মা যখন ১৩০, সেবায় ১০০ বছরের ‘খুকি’ মানিক জান: বড়াইগ্রামে মাতৃত্ব ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত”
মোঃআইয়ুব আলী:
বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন দুজনই। চোখের আলো ঝাপসা, শরীরে আর আগের মতো জোর নেই। অথচ এই বয়সে এসেও মাতৃত্ব ও সন্তানের স্নেহের যে বন্ধন দেখা যাচ্ছে নাটোরের বড়াইগ্রামে, তা এক অলৌকিক ও আবেগঘন আবহ তৈরি করেছে পুরো এলাকায়। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গড়মাটি গ্রামে জন্মদাত্রী ১৩০ বছরের বৃদ্ধা মায়ের সেবায় দিনরাত নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তাঁর ১০০ বছর বয়সী মেয়ে মানিক জান।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মা ও মেয়ে দুজনেই এখন চরম বার্ধক্যে উপনীত। কিন্তু নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও বয়সের ভার সত্ত্বেও ১০০ বছরের বৃদ্ধা মানিক জান এক মুহূর্তের জন্যও কাছছাড়া করছেন না তাঁর ১৩০ বছর বয়সী মাকে। মায়ের মুখ ধুইয়ে দেওয়া, খাবার খাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব পরিচর্যা একা হাতেই সামলানোর চেষ্টা করছেন তিনি।গ্রামবাসীর মুখে মুখে এখন মা-মেয়ের এই অনন্য ভালোবাসার গল্প। এলাকার তরুণ ও প্রবীণরা জানান, বর্তমান যুগে যেখানে সামান্য স্বার্থের টানে পারিবারিক সম্পর্কগুলো শিথিল হয়ে পড়ে, সেখানে ১০০ বছরের একজন বৃদ্ধা যেভাবে তাঁর ১৩০ বছরের মায়ের সেবায় নিজেকে সঁপে দিয়েছেন, তা মানবিকতা ও শ্রদ্ধাবোধের এক অবিশ্বাস্য নজির।মানিক জানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, মা তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আমানত। যতদিন শ্বাস থাকবে, মায়ের সেবা করে যাওয়াই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শতবর্ষী এই মা-মেয়ের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের সামাজিক দায়িত্ব।


আপনার মতামত লিখুন