হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন শাস্তি কোনো আদালতের রায় নয়! একদিন নিজের বিবেকের সামনে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করা যে, তার বিলাসী জীবনের প্রতিটি ইটের নিচে হয়তো কোনো অসহায় মানুষের কান্না চাপা পড়ে আছে।

মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে। সেই স্বপ্ন কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের প্রয়াত ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মালিতার পরিবারের জমিজমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত বুধবার ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তাঁর একমাত্র পুত্র ও মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ।

সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের পৌরসভা গেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন আনোয়ারুজ্জামান আজাদ। তাঁর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে তাঁর ইন্টারনেট ব্যবসা ও জমিজমার ওপর স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর নজর পড়ে। ওই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল মোল্ল্যা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আমি আমার পরিবারের একমাত্র সন্তান। উত্তরাধিকারসূত্রে বেশ কিছু মূল্যবান সম্পত্তি পেয়েছি। আমার অভিযোগ, কাজলসহ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নজর এসব সম্পত্তির ওপর পড়েছে। তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে আমার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আমি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

অভিযোগের বিষয়ে কাজল মোল্ল্যার বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাউদজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার  উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে  ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ প্রতিনিধ:

**সম্পুর্ন অরাজনৈতিক দ্বীনি আধ্যাত্মিক সংগঠন মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মাহফিলে প্রবাসী রাজনীতিবিদ আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ**

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে মদিনার জামাত, মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে মালদ্বীপের রাজধানী মালের সি বিল্ডিং অডিটোরিয়ামে এ ওয়াজ,দোয়া মাহফিল ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার আয়োজিত এ মাহফিলে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার আহ্বায়ক মোঃ আল আমিন এর পরিচালনায় মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরে কুরআন এবং বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও দেশ টিভির ইসলামিক আলোচক আলহাজ হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মহসিন কবীর ইউছুফী,পীর সাহেব মদিনার জামাত কদমতলী শাহী দরবার শরীফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ খলিলুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সভাপতি, মালদ্বীপ বিএনপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপ বি এন পির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম, মালদ্বীপ বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ নেহের মিয়া রানা, সহ-সভাপতি, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, সহ-সভাপতি; মোঃ মুক্তার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরীফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান কালাম
সহ সাংগঠনিক আবুল কালাম আজাদ, ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক মিয়া বি- বাড়িয়া সংগঠন, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মোঃ আলমগীর সিকদার।
মালদ্বীপস্থ ঢাকা ট্রেডার্সসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত মাহফিলে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনের সমন্বয়ে মাহফিলে আরো
উপস্থিত ছিলেন মোঃ আরিফুর ইসলাম, সভাপতি পদপ্রার্থী মালদ্বীপ যুবদল, মোঃ মাসুদ মুন্না আহ্বায়ক, স্বেচ্ছাসেবক দল মালদ্বীপ শাখা এবং মোঃ আবু আহমেদ সেলিম মিয়া, প্রবাসী ব্যবসায়ী, মালদ্বীপ।

আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ নুরুন্নবী মানিক,ব্যবসায়ী মো হারুন মিয়া মোঃ মাহফুজুর রহমান মোঃ রমো মিয়া, মোঃ জানে আলম সুন্নী ও মোঃ হাফিজুর রহমান ।
মাহফিলে কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা পেশ করেন হযরত মাওলানা মোঃ মাসুম বিল্লাহ, হযরত মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ ইসরাফিল হোসেন, হযরত মাওলানা মোঃ আঃ হান্নান, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ রিফাতুল ইসলাম এবং মোঃ ইসমাইল হোসেন, খাদেম, মদিনার জামাত মালদ্বীপ ও মোঃ নুরুল আমিন সুন্নি ।

মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা প্রবাসী জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে মালদ্বীপে বসবাসরত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সবশেষে সকল কবর বাসী, দেশ জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নানের ভাই আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে পূর্বশত্রুতার জেরে অপহরণ, সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী নিজ ব্যবসায়িক কাজে অবস্থানকালে পূর্বশত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা তৎপর হয়ে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তাদের সহযোগিতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকেই তাকে এবং তার ভাই সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান কে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী, ১ নং বিবাদী দেলোয়ার হোসেন টুকু, ২ নং বিবাদী মোঃ সবুজ, ইতিমধ্যে ঘটনার জেরে বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা ৩নং বিবাদী মোঃ আমিনুল হক গং দের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও পেশাগত ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুধু ভুক্তভোগী ও তার ভাইকে হুমকি দেওয়ার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর দায়ের করা মামলার সাক্ষীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি, চাপ সৃষ্টি এবং ভিন্ন পন্থায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার সাক্ষীরা যাতে নিরপেক্ষ ভাবে তাদের বক্তব্য দিতে না পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত হয়, সে উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ কারীদের দাবি। তারা বলেন, কোনো মামলার বাদী, তার পরিবার কিংবা সাক্ষীদের ওপর চাপ বা হুমকি সৃষ্টি করা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ। এক প্রতিবাদ বার্তায় তারা বলেন, একজন সাংবাদিক নেতার ভাইকে অপহরণ, তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক অর্থ নিয়ে যাওয়া এবং মুক্তিপণ দাবি করার মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। এর পর মামলা দায়ের করায় বাদী ও তার ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো এবং মামলার সাক্ষীদের হয়রানি করার অভিযোগ আরও বেশি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এসএসপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনাটিকে কোনো ভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যার হুমকি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার কিংবা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ, প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, সাংবাদিক আব্দুল মান্নান এবং মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সাংবাদিক সমাজকে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রাব) সভাপতি মো. কাদের মনসুরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, একজন নাগরিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা, মামলা দায়েরের পর বাদী ও তার স্বজনদের হুমকি দেওয়া এবং সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, এসব অভিযোগ কোনো ভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রভাব যেন আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন ন্যায়বিচার পাবে, তেমনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিও মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী কিংবা অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ঝিনাইদহে ব্যবসায়ীকে চাঁদা ও জমি দখলের হুমকির অভিযোগ ফেনীতে কৃষকদল নেতা আমিনুল হক বহিষ্কার