খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

মানুষের বিবেক কি ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে যাচ্ছে? সহিংসতা, নৈতিক অবক্ষয় ও প্রতিরোধের পথ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
মানুষের বিবেক কি ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে যাচ্ছে?  সহিংসতা, নৈতিক অবক্ষয় ও প্রতিরোধের পথ

মো. গোলাম ফারুক মজনু
লেখক ও গবেষক,
সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক বিপ্লবী জনতা।
সভাপতি, সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)।

কিছু কিছু অপরাধের ভয়াবহতা এতটাই গভীর যে সেগুলো শুধু একটি পরিবারের শোকের বিষয় হয়ে থাকার কথা নয়। একটি রাষ্ট্র, একটি সমাজ এবং মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্যই যথেষ্ট। মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং তাঁর এক বছর বয়সী শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ তেমনই একটি ঘটনা। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট ওই নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর শিশুসন্তানের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পাঁচ দিন পর, ২৪ আগস্ট, আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এখনো তদন্ত ও বিচারাধীন। তাই অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নয়, অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত। কিন্তু তদন্তের চূড়ান্ত ফল যা-ই হোক, এমন অভিযোগের ভয়াবহতা আমাদের সামনে একটি গভীর সামাজিক প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, আমরা কোন ধরনের সমাজে বসবাস করছি, যেখানে মানুষের প্রতি মানুষের নিষ্ঠুরতা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে?

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এমন একটি ঘটনা আমাদের সমাজে যতটা আলোড়ন সৃষ্টি করার কথা ছিল, অনেক সময় ততটা দীর্ঘস্থায়ী আলোড়ন সৃষ্টি করে না। এর একটি কারণ হতে পারে- আমরা প্রতিদিন এত হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, শিশু নিপীড়ন ও নৃশংসতার খবর দেখছি যে ভয়াবহ ঘটনাও ধীরে ধীরে আমাদের কাছে পরিচিত সংবাদে পরিণত হচ্ছে। সকালে একটি নির্মম হত্যার খবর, দুপুরে যৌন সহিংসতার খবর, রাতে আরেকটি শিশুর ওপর নির্যাতনের খবর, এভাবে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবিরাম স্রোতে মানুষের অনুভূতি যেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ আমরা ক্ষুব্ধ হই, প্রতিবাদ করি, শাস্তি দাবি করি। তারপর নতুন কোনো ঘটনা পুরোনোটিকে সরিয়ে দেয়। এখানেই বিপদ সবচেয়ে বেশি। কারণ কোনো সমাজের জন্য শুধু অপরাধ বেড়ে যাওয়া বিপজ্জনক নয়, অপরাধের ভয়াবহতার প্রতিও মানুষের সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলা আরও ভয়ংকর।

মানুষ এমন নিষ্ঠুর আচরণে কীভাবে পৌঁছে যায়, এর কোনো একক উত্তর নেই। অপরাধী মানসিকতা সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না। ব্যক্তির চরিত্র, পারিবারিক পরিবেশ, শৈশবের অভিজ্ঞতা, সামাজিক মূল্যবোধ, মাদক, অপরাধী গোষ্ঠীর প্রভাব, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, রাগ ও হতাশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা, আইন সম্পর্কে ধারণা এবং বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা, সবকিছু মিলেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। কোথাও আবার মানসিক সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে। তাই একটি ভয়াবহ অপরাধ ঘটলেই শুধু একটি কারণ ধরে সেটিকে পুরো ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। বরং আমাদের দেখতে হবে, একজন মানুষ অপরাধের দিকে যাওয়ার আগে তার চারপাশে কতগুলো সতর্কসংকেত তৈরি হয়েছিল এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সেগুলো শনাক্ত করতে পেরেছিল কি না।

এই জায়গায় নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার ঘাটতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সন্তানদের আমরা পরীক্ষায় ভালো ফল করতে শেখাই, ভালো পেশা বেছে নিতে শেখাই, অর্থনৈতিকভাবে সফল হতে শেখাই। কিন্তু একজন ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা সবসময় সমান গুরুত্ব পায় না। একজন মানুষের প্রকৃত চরিত্র বোঝা যায় সে দুর্বল মানুষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে, ক্ষমতা হাতে পেলে কী করে, প্রত্যাখ্যানের পর তার আচরণ কেমন হয় এবং নিজের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, এসবের মাধ্যমে। একটি ছেলে যদি ছোটবেলা থেকেই দেখে যে পুরুষের রাগকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, মেয়েদের নিয়ে অশালীন মন্তব্যকে হাসির বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা হয় কিংবা জোর করে কিছু আদায় করাকে পৌরুষ মনে করা হয়, তাহলে তার মানসিক গঠনে ভুল ধারণা জমতে পারে। তাই নৈতিক শিক্ষা কোনো পরীক্ষার অধ্যায় নয়; এটি পরিবারে প্রতিদিনের আচরণ, বিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং সমাজের সামগ্রিক সংস্কৃতির অংশ হওয়া দরকার।

মাদকের বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। মাদক অপরাধের একমাত্র কারণ নয়, এবং মাদক গ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি সহিংস অপরাধী হয়ে যায়, এমন ধারণাও ভুল। কিন্তু মাদকাসক্তি যখন অপরাধী পরিবেশ, সহিংস জীবনযাপন, অপরাধী চক্র ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে মাদকবিরোধী নীতি শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মাদকের সরবরাহকারী ও অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সুস্থ সামাজিক সম্পৃক্ততার সুযোগও বাড়াতে হবে, যাতে অপরাধী পরিবেশ তাদের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়।

আরেকটি গভীর সামাজিক সমস্যা হলো নারীর প্রতি অধিকারবোধ ও বস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতা। একজন নারী কোনো পুরুষের প্রস্তাব গ্রহণ করলেন কি না, বিয়ে করলেন কি না, বিয়ে প্রত্যাখ্যান করলেন কি না, কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখলেন কি না, এসব কোনো অবস্থাতেই একজন পুরুষকে তার ওপর জোর প্রয়োগের অধিকার দেয় না। বিশেষ করে ‘প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে না করা’ বা ‘বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা’কে নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন বা শারীরিক অপরাধের কারণ হিসেবে দেখানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। কোনো নারী বিয়ে করবেন কি না, কখন করবেন, কাকে করবেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। একইভাবে কোনো পুরুষ প্রত্যাখ্যাত হলে তার দায়িত্ব সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা। প্রত্যাখ্যান অপমান নয়, এবং ভালোবাসা কখনো জোর করে অর্জন করার বিষয় নয়।

এখানে পুরুষের যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সমাজের প্রচলিত কিছু ভুল ধারণাকেও প্রশ্ন করতে হবে। আকাঙ্ক্ষা থাকা মানুষের স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বও মানুষেরই। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তার ইচ্ছা, রাগ, হতাশা কিংবা প্রত্যাখ্যান, সবকিছু সামলে কীভাবে আচরণ করবেন, সেটিই তার চরিত্রের পরীক্ষা। কোনো নারী ‘না’ বললে সেই ‘না’ মেনে নেওয়া, সম্পর্ক ভেঙে গেলে প্রতিশোধ না নেওয়া, কাউকে হুমকি না দেওয়া এবং কারও ব্যক্তিগত সীমারেখা অতিক্রম না করা, এসবই সভ্য আচরণের মৌলিক শর্ত। ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই বোঝাতে হবে যে কাউকে পছন্দ করার অধিকার আছে, কিন্তু কাউকে পাওয়ার অধিকার নেই।

অপরাধ দমনে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধী যদি মনে করে তার অর্থ, ক্ষমতা, পরিচিতি বা সামাজিক প্রভাব তাকে রক্ষা করতে পারে, তাহলে আইনের ভয় দুর্বল হয়ে যায়। তাই শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; সেই আইন বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ও পেশাদার তদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ, সাক্ষীর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বিচার বলতে তাড়াহুড়ো করে কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা বোঝায় যেখানে তদন্ত ও বিচার অযথা বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে না। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই থাকবেন এবং নির্দোষ ব্যক্তির ন্যায়বিচারের অধিকারও রক্ষা করতে হবে।

অপরাধ প্রতিরোধে পরিবারকেও নতুন করে নিজের দায়িত্ব বুঝতে হবে। সন্তান কোথায় যায়, কী পড়ে বা কত নম্বর পায়, এসব জানার পাশাপাশি তার মানসিক পরিবর্তন, বন্ধুত্ব, আচরণ, রাগ, হতাশা এবং অনলাইন কর্মকাণ্ডের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। একটি সন্তান যদি ক্রমাগত নারীবিদ্বেষী ভাষা ব্যবহার করে, সহিংসতাকে উপভোগ করে, অন্যকে ভয় দেখিয়ে আনন্দ পায় কিংবা প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে না পারে, তাহলে সেটিকে ‘ছেলেদের স্বভাব’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে সন্তানের সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, যাতে সে সমস্যায় পড়লে ভয় না পেয়ে পরিবারের কাছে কথা বলতে পারে। সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে তাকে বোঝা অনেক বেশি কার্যকর।

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। ইন্টারনেটে সহিংসতা, নারীবিদ্বেষ ও যৌনতার বিকৃত উপস্থাপন পাওয়া যায়। একজন তরুণ যদি বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, সম্মতি, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা না পায়, তাহলে এসব কনটেন্ট থেকে সম্পর্ক সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে কোনো একটি ভিডিও, ওয়েবসাইট বা কনটেন্টকে সরাসরি অপরাধের একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। অপরাধ সাধারণত বহু কারণের সম্মিলিত ফল। তাই প্রয়োজন বয়সোপযোগী শিক্ষা, ডিজিটাল সচেতনতা, অভিভাবকের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং তরুণদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ।

তবে এসব কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে একটি মৌলিক সত্য যেন কখনো আড়াল না হয়, ভুক্তভোগী অপরাধের জন্য দায়ী নন। একজন নারী বিয়ে করেননি, কারও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, কোথায় গিয়েছিলেন, কী পোশাক পরেছিলেন, কার সঙ্গে কথা বলেছেন, এসব কোনো কিছুই তার বিরুদ্ধে সহিংসতার নৈতিক বা আইনি যুক্তি হতে পারে না। একইভাবে কোনো শিশুকে ঘিরে তার পরিবারের সিদ্ধান্তকে সামনে এনে শিশুটির ওপর সংঘটিত অপরাধের দায় পরিবারের ওপর চাপানোও অন্যায়। অপরাধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ব্যক্তি, অপরাধের দায়ও তারই। ভুক্তভোগীকে দোষী করার সংস্কৃতি শুধু অন্যায় নয়; এটি ভবিষ্যতের ভুক্তভোগীদের সাহায্য চাইতেও নিরুৎসাহিত করতে পারে।

প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা হতে পারে শৈশবের শিক্ষা। ছেলেমেয়েদের বয়স অনুযায়ী শেখাতে হবে ব্যক্তিগত সীমারেখা, সম্মতি, সম্মান, নিরাপদ আচরণ এবং অন্যের স্বাধীনতার মূল্য। একটি ছেলে যেন বুঝতে শেখে যে বন্ধুত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা স্বাভাবিক, সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়া জীবনের অংশ, রাগের কারণে কাউকে আঘাত করার অধিকার নেই এবং কারও ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা অপরাধ। একই সঙ্গে মেয়েদের নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তবে নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু মেয়েদের কাঁধে চাপিয়ে দিলে চলবে না। সমাজের পুরুষদেরও নিজেদের আচরণ, ভাষা ও সংস্কৃতির দিকে তাকাতে হবে।

নারী ও শিশুর নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পর্যায়েও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। নির্জন এলাকা, ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা, নদীর ঘাট কিংবা যেসব স্থানে অপরাধের ঝুঁকি বেশি, সেসব জায়গায় নজরদারি ও দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোনো নারী বা শিশু বিপদের কথা জানালে তাকে সন্দেহের চোখে না দেখে দ্রুত নিরাপত্তা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় এবং মানসিক সহায়তার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ অপরাধের পর শুধু মামলা করলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না; ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও পুনরুদ্ধারের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ।

এর পাশাপাশি পুরুষদের নিজেদের মধ্যেও পরিবর্তনের সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। বন্ধুরা যখন নারীর প্রতি অশালীন মন্তব্য করে, প্রত্যাখ্যাত নারীকে নিয়ে প্রতিশোধের কথা বলে কিংবা সহিংস আচরণকে সাহসিকতা হিসেবে উপস্থাপন করে, তখন অন্য পুরুষদের নীরব দর্শক হয়ে থাকা উচিত নয়। একজন বন্ধু আরেকজন বন্ধুকে অপরাধের দিকে যেতে বাধা দিতে পারে। একটি পরিবার মাদকাসক্ত সদস্যকে চিকিৎসার আওতায় আনতে পারে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগ্রাসী আচরণকে ‘স্বাভাবিক ছেলেমানুষি’ বলে এড়িয়ে না গিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে। সমাজে অপরাধ ঘটার পর শুধু অপরাধীকে খোঁজা নয়, অপরাধের দিকে নিয়ে যাওয়া পথগুলোও বন্ধ করতে হবে।

সবশেষে যে বিষয়টি আমাদের সবচেয়ে বেশি ভাবতে হবে, তা হলো নৃশংসতার স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া। যখন প্রতিদিন নতুন একটি ভয়াবহ ঘটনা আমাদের সামনে আসে, তখন আগের ঘটনাটি দ্রুত মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যায়। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের জন্য একটি খবর পুরোনো হয়ে গেলেও ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে সেই ঘটনা কখনো পুরোনো হয় না। একটি শিশুর মৃত্যু একটি পরিবারের সারাজীবনের শোক; একজন নারীর হত্যাকাণ্ড একটি পরিবারের জীবনে স্থায়ী ক্ষত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে থেমে গেলে চলবে না। সেই ক্ষোভকে আইনের দাবি, সামাজিক দায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের শক্তিতে পরিণত করতে হবে।

একটি দেশের সভ্যতার মাপকাঠি শুধু অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বড় শহর কিংবা অবকাঠামো নয়। প্রকৃত সভ্যতার পরীক্ষা হয় তখন, যখন সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষটির নিরাপত্তার প্রশ্ন আসে। একটি শিশু নিরাপদ কি না, একজন নারী নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন কি না, নির্যাতনের শিকার মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না এবং ক্ষমতাবান অপরাধীও আইনের কাছে জবাবদিহি করছে কি না, এসবই একটি সমাজের মানবিকতার প্রকৃত মানদণ্ড।

তাই আমাদের লক্ষ্য শুধু অপরাধীর শাস্তি হওয়া নয়। এমন একটি সামাজিক পরিবেশ তৈরি করাও, যেখানে অপরাধী মানসিকতা গড়ে ওঠার আগেই তা প্রতিরোধ করা যায়। পরিবারে মূল্যবোধ, শিক্ষায় মানবিকতা, সমাজে দায়িত্ববোধ, মাদকবিরোধী কার্যকর ব্যবস্থা, ডিজিটাল সচেতনতা, নারীর প্রতি সম্মান এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, সবগুলোকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। কোনো নারী বিয়ে করেছেন কি না, কারও প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন কি না কিংবা নিজের জীবন কীভাবে পরিচালনা করছেন, এসব কখনোই তার বিরুদ্ধে অপরাধের দায় তৈরি করে না। অপরাধের দায় অপরাধীরই।

আমরা হয়তো একদিনে সব অপরাধ বন্ধ করতে পারব না। কিন্তু আমরা এমন একটি সমাজের দিকে এগোতে পারি যেখানে বিপদে পড়া মানুষকে দেখে কেউ মুখ ফিরিয়ে নেবে না, কোনো অপরাধী নিজের ক্ষমতাকে আইনের চেয়ে বড় মনে করবে না এবং কোনো ভুক্তভোগী নিজের ওপর ঘটে যাওয়া অপরাধের জন্য নিজেকেই দায়ী মনে করবেন না।

একটি শিশুর নদীতে ভেসে ওঠা নিথর দেহ যেন কেবল এক দিনের সংবাদ হয়ে না থাকে। সেটি যেন আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্ন হয়ে থাকে, আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কেমন সমাজ রেখে যেতে চাই?

যে সমাজে মানুষ শুধু বেঁচে থাকবে, নাকি যে সমাজে মানুষ নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং মানবিক পরিবেশে বেঁচে থাকার অধিকারও পাবে, সিদ্ধান্তটি আমাদেরই।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের প্রয়াত ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মালিতার পরিবারের জমিজমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত বুধবার ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তাঁর একমাত্র পুত্র ও মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ।

সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের পৌরসভা গেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন আনোয়ারুজ্জামান আজাদ। তাঁর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে তাঁর ইন্টারনেট ব্যবসা ও জমিজমার ওপর স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর নজর পড়ে। ওই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল মোল্ল্যা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আমি আমার পরিবারের একমাত্র সন্তান। উত্তরাধিকারসূত্রে বেশ কিছু মূল্যবান সম্পত্তি পেয়েছি। আমার অভিযোগ, কাজলসহ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নজর এসব সম্পত্তির ওপর পড়েছে। তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে আমার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আমি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

অভিযোগের বিষয়ে কাজল মোল্ল্যার বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাউদজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার  উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে  ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ প্রতিনিধ:

**সম্পুর্ন অরাজনৈতিক দ্বীনি আধ্যাত্মিক সংগঠন মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মাহফিলে প্রবাসী রাজনীতিবিদ আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ**

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে মদিনার জামাত, মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে মালদ্বীপের রাজধানী মালের সি বিল্ডিং অডিটোরিয়ামে এ ওয়াজ,দোয়া মাহফিল ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার আয়োজিত এ মাহফিলে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার আহ্বায়ক মোঃ আল আমিন এর পরিচালনায় মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরে কুরআন এবং বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও দেশ টিভির ইসলামিক আলোচক আলহাজ হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মহসিন কবীর ইউছুফী,পীর সাহেব মদিনার জামাত কদমতলী শাহী দরবার শরীফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ খলিলুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সভাপতি, মালদ্বীপ বিএনপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপ বি এন পির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম, মালদ্বীপ বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ নেহের মিয়া রানা, সহ-সভাপতি, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, সহ-সভাপতি; মোঃ মুক্তার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরীফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান কালাম
সহ সাংগঠনিক আবুল কালাম আজাদ, ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক মিয়া বি- বাড়িয়া সংগঠন, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মোঃ আলমগীর সিকদার।
মালদ্বীপস্থ ঢাকা ট্রেডার্সসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত মাহফিলে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনের সমন্বয়ে মাহফিলে আরো
উপস্থিত ছিলেন মোঃ আরিফুর ইসলাম, সভাপতি পদপ্রার্থী মালদ্বীপ যুবদল, মোঃ মাসুদ মুন্না আহ্বায়ক, স্বেচ্ছাসেবক দল মালদ্বীপ শাখা এবং মোঃ আবু আহমেদ সেলিম মিয়া, প্রবাসী ব্যবসায়ী, মালদ্বীপ।

আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ নুরুন্নবী মানিক,ব্যবসায়ী মো হারুন মিয়া মোঃ মাহফুজুর রহমান মোঃ রমো মিয়া, মোঃ জানে আলম সুন্নী ও মোঃ হাফিজুর রহমান ।
মাহফিলে কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা পেশ করেন হযরত মাওলানা মোঃ মাসুম বিল্লাহ, হযরত মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ ইসরাফিল হোসেন, হযরত মাওলানা মোঃ আঃ হান্নান, হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ রিফাতুল ইসলাম এবং মোঃ ইসমাইল হোসেন, খাদেম, মদিনার জামাত মালদ্বীপ ও মোঃ নুরুল আমিন সুন্নি ।

মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা প্রবাসী জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে মালদ্বীপে বসবাসরত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সবশেষে সকল কবর বাসী, দেশ জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নানের ভাই আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে পূর্বশত্রুতার জেরে অপহরণ, সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী নিজ ব্যবসায়িক কাজে অবস্থানকালে পূর্বশত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা তৎপর হয়ে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তাদের সহযোগিতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকেই তাকে এবং তার ভাই সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান কে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী, ১ নং বিবাদী দেলোয়ার হোসেন টুকু, ২ নং বিবাদী মোঃ সবুজ, ইতিমধ্যে ঘটনার জেরে বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা ৩নং বিবাদী মোঃ আমিনুল হক গং দের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও পেশাগত ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুধু ভুক্তভোগী ও তার ভাইকে হুমকি দেওয়ার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর দায়ের করা মামলার সাক্ষীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি, চাপ সৃষ্টি এবং ভিন্ন পন্থায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার সাক্ষীরা যাতে নিরপেক্ষ ভাবে তাদের বক্তব্য দিতে না পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত হয়, সে উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ কারীদের দাবি। তারা বলেন, কোনো মামলার বাদী, তার পরিবার কিংবা সাক্ষীদের ওপর চাপ বা হুমকি সৃষ্টি করা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ। এক প্রতিবাদ বার্তায় তারা বলেন, একজন সাংবাদিক নেতার ভাইকে অপহরণ, তার সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক অর্থ নিয়ে যাওয়া এবং মুক্তিপণ দাবি করার মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। এর পর মামলা দায়ের করায় বাদী ও তার ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো এবং মামলার সাক্ষীদের হয়রানি করার অভিযোগ আরও বেশি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এসএসপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনাটিকে কোনো ভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যার হুমকি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার কিংবা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ, প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, সাংবাদিক আব্দুল মান্নান এবং মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সাংবাদিক সমাজকে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রাব) সভাপতি মো. কাদের মনসুরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, একজন নাগরিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা, মামলা দায়েরের পর বাদী ও তার স্বজনদের হুমকি দেওয়া এবং সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, এসব অভিযোগ কোনো ভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রভাব যেন আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন ন্যায়বিচার পাবে, তেমনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিও মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে যুবদল ফেনী সদর উপজেলার আহ্বায়ক নিজাম পাটোয়ারী কিংবা অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ মদিনার জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ঝিনাইদহে ব্যবসায়ীকে চাঁদা ও জমি দখলের হুমকির অভিযোগ ফেনীতে কৃষকদল নেতা আমিনুল হক বহিষ্কার