খুঁজুন
, ,

স্বপ্নের দালাল, সর্বস্বান্ত মানুষ ও জীবনের নির্মম বাস্তবতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
স্বপ্নের দালাল, সর্বস্বান্ত মানুষ ও জীবনের নির্মম বাস্তবতা

মো. গোলাম ফারুক মজনু
সভাপতি, সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)
সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক বিপ্লবী জনতা।

জীবনের মানে বুঝতে বুঝতে কখন যে জীবনের অর্ধেকটা পথ পেরিয়ে গেছে, কখনো কখনো তা নিজেকেই বিস্মিত করে। শৈশবে জীবন ছিল স্বপ্নের মতো, বড় হয়ে অনেক কিছু করব, পরিবারকে ভালো রাখব, নিজের একটা পরিচয় তৈরি করব, প্রিয় মানুষ গুলোর মুখে হাসি ফুটাব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্নগুলো বদলেছে, বাস্তবতার রং বদলেছে, মানুষের চেহারা চিনতে শিখেছি, সম্পর্কের হিসাব বুঝতে শিখেছি। তবুও আজও নিজেকে প্রশ্ন করি, জীবন আসলে কী? শুধু জন্ম নেওয়া, বড় হওয়া, অর্থ উপার্জন করা এবং একদিন চলে যাওয়াই কি জীবন? নাকি জীবন হলো প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে একটু ভালো থাকার চেষ্টা, প্রিয় মানুষগুলোর জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা এবং আগামী দিনের জন্য একটি নিরাপদ স্বপ্ন বুকে ধারণ করে পথ চলা? হয়তো জীবনের সংজ্ঞা খুঁজতে খুঁজতেই মানুষ একদিন জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যায়। আর তখন বুঝতে পারে, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্য হলো, মানুষ স্বপ্ন দেখে বাঁচার জন্য, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই কখনো কখনো তাকে সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়।

আজকের পৃথিবীতে একটি উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষা মানুষের খুব স্বাভাবিক স্বপ্ন। বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষিত বেকার কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান প্রতিদিন স্বপ্ন দেখেন বিদেশে যাওয়ার। কেউ ইউরোপে যেতে চান, কেউ আমেরিকায়, কেউ কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে গিয়ে ভালো একটি চাকরি করতে চান। উদ্দেশ্য একটাই, নিজের জীবন বদলানো, পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করা, সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করা এবং বাবা-মায়ের মুখে একটু স্বস্তির হাসি ফোটানো। একজন মানুষ যখন বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি শুধু একটি বিমানের টিকিট কেনেন না, তিনি আসলে নিজের জীবনের নতুন একটি অধ্যায়ের স্বপ্ন কেনেন। তার চোখে থাকে ভবিষ্যতের ছবি, একটি ভালো চাকরি, নিয়মিত বেতন, পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি, সন্তানের উন্নত শিক্ষা এবং প্রিয়জনদের একটু ভালো রাখার আকাঙ্ক্ষা। এই স্বপ্নের মূল্য তার কাছে লাখ লাখ টাকা হলেও বাস্তবে সেই টাকার মূল্য তার পরিবারের কাছে আরও অনেক বেশি। কারণ সেই অর্থের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে বছরের পর বছর জমিয়ে রাখা সঞ্চয়, কৃষকের গরু-ছাগল বিক্রির টাকা, পৈতৃক সম্পত্তির অংশ বিক্রির অর্থ, মায়ের সঞ্চয়, স্ত্রীর গয়না কিংবা বোনের বহুদিনের জমানো স্বর্ণ। অর্থাৎ একটি পরিবারের বহু বছরের ত্যাগ, কষ্ট এবং ভালোবাসা একত্রিত হয়ে তৈরি হয় একটি মানুষের বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন।

কিন্তু এই স্বপ্নের বাজারেই তৈরি হয়েছে এক নির্মম বাস্তবতা। মানুষের উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগ, যেখানে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, অতিরঞ্জিত বেতনের প্রলোভন, ভুয়া চাকরির নিশ্চয়তা কিংবা বিদেশে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় বিপুল অর্থ। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই প্রতারণা সবসময় অচেনা বা সন্দেহজনক চেহারার মানুষের মাধ্যমে আসে না। অনেক সময় সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত, দামি গাড়ি ব্যবহারকারী, বিলাসবহুল জীবন যাপনকারী, চমৎকার পোশাক পরিহিত এবং প্রভাবশালী পরিচয় বহনকারী ব্যক্তিরাও মানুষের কাছে নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যেন তারাই বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। সাধারণ মানুষ তখন বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে বিশ্বাস করে, কথার ওপর ভরসা করে এবং নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলে। অথচ সেই বিশ্বাসের আড়ালে যদি প্রতারণা লুকিয়ে থাকে, তাহলে একটি পরিবারের জন্য তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারে না।

কারও কাছে যে পাঁচ লাখ টাকা শুধু একটি অঙ্ক, সেই পাঁচ লাখ টাকা হয়তো একজন কৃষকের জীবনের সমস্ত সঞ্চয়। কারও কাছে দশ লাখ টাকা হয়তো ব্যবসার মূলধন, কারও কাছে তা পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির শেষ সম্বল, আবার কারও কাছে স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে সংগ্রহ করা অর্থ। একজন বাবা হয়তো সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জমি বিক্রি করেছেন। একজন মা হয়তো সন্তানের বিদেশ যাওয়ার জন্য নিজের গয়না খুলে দিয়েছেন। একজন স্ত্রী হয়তো স্বামীর স্বপ্ন পূরণ হবে এই আশায় নিজের শেষ সম্বলটুকুও তুলে দিয়েছেন। সেই অর্থ যখন প্রতারণার মাধ্যমে হারিয়ে যায়, তখন শুধু একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পকেট খালি হয় না, খালি হয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্নের ঘর। তখন প্রতিদিনের সংসার হয়ে ওঠে হিসাবের খাতা, প্রতিটি কথায় উঠে আসে পাওনা টাকার প্রসঙ্গ, ঋণের চাপ, আত্মীয়ের প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। যে মানুষটি একদিন পরিবারের কাছে আশার প্রতীক ছিলেন, তিনিই একসময় নিজের পরিবারের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। আর এই অসহায়ত্বের যন্ত্রণা কোনো অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।

অর্থনৈতিক প্রতারণার সবচেয়ে বড় ক্ষত অনেক সময় অর্থনীতিতে নয়, মানুষের সম্পর্কের ভেতরে তৈরি হয়। একটি পরিবারের সদস্যরা যখন নিজেদের শেষ সম্বল দিয়ে কোনো স্বপ্নের পেছনে বিনিয়োগ করেন এবং সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়, তখন পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসে ফাটল ধরে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় সন্দেহ ও অভিমান, ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের দূরত্ব তৈরি হয়, আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হয়, কেউ কাউকে দোষারোপ করে, কেউ আবার নিজের সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকেই ক্ষমা করতে পারে না। যে পরিবারে একসময় ভবিষ্যৎ নিয়ে হাসি-আনন্দের আলোচনা হতো, সেখানে একসময় ঋণ, টাকা এবং ব্যর্থতার হিসাব নিয়ে তর্ক শুরু হয়। একটি প্রতারণা কখনো কখনো একটি মানুষের জীবন থেকে কয়েক বছর কেড়ে নেয়, কিন্তু তার প্রভাব একটি পরিবারের সম্পর্কের ওপর পড়ে বহু বছর। তাই প্রতারণার ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়। এটি সামাজিক, পারিবারিক এবং মানসিকভাবেও গভীর ক্ষত তৈরি করে।

আমাদের সমাজে আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা দরকার, মানুষ কেন এত সহজে এসব স্বপ্নের ফাঁদে পা দেয়? এর উত্তরও আমাদের বাস্তবতার মধ্যেই রয়েছে। বেকারত্ব, সীমিত আয়, দ্রব্যমূল্যের চাপ, পরিবারের দায়িত্ব, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে ঝুঁকি নিতে বাধ্য করে। একজন শিক্ষিত তরুণ যখন দীর্ঘদিন চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন, তখন বিদেশে মাসে কয়েক লাখ টাকা আয়ের প্রস্তাব তার কাছে অবিশ্বাস্য হলেও আশা জাগানিয়া মনে হয়। একজন নিম্ন আয়ের মানুষ যখন দেখে তার পরিচিত কেউ বিদেশে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলে ফেলেছে, তখন সেও একই স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। আর সেই স্বপ্নের দুর্বল মুহূর্তটিকেই যদি কেউ প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে সেটি নিছক ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, এটি মানুষের অসহায়ত্বের ওপর নির্মম আঘাত।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন ভুল। বরং বৈধ ও নিরাপদ পথে বিদেশে কর্মসংস্থান আমাদের অর্থনীতি ও ব্যক্তিজীবন, উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী শ্রমিক ও পেশাজীবীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, পরিবারকে স্বাবলম্বী করছেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছেন। সমস্যা স্বপ্নে নয়, সমস্যা হলো সেই স্বপ্নকে ঘিরে প্রতারণা, অনিয়ম এবং অসাধু ব্যবসা। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। চাকরির প্রস্তাব, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, ভিসা, চুক্তিপত্র, বেতন, কর্মস্থল এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বৈধতা যাচাই করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি শুধু দামি গাড়ি ব্যবহার করেন, বড় বাড়িতে থাকেন কিংবা সামাজিকভাবে পরিচিত, এটুকু কখনোই তার বিশ্বাস যোগ্যতার প্রমাণ হতে পারে না। কারণ মানুষের চরিত্রের মূল্য গাড়ির দামে, পোশাকের ব্র্যান্ডে কিংবা সামাজিক পরিচিতিতে নির্ধারিত হয় না।

জীবনের এই পর্যায়ে এসে মনে হয়, মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ টাকা নয়, বিশ্বাস। টাকা হারালে মানুষ আবার উপার্জন করতে পারে, সম্পত্তি হারালে আবার গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু একবার বিশ্বাস হারিয়ে গেলে তা ফিরে পাওয়া অনেক কঠিন। একজন মানুষের স্বপ্নের সঙ্গে প্রতারণা করা মানে শুধু তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া নয়। তার বিশ্বাসকে হত্যা করা। সেই বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন এবং পুরো পরিবারের আশা। তাই মানুষের স্বপ্নকে পুঁজি করে যারা প্রতারণার পথ বেছে নেন, তাদের মনে রাখা উচিত, আপনি হয়তো একজন মানুষের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিচ্ছেন, কিন্তু সেই টাকার সঙ্গে হয়তো একটি পরিবারের বহু বছরের কষ্ট, ত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।

জীবন সত্যিই অদ্ভুত। কেউ সারাজীবন একটু ভালো থাকার জন্য সংগ্রাম করে, কেউ পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের সুখ বিসর্জন দেয়, কেউ সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকুও দিয়ে দেয়। অথচ সেই স্বপ্নের পথেই যদি প্রতারণার দেয়াল দাঁড়িয়ে যায়, তখন মানুষ শুধু অর্থ হারায় না, হারায় নিজের ওপর বিশ্বাস, মানুষের ওপর বিশ্বাস এবং কখনো কখনো জীবনের ওপরও বিশ্বাস। তাই আমাদের সমাজে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষের স্বপ্নকে বিক্রি করা হবে না। বরং স্বপ্ন পূরণের জন্য তৈরি হবে নিরাপদ, বৈধ ও স্বচ্ছ পথ। প্রতিটি মানুষ যেন তার কষ্টার্জিত অর্থের যথাযথ মূল্য পায়, প্রতিটি বিদেশগামী কর্মী যেন প্রতারণা মুক্ত ভাবে তার কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারে এবং কোনো মা যেন সন্তানের বিদেশ যাত্রার জন্য নিজের শেষ গয়নাটি বিক্রি করে পরে প্রতারণার কান্নায় ভেঙে না পড়েন।এই মানবিক প্রত্যাশাই হওয়া উচিত আমাদের সবার।

কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ কত টাকা উপার্জন করল, কত বড় বাড়ি করল কিংবা কত দামি গাড়িতে চলল, জীবনের শেষ হিসাব সেখানে নয়। জীবনের প্রকৃত সাফল্য হলো, নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে অন্যের স্বপ্নকে যেন পদদলিত না করা। মানুষের দুর্বলতাকে সুযোগ হিসেবে নয়, মানবিকতার দায়িত্ব হিসেবে দেখা। আর যারা মানুষের স্বপ্ন দেখিয়ে তার সর্বস্ব কেড়ে নেয়, তাদের জন্য হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন শাস্তি কোনো আদালতের রায় নয়! একদিন নিজের বিবেকের সামনে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করা যে, তার বিলাসী জীবনের প্রতিটি ইটের নিচে হয়তো কোনো অসহায় মানুষের কান্না চাপা পড়ে আছে।

মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে। সেই স্বপ্ন কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।

উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি:

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু একটি হিন্দু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে। কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে জমি দখলের অপচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত এবং সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বরিশাল সদর রোডস্থ টাউন হলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস ও তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাস।

মানববন্ধনে সঞ্জয় চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, তাঁর দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাসের সূত্রে পাওয়া ২৯ শতাংশ জমি ও পুকুরটি ১৯৫৯ সাল থেকে তাঁদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি কলেজের নাম ব্যবহার করে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখিত মোহাম্মদ আজিজ খান ও মো. হাবিব খানের নেতৃত্বে গভর্নিং বডির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫), অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মিয়া (৬৫), সভাপতি মোহাম্মদ নয়ন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, তাঁদের জমি কলেজের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে। মাঝখানে সরকারি রাস্তা রয়েছে। এরপরও তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য হিসেবে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
সঞ্জয় জানান, গত ১৪ অক্টোবর প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করলে বাধা দেন তাঁরা। এ সময় তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাসসহ পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর একই ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল।

সম্পত্তি রক্ষায় ২০২০ সালে উজিরপুরের সিভিল সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানি মামলা (১৪/২০২০) দায়ের করা হয়। মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৬। এ ছাড়া হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ৪৮৯২/২০২৬, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে মিস কেস নম্বর ১৯৪৭/২০২৬ এবং উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় ০৭/২০২৬ নম্বরের মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। মিস কেসটির শুনানির তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২৬।

ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সঞ্জয় বলেন, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম ঘুষের বিনিময়ে তাঁদের জমি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে কলেজের সম্পত্তির সঙ্গে একত্র করেছেন। কোনো নোটিশ না দিয়েই জমি কর্তন করে ১৫৪২ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামানের গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে অনিয়মের বিষয় উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটি উজিরপুর মৌজায় অবস্থিত। এর জেএল নম্বর ৯২, এসএ খতিয়ান ৭৮৮ ও ৭৮৯, এসএ দাগ ১৩৪, বিএস খতিয়ান ১৩৫৫ এবং বিএস দাগ ১৯৬৩। এ ছাড়া আরএস খতিয়ান ২২১ ও ২২৩ এবং ডিপি খতিয়ান ১৩৫৫-এর সঙ্গে সম্পত্তিটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

মানববন্ধন থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ভূমি রেকর্ডের অনিয়ম তদন্ত এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার জানান, অভিযোগের সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক

বাপ্পি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড়সহ একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করেছে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি’র) সদস্যরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২৬) সকালে উপজেলার আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রানজিট ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ২০০১/এমপি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমতলী এলাকায় টহল দেওয়ার সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়।

এ সময় বিজিবির টহলদল গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করলে চালক রাস্তা পরিবর্তন করে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কাভার্ড ভ্যানটি ফেলে চালক পালিয়ে যায়। পরে কাভার্ড ভ্যানটিতে তল্লাশি করে ৯ হাজার ২৭৮ মিটার ভারতীয় উন্নতমানের শার্টের থান কাপড় উদ্ধার করা হয়।

আটক করা কাপড় ও কাভার্ড ভ্যানের আনুমানিক বাজার মূল্য ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা। উদ্ধার করা চোরাচালানি মালামাল ও কাভার্ড ভ্যান আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি’র অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না

বিশেষ প্রতিনিধি:

তাফরিদ কটন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ সামিউল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি, বেতন-ভাতা আত্মসাৎ এবং ব্যাংকঋণসংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশ করেছিল জি২৪ নিউজ।

সংবাদ প্রকাশের পরপরই জি২৪ নিউজের সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলামসহ সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির বাদী ছিলেন শেখ সামিউল ইসলামের স্ত্রী।

আদালতের নির্দেশে প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানা মামলাটি তদন্ত করে। তদন্তে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

পরবর্তীতে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়া হলে আদালত পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে।

সিআইডির কর্মকর্তা শামীম আল আহমেদের নেতৃত্বে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে কোনো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিআইডিও সাংবাদিকদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

এটি শুধু সাতজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার তদন্তের বিষয় নয়; এটি সত্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এদিকে, এ ঘটনায় জি২৪ নিউজের সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন Protect Journalists উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। সংগঠনটি তাদের উদ্বেগের কথা বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন
আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য, তথ্য ও জনস্বার্থ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করাই আমার পেশাগত দায়িত্ব।

আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মামলা, হুমকি কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যাবে না। জনস্বার্থে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমি কখনো আপস করব না।

সত্যের সন্ধানে—আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবে।

উজিরপুরব বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত টাকার ভারতীয় কাপড়সহ কাভার্ড ভ্যান আটক সত্য প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে পিছিয়ে আসব না—মামলা দিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না নতুন উপজেলা গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া।। মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ "মোবাইল কোর্ট অভিযানে" আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মাসুম নামে একজন চিহ্নিত দালালকে